HomeScrollসবে সাড়ে তিন লক্ষ নিষ্পত্তি, যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে কতজন ভোট দিতে...
SIR in Bengal

সবে সাড়ে তিন লক্ষ নিষ্পত্তি, যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে কতজন ভোট দিতে পারবেন?

সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বাংলার ভোটাররা

কলকাতা: বাংলার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে অনিশ্চয়তার মেঘ আরও ঘনাচ্ছে। প্রায় ৬০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটার, এই বিশাল অংশের ভবিষ্যৎ এখনও প্রশ্নের মুখে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) তাঁরা আদৌ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। যদিও নির্বাচন কমিশন (Election Commission) আশ্বাস দিয়েছে, দফায় দফায় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করে ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত করা হবে। কিন্তু নির্বাচনের আগে তা কতটা বাস্তবসম্মত। সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।

কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ৬০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে মাত্র সাড়ে তিন লক্ষ ভোটারের কেস নিষ্পত্তি হয়েছে। গত সোমবার থেকে সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশে বাংলায় SIR-এর কাজ শুরু করেছেন নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা। মোট ৫৩২ জন অফিসারের কথা থাকলেও, আপাতত প্রায় ৩০০ জন জেলা জজ এই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁরা সাড়ে তিন লক্ষ কেসের নিষ্পত্তি করেছেন।

আরও পড়ুন: দোলের দিনে খামখেয়ালি আবহাওয়া, ঘামে ভিজবে দক্ষিণবঙ্গ

তবে এই সাড়ে তিন লক্ষের সবটাই যে বৈধ ভোটার, তা নয়। সূত্রের দাবি, প্রায় ২৫ শতাংশ ভোটার এখনও সন্দেহজনক তালিকায়, আর বাকি ৭৫ শতাংশ ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেয়েছেন। এই অনুপাতকে রাজনৈতিক মহল আপাতত ইতিবাচক বলেই দেখছে। একই হারে যদি গোটা ৬০ লক্ষ ভোটারের যাচাই হয়, তা হলে আনুমানিক ১৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে।

মূল সমস্যা সময়। এখনও ঝুলে রয়েছে প্রায় ৫৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ভোটারের ভাগ্য। গত সাত দিনের হিসাব অনুযায়ী, ৩০০ জন জুডিশিয়াল অফিসার মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ৫০ হাজার কেস নিষ্পত্তি করেছেন। অর্থাৎ এক জন অফিসার দিনে গড়ে ১৬৬ জন ভোটারের নথি যাচাই করছেন। এই গতিতে বাকি কেস শেষ করতে লাগবে ১১৩ দিনের বেশি অর্থাৎ তিন মাসেরও অধিক।

কিন্তু কমিশনের হাতে কি অত সময় রয়েছে?

বাংলার বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। যদি মে মাসের মধ্যেই ভোট শেষ করতে হয়, তবে আগামী ২০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে। অথচ ভোটার তালিকার পূর্ণ সংশোধনে লাগতে পারে ১০০ দিনেরও বেশি। তা হলে কি বাংলার ভোটের আগে প্রতিটি ভোটার নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন?

উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্ট ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে ১০০ জন করে বিচারক চেয়ে পাঠিয়েছে। এই অতিরিক্ত ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসার কাজে যোগ দিলে কিছুটা গতি বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, সময়ের বিরুদ্ধে দৌড়ে আদৌ কি ভোটারের অধিকার সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে?

[youtube-feed feed=1]
Read More

Latest News