ওয়েবডেস্ক- বেলডাঙা কাণ্ডে (Beldanga Incident) হাইকোর্টের (High Court) সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) । রাজ্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এনআইএকে সিল বন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দিতে হবে হাইকোর্টে। সেই রিপোর্ট দেখেই আদালতকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বেলডাঙায় হিংসাত্মক ঘটনা রুখতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী (Central Armed Forces) ব্যবহার করার জন্য কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিল। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। এই মামলার রায় দিল শীর্ষ আদালত।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির মামলা কলকাতা হাইকোর্টে ফেরাল সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ। মুর্শিদাবাদে এনআইএ (NIA) তদন্তে স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিমকোর্ট।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য এনআইএকে, ইউএপিএ প্রয়োগের রেকর্ড পরীক্ষা না করেই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে এনআইএ। প্রতিটি বিস্ফোরণকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
প্রসঙ্গত, ২০ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি কেন্দ্র চাইলে এনআইএ- কে তদন্তভার দিতে পারে বলে নির্দেশে জানিয়েছিল। ২৮ জানুয়ারি কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বেলডাঙায় এনআইএকে এফআইআর দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পাশাপাশি কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এনআইএ যে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিল সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করে শীর্ষ আদালতে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, এনআইএ’কে পরবর্তী শুনানিতে হাইকোর্টে মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট দিতে হবে। এই মামলায় ইউএপিএ ধারায় তদন্তের প্রয়োজন আদৌ আছে কিনা হাইকোর্ট রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর সিদ্ধান্ত নেবে। রাজ্য কেন্দ্রের এনআইএ তদন্তের নির্দেশের বিরুদ্ধে যে আপিল করেছে শীর্ষ আদালতে সেই মামলারও শুনানি করবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিককের মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। এই বিক্ষোভের খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হন এক মহিলা সাংবাদিক। পরে ১৭ জানুয়ারি অশান্তি অব্যাহত থাকে। আরও এক সাংবাদিক আহত হন। টানা দুদিন ধরে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ ছিল।







