‘তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই’, হ্যাঁ, ঠিক এই ভাষায় তো সীতা সোনার হরিণ চেয়েছিলেন কি না জানি না, কিন্তু একটা আল্টিমেটাম তো দিয়েইছিলেন, যার ফলে রাম ছুটলেন, রামায়ণে যুদ্ধ শুরু হল, আর ওই মারীচ রাক্ষস বধ থেকেই শুরু হল রাক্ষসরাজা রাবণের পতন। ঠিক সেরকম আমাদের শুভেন্দুবাবুর আবদার, ‘আমার নবান্ন চাই, বাংলা চাই’। আরে বাবা লাও বললে হবে? আনবে কে? আনবে কেন? তো সেই গদির জন্য অনেককিছু করেছেন শুভেন্দু অ্যান্ড কোম্পানি, অত্তগুলো মন্ত্রিত্ব পদ, গুষ্টি শুদ্ধু লোকের অত পদ আর প্রতিষ্ঠা ছেড়ে তো তিনি এমনি এমনি আসেননি। কিন্তু বহু চেষ্টাতেও আসছে না দেখেই তিনি হুঙ্কার দিয়েছিলেন, ‘দেড় কোটি ঘুসপেটিয়া আর রোহিঙ্গাদের খুঁজে ধরে বার করে দেওয়া হবে এই বাংলা থেকে’, এঁটোকাঁটা খাওয়া মিডিয়ার কী আহ্লাদ! তাঁরা বুম নিয়ে রোহিঙ্গা ধরতে বের হলেন, কয়েকজন কয়েকটা জায়গাতে ঝাড়ও খেলেন, তাতে কি চ্যানেলের টিআরপি বাড়ল, চ্যানেল কুইজ ঘোষণা করে দিল, ‘বলুন দেখি আমাদের প্রতিনিধি ঠিক কোন চৌমাথার মোড়ে পাবলিকের তাড়া খেয়েছেন?’ আসলে এই হিসেবগুলো বুঝতে খুব সুবিধে হত, যদি জনগণনা ঠিক সময়ে হয়ে থাকত। তো কার্টিসি আমাদের উনিজি।
আমাদের জনগণনা শেষ হয়েছে ২০১১-তে, হবার কথা ২০২১-এ, এখনও হয়নি। যে কোনও দেশের ৭০-৮০ বছরের ৭-৮ টা জনগণনার হিসেব পেলে কেবল সংখ্যা নয়, সেই দেশ বা সমাজের বৃদ্ধির বেশ কিছু তথ্য জানা যায়, যা বলে দেয় দেশটা এখন কোন অবস্থায় আছে, দ্দেশ কি ফুটছে তারুণ্যে? মানে দেশে তরুণদের সংখ্যা বেশি, নাকি দেশ বৃদ্ধ হচ্ছে? যেমন জাপান বা চীন তাদের তারুণ্য ছেড়ে পৌড়ত্বে ঢুকেছে, প্রৌঢ়দের সংখ্যা বাড়ছে, ঠিক সেরকম ২০১১-র গণনা বলে দেয় আমাদের দেশও হৈ হৈ করে এগিয়ে চলেছে বার্ধক্যের দিকে, বিশেষ করে সেই রাজ্যগুলোতে যেখানে জন্মহার বেশ কিছু বছর ধরে বেশ কমেছে। ৬০ বছরের বেশি জনসংখ্যার হার ১০.৫ শতাংশ, ২০৩৬-এর মধ্যে ২৩ কোটি জনসংখ্যা হবেন প্রবীণ। কেন বলছি এই কথা? বছর ১০-১৫ পরপর যখন ভোটার তালিকার একটা ভালোরকমের ঝাড়াই বাছাই হবে, তখন মৃতদের বাড়ার সম্ভাবনা বেড়েছে অনেকটা। ২০০২-কে যদি ধ্রুবক মানা হয়, তাহলে সংখ্যাতত্ত্ব বলছে কমবেশি ৮ শতাংশ ভোটার তো নিশ্চিতভাবেই এর মধ্যে মারা গিয়েছেন, করোনাকালের মৃত্যুর হার বৃদ্ধির হিসেব এখনও আমাদের হাতেই নেই। কাজেই ওই মৃত ভোটারের সংখ্যা তো বেড়েছে। খসড়া ভোটার তালিকা বের হবার সময়ে আমাদের জানানো হল যে ওই মৃত, আর স্থানান্তরিত বা যাঁদের খুঁজেই পাওয়া যায়নি, সেই সংখ্যাটা ৫৮ লক্ষের মতো। ৫৮ লক্ষ? কিছুটা নাড়াঘাটা করে বুঝলাম, এটা হল সেই বার্ধক্যে ঢোকার এক পরিণতি, আজ থেকে ২০ বছর পরে মৃত ভোটারের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে, চমকাবেন না, কারণ প্রবীন নাগরিকদের জনসংখ্যা সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে তিনগুণ গতিতে বাড়ছে। কিন্তু ৫৮ লক্ষের পুরোটাই তো আর মৃত ভোটার নন, আছেন স্থানান্তরিত ভোটার, আছেন খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন ভোটার। এই সংখ্যার ভোটারদের এক অংশ আবার জুড়ে যাবে। আবার ওই ৫৮ লক্ষ স্থান্তরিত বা না খুঁজে পাওয়া ভোটারের এক বড় অংশ আপিল করেছেন, সেই ভোটারেরা আবার ফিরে আসবেন মূল তালিকাতে। সেই সংখ্যাও কম নয়। কাজেই ৫৮ লক্ষ আগে বাদ পড়েছে মানে ওটাই কোনও স্থির সংখ্যা নয়, ওটা আর বাড়বে না নিশ্চই, কিন্তু কমবে অনেকটাই। এবং নির্বাচন কমিশনের কর্তারা বিজেপি নেতৃত্বকে জানালেন যে খুব বেশি হলে কিন্তু এটা ওই ৪০ লক্ষের বেশি হবে না। তাহলে?
