বীরভূম: এসআইআর-এর শুনানিতে (SIR Hearing) ডাক পেয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও ভারতরত্ন অমর্ত্য সেন (Amartya Sen)। তাঁকে আগামী ১৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টা নাগাদ বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লক অফিসে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নোটিস ঘিরেই তোলপাড় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতন (Santiniketan)। কিন্তু কেন শুনানিতে ডাকা হল অমর্ত্য সেনকে?
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) দাবি তাদের নথি অনুযায়ী, অমর্ত্য সেন ও তাঁর মা অমিতা সেনের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম, যা সাধারণভাবে প্রত্যাশিত নয়। কমিশনের মতে, এই অসঙ্গতি স্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে বলেই তাঁকে এসআইআর-এর শুনানিতে ডাকা হয়েছে। যদিও অমর্ত্য সেনের পরিবারের দাবি, মা–ছেলের বয়সের পার্থক্য ১৯ বছর ৬ মাস, এবং কমিশনের তথ্য ভুল।
আরও পড়ুন: SIR শুনানিতে ‘NOT SATISFIED’! নৈহাটিতে টেনশনে মৃত্যু বৃদ্ধার
বুধবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে নির্বাচন কমিশনের তিনজন আধিকারিক শান্তিনিকেতনের ‘প্রতিচি’ বাড়িতে হাজির হন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন কমিশনের ডাটা অপারেটর অরূপ ঘোষ, ২৭৪ নম্বর বুথের বিএলও সোমব্রত মুখার্জী, এবং আরও একজন মহিলা প্রতিনিধি। প্রায় ৩০ মিনিট তাঁরা সেখানে ছিলেন। অমর্ত্য সেনের উদ্দেশে জারি করা নোটিস গ্রহণ করেন তাঁর মামাতো ভাই শান্তভানু সেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে যে, ৯২ বছর বয়সে একজন ভারতরত্ন ও নোবেলজয়ী ভারতীয় নাগরিককে কি আবার নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে? শুধুমাত্র নথিগত অসঙ্গতির কারণে এমন পদক্ষেপ কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, এটি কোনও ব্যক্তিবিশেষকে লক্ষ্য করে নয়; বরং ভোটার তালিকার শুদ্ধতা নিশ্চিত করতেই এসআইআর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুনানি ডাকা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং প্রতীকীভাবেও গুরুত্বপূর্ণ— কারণ দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় বুদ্ধিজীবীর ক্ষেত্রে এমন তলব স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
দেখুন আরও খবর:







