ওয়েবডেস্ক- বিধানসভা ভোটের (Assembly Election 2026) আগে বিজেপির (BJP) মেগা ইভেন্ট। বাংলা জিততে হলে বাংলার মানুষের মন জিততে হবে, তাই মঞ্চ থেকে বক্তৃতা সব গোটা ইভেন্টেই থাকল বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। আগে বাংলার মনীষীদের নিয়ে একাধিকবার উচ্চারণে ভুল থেকে বেঠিক নাম উচ্চারণ করতে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সেনাপতি থেকে বিজেপি নেতাদের। কিন্তু এবারে সমস্ত হোমওয়ার্ক আগে করে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তাই মঞ্চে উঠেই বাংলায় সম্ভাষণ করেই বক্তৃতা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। শাসক দলের দুর্নীতিকে সামনে রেখে প্রথম থেকেই বিজেপি সরকারের উন্নয়নের ঢাক পেটালেন তিনি। সেইসঙ্গে বললেন, বাংলায় এবার নবনির্মাণ করবে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ যেন পিছনে না পড়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারে না থেকেও বাংলার জন্য কাজ করেছে কেন্দ্র। বাংলার উন্নয়নের নতুন দিশা (Bengal’s Development) দেখাবে এই প্রকল্প। ৬টি স্টেশনকে অমৃত ভারত স্টেশন (Amrit Bharat Station) । বাংলা ছাড়াও সমগ্র পূর্ব ভারতের উন্নতি হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর সড়ক ও রেল যোগাযোগ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, জলপথের সংস্কারও ততটাই প্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সে এই জন্য সংস্কার হচ্ছে। কলকাতা ডকেও সংস্কার হচ্ছে। এর ফলে পূর্ব ভারতের ‘লজিস্টিক সিস্টেম’ আরও উন্নতি হবে।
প্রধানমন্ত্রী এদিন বেশ কয়েকটি জাহাজ চলাচল ও বন্দর-সম্পর্কিত প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সে পাঁচ নম্বর বার্থের সংস্কারের উদ্বোধন করেন। যা দ্রুত পরিবেশ-বান্ধব পণ্য পরিবহন সক্ষম করবে। তিনি খিদিরপুর ডকের সংস্কারের প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। দুর্নীতি ইস্যুতে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, চা-বাগানে শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা দিতে দেয় না তৃণমূল। সর্বত্র পাকা বাড়ি পাচ্ছে মানুষ। এখানে প্রকল্পের নাম বদলে হচ্ছে। যাদের বাড়ি পাওয়ার কথা ছিল, তারা বঞ্চিত হয়েছে।
আরও পড়ুন- ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশের’ সঙ্গে এবার ‘সবকা হিসাব’ হবে! ব্রিগেডে রণহুঙ্কার মোদির
জলজীবন মিশন থেকে আয়ুষ্মান ভারত বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে পশ্চিমবঙ্গে মানুষকে বঞ্চিত করে রেখেছে তৃণমূল। মোদি বলেন, এক সময় সকলের আগে ছিল বাংলা। আজ এখানকার যুবক-যুবতীরা না এখান থেকে ডিগ্রি পাচ্ছেন, না চাকরি। বাধ্য হয়ে তাদের ভিন রাজ্যে চলে যেতে হচ্ছে। প্রথমে কংগ্রেস, তার পর বাম ও তৃণমূল একে একে এসেছে, আর নিজেদের পকেট ভরেছে। উন্নয়নে কাজ পড়ে থেকেছে। তৃণমূল সরকার প্রকাশ্যে চাকরি বিক্রি করছে। এবার এই হাল বদলের সময় এসেছে। বাংলার যুবক-যুবতীরা এবার বাংলায় কাজ পাবেন। এই স্বপ্নপূরণে গ্যারান্টি মোদির।
উল্লেখ্য, শনিবার ব্রিগেড জুড়েই ছিল বাঙালিয়ানা। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে ১২০ ফুট চওড়া মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়েই রাজ্যবাসীকে বার্তা দিলেন মোদি। প্রধানমন্ত্রীর সভার মূল মঞ্চটি দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী মন্দিরের আদলে সাজানো হয়েছিল। মন্দিরের দুধারে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা পটচিত্র থেকে শুরু করে বাউল ও কীর্তনের মতো বাংলার নিজস্ব শিল্পকলা।