আরও পড়ুন: Fourth Pillar |মমতা হবেন ইন্ডিয়া জোটের মুখ?
ওদিকে শান্তিকুঞ্জের উনি তো ঘোষণা করেছেন দেড় কোটিকে ভাগাবেন, তো অক্ষরে অক্ষরে সেই পথ ধরেই চলছেন আমাদের জ্ঞানেষ কুমার, যতদিন না শুভেন্দু বাবুর দেড় কোটি ছুঁয়ে ফেলছেন, ততদিন ধরে নানান ছুতোয় ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দেবার সংখ্যা বেড়েই চলবে। এখন জানা যাচ্ছে রাজ্যে ‘সার’ প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৬২ লক্ষ ৪৫ হাজার নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়ে বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ নাম। ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি এবং ‘আনম্যাপড’ তালিকায় থাকা ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৩৫ জনকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩২৩ জনের দাখিল হওয়া নথি এখনও ডিইও–র কাছেই যাচাইয়ের জন্য পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার নথি ভিন রাজ্যে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও ‘ফাউন্ড ওকে’ করা সত্ত্বেও প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারের নাম আবার ‘রিভিউ’ করার জন্য ইআরও, এইআরও–দের কাছে পাঠানো হয়েছে। আরও প্রায় ২০ লক্ষ নাম মাইক্রো অবজারভার ও রোল অবজারভারদের পরীক্ষার পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ইআরও, এইআরও–দের কাছে পাঠানো হয়েছিল। যা তাঁরা এখনও নিষ্পত্তি করেননি। এর পাশাপাশি মাইক্রো অবজারভার ও রোল অবজারভারদের নথি যাচাই করে ভোটার তালিকায় নাম রাখা নিয়ে বহু ক্ষেত্রে ইআরও, এইআরও–রা একমত হচ্ছেন না। ফলে একটার পরে একটা জটিলতা তৈরি সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, এক্ষেত্রে ইআরও, এইআরও–দের লিখে দিতে হবে কেন তাঁরা একমত নন, মানে এই নাম কাটা যাবে কী না তার ব্যাখ্যা চাই। এর উপরে ১ লক্ষ ১৪ হাজার নথি শুনানির পরে ইআরও, এইআরও–রা এখনও আপলোড করেননি। এদিকে হাতে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। মানে, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের নথি যাচাইয়ের জন্য সময় আছে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার বিকেলের খবর, এখনও বাংলায় প্রায় ৫৬ লক্ষ ভোটারের নথি জেলা নির্বাচনী আধিকারিক থেকে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের যাচাই করে নিষ্পত্তির কাজ এখনও বাকি। ফলে ‘সার’–এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশ নিয়েই সংশয় তৈরি করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। তার আগে ২১ ফ্রেব্রুয়ারি মধ্যে ইআরও, এইআর-দের শুনানিতে প্রাপ্ত নথি যাচাই করে নিষ্পত্তির কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। তার পরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আর নির্বাচন কমিশন সেই নথি পরীক্ষা করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা। সেটা কি সম্ভব? রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল এ দিন বলেন, “ডিইও, ইআরও, এইআরও-রা সময়মতো কাজ করলে সম্ভব, না হলে কমিশনের কাছে সময় চাইতে হবে।” কিন্তু বাস্তব অবস্থা বলছে আরও অনেকটাই সময় লাগবে, সম্ভবত ৭ মার্চের আগে এই কাজ শেষই হবে না। মাথায় রাখুন মধ্যে দোল, হোলির ছুটি আছে।
