কলকাতা: দীর্ঘ টানাপোড়েন ও একাধিক দফা বৈঠকের পর অবশেষে দিল্লির প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day 2026) কুচকাওয়াজে অনুমোদন পেল পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো (West Bengal Tableau)। গত কয়েকবছর ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ট্যাবলো নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্ক চলছিল, তার অবসান ঘটল এবার। সূত্রের খবর, প্রাথমিক আপত্তি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত বাংলার প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনে থাকা এক্সপার্ট কমিটি।
শুরুতে রাজ্যকে ‘বন্দেমাতরম’-এর (Vande Mataram) সার্ধ শতবর্ষ উপলক্ষে থিম তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে পশ্চিমবঙ্গের তরফে প্রস্তাবিত থিম ছিল ‘স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলা’ (Bengal In Indian National Movement)। কেন্দ্রের প্রস্তাবের সঙ্গে এই থিমের পার্থক্য থাকায় প্রথম দফায় বাংলার ট্যাবলো গৃহীত হয়নি। এরপর এক্সপার্ট কমিটি ও রাজ্যের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় পাঁচ দফা বৈঠক হয়। রাজ্যের অভিযোগ, বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ট্যাবলো নিয়ে বারবার আপত্তি জানিয়ে টালবাহানা করছিল কমিটি।
আরও পড়ুন: ‘ভোটের পর মোদিকেও জয় বাংলা বলতে হবে’, চাপড়া থেকে সিঙ্গুরের বার্তার পালটা চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
কমিটির প্রশ্ন ছিল, কেন বাংলা ‘বন্দেমাতরম’ থিমে না গিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনকে সামনে আনছে? দীর্ঘ আলোচনা শেষে রাজ্য জানায়, ‘বন্দেমাতরম’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ট্যাবলো নির্মাণ করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের গৌরবময় অধ্যায়ও তুলে ধরা হয়েছে সামগ্রিক থিমে। এই সমন্বয়ের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত বাংলার ট্যাবলো অনুমোদন পায়। ফলে আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের শোভাযাত্রায় দেশের ১৭টি রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোও দেখা যাবে।
তবে বিষয়টির পিছনে রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি-শাসিত অসম, ওড়িশা, রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রের ট্যাবলোর থিমের সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলন বা ‘বন্দেমাতরম’-এর সার্ধ শতবর্ষের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই, তবুও সেগুলি অনুমোদন পেয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় বাংলার ট্যাবলো আটকে দিলে বিরূপ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে—এই আশঙ্কাতেই শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রকে অনুমোদন দিতে বাধ্য হতে হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার ট্যাবলোতে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার অবদান তুলে ধরা হয়েছে বিশেষভাবে। নতুন প্রজন্মের সামনে সেই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। সুসজ্জিত ট্যাবলোতে থাকবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বীর বিপ্লবী বিনয়-বাদল-দীনেশ-সহ একঝাঁক মনীষী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতিকৃতি ও তাঁদের আত্মবলিদানের কাহিনি। দিল্লির রাজপথে এবার সেই গৌরবময় ইতিহাসই তুলে ধরবে বাংলা।
দেখুন আরও খবর:







