ওয়েব ডেস্ক : বঙ্গ সফরে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। তার এই সফর নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কারণ, শনিবার শিলিগুড়িতে (Siliguri) আদিবাসী সম্মেলনে যোগ দিতে এসে অনুষ্ঠানস্থল বদল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া তাঁকে স্বাগত না জানানো নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, “মমতা বোধহয় রাগ করেছেন। তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি।” সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল বদল নিয়েও অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেছেন, “বিধাননগরে অনুষ্ঠান হলে অনেক মানুষ আসতে পারতেন। সেখানে যথেষ্ট জায়গাও রয়েছে। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন কেন সেখানে অনুমতি দিল না, তা আমি জানি না। রাজ্য সরকার হয়তো আদিবাসীদের ভালো চায় না, তাই এখানে তাঁদের আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে।” তবে রাষ্ট্রপতির এমন অভিযোগের উত্তর দেওয়া হল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) তরফে।
তৃণমূলের তরফে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়েছে, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে মাননীয় রাষ্ট্রপতি সম্ভবত ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এই ধারণা পোষণ করছেন যে বাংলায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য কোনও কাজ হয়নি।” এর পরেই সমাজমাধ্যমে বেশ কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। লেখা হয়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অধীনে তফসিলি জনজাতি (ST) মহিলাদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তা ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন তাঁরা প্রতি মাসে ১,৭০০ টাকা (বছরে ২০,৪০০) পাচ্ছেন। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে শিক্ষাশ্রী (Sikhshashree) বৃত্তির আওতায় ১,০৯,২৭২ জন তফসিলি জনজাতি (ST) পড়ুয়াকে পড়াশোনার সহায়তার জন্য বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। জয় জোহার প্রকল্পের মাধ্যমে ২,৯৮,৩১৫ জন উপভোক্তা প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে পেনশন পাচ্ছেন। যা তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
আরও খবর : ভোটের আগেই আইনি জটিলতায় রাহুল সিনহা, কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল
সঙ্গে লেখা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সিধু-কানু মেমোরিয়াল আবাসিক স্কুল’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের শিশুরা নিজেদের মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। জঙ্গলমহল অঞ্চলে তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৫,৮৪৫ জন মানুষ ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল কেন্ডু লিভস কালেক্টরস সোশ্যাল সিকিউরিটি স্কিম’-এর আওতায় সামাজিক সুরক্ষা পাচ্ছেন।
এলএমপিএস (LAMPS)-এর মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জীবিকা শক্তিশালী করতে চলতি অর্থবর্ষে প্রতিটি এসজিএইচ (SHG)-কে ৩০,০০০ করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭,৯৩২টি এসজিএইচ (SHG)-কে মোট ২৩.৮০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
শেষে লেখা হয়েছে, আদিবাসী এলাকার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শেষ প্রান্তিক পর্যন্ত সংযোগ ব্যবস্থা, পানীয় জল ও স্যানিটেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য রাজ্য সরকার বিভিন্ন কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তা, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণ, হ্যান্ড পাম্প ও সৌরচালিত টিউবওয়েল স্থাপন, তফসিলি জনজাতি হোস্টেল সংস্কার, কমিউনিটি হল, আইসিডিএস (ICDS) কেন্দ্র, জাহের থান ও মাঝি থান নির্মাণ, এবং সৌরচালিত স্ট্রিট লাইট বসানো। এই সব প্রকল্পের জন্য এখনও পর্যন্ত মোট ৭৮.৯৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাজ্য সরকার হয়তো আদিবাসীদের ভালো চায় না বলে যে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর জবাব দেওয়া হল তৃণমূলের তরফে।
দেখুন অন্য খবর :