তাহলে দাঁড়াল টা কী? টার্গেট ঠিক করে দিয়েছেন শুভেন্দু অ্যান্ড কোম্পানি, নির্বাচন কমিশন নানান ছুতোয় সেই টার্গেটকে ছোঁবার চেষ্টা করছেন আর আগেই বলেছি সেই টার্গেট এর এক্কেবারে মধ্যিখানে সংখ্যালঘু ভোট, মুসলমানদের ভোট। শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারের ৮৮ শতাংশই সংখ্যালঘু! আগে একবার বলেছিলাম এসআইআর চলাকালীন রাজ্যে অন্যতম সংখ্যালঘু নিবিড় বিধানসভা কেন্দ্র মেটিয়াবুরুজ ও মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর, কলকাতারই বালিগঞ্জ আর কোলকাতা পোর্ট অঞ্চলের এসডিডি, নো ম্যাপিং ও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি চিহ্নিত ভোটারদের নিয়ে সমীক্ষা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সবর ইনস্টিটিউট। চারটে বিধানসভা কেন্দ্রের সমীক্ষাতেই একই ছবি সামনে এসেছে। নো ম্যাপিং ও এসডিডি ভোটারদের তুলনায় মানে ওই অঞ্চলের জনসংখ্যার আনুপাতিক হারকে মাথায় রাখলে দেখা যাচ্ছে মুসলমান জনগোষ্ঠীর মানুষজনকেই টার্গেট করা হয়েছে। তাঁদেরই ব্যাপক হারে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য শুনানির ডাক পড়ছে। মেটিয়াবুরুজের ভোটারদের মধ্যে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ সংখ্যালঘু মানুষ। ফলে খসড়া তালিকায় নাম না থাকা ৫৮ শতাংশ কিংবা নো ম্যাপিং এ ৬২ শতাংশ হওয়াটা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের মধ্যে ৮৮ শতাংশই সংখ্যালঘু হলে তা অবশ্যই হিসেবে মেলে না আর তা সন্দেহজনক।” কলকাতার অন্যতম হাইপ্রোফাইল বিধানসভা কেন্দ্ৰ ভবানীপুর। ২০ থেকে ২২ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটারের উপস্থিতি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। নগন্য সংখ্যালঘু ভোটারের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও চমকে দেবার মত তথ্য উঠে এসেছে সমীক্ষায়। ২০ শতাংশ মুসলমান ভোটারের ভবানীপুর কেন্দ্রে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ‘এএসডিডি’ বাদ পড়ার বিচারে সংখ্যলঘু ভোটারদের হার ছিল ২২ শতাংশ। কিন্তু এই কেন্দ্রেই অমুসলমান ভোটারদের এই বাদ পড়ার শতাংশ ছিল ৭৭ শতাংশ। নো ম্যাপিং ভবানীপুরেই অমুসলমান শতাংশ যেখানে ৭৪ শতাংশ সেখানে সংখ্যালঘুদের হার দাঁড়ায় ২৬ শতাংশ। কিন্তু তারপরেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ভোটারদের কাছে শুনানির নোটিস পৌঁছে দেওয়ার সময় হিসাব পুরো উলটে গিয়েছে। সমীক্ষায় উঠে এসেছে ভবানীপুর কেন্দ্রেই ৫১.৮১ শতাংশ ভোটারকেই পারিবারিক সূত্র ধরে অসঙ্গতি চিহ্নিত করে ডাক দেওয়া হয়েছে শুনানিতে। ১০০ জন ভোটারের মধ্যে ৫২ জন মুসলমান ভোটারই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য শুনানিতে ডাক পাচ্ছে। ২০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটারের কেন্দ্রে ‘এসডিডি’ ও ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের শতাংশের বাস্তব ভিত্তি আছে। কিন্তু লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে শুধু যে সংখ্যালঘু ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে তা ক্রমশ সামনে আসছে। ভবানীপুর বিধানসভাতেই পদবির ভিত্তিতে নাম বাদ পড়ার তালিকায় শীর্ষে ছিল ‘সিং’, ‘দাস’ ও ‘যাদব’। অমুসলমান, হিন্দিভাষী এই তিন পদবি মিলিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার হার ছিল ৩৯ শতাংশ। সেখানে সংখ্যালঘু মহিলাদের মধ্যে ‘খাতুন’ ও ‘বেগম’ পদবির নাম বাদ পড়ার হার ছিল যথাক্রমে ৫.৪৯ ও ৩.৫ শতাংশ। কিন্তু লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে শুনানির নোটিস পাওয়া ভোটারদের মধ্যে ভবানীপুরে ‘খাতুন’ পদবির মহিলাদের ১৪.১৭ শতাংশ ডাক পেয়েছেন। একইভাবে ‘বেগম’ পদবির মহিলাদের সাড়ে ৮ শতাংশ ডাক পেয়েছেন শুনানিতে। একই ছবি দেখা যাচ্ছে বালিগঞ্জ কেন্দ্রে, সেখানে সংখ্যালঘুদের এএসডিডি-তে বাদ পড়ার পার্সেন্টেজ হল ৪৪ শতাংশ, নো ম্যাপিংয়ে ৪১ শতাংশ, কিন্তু লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে নোটিস পেলেন ৭৭.৫ শতাংশ। কলকাতা পোর্ট অঞ্চলে ওনাদের গবেষণা বলছে এএসডিডি-তে সংখ্যালঘুদের ৪৪ শতাংশ বাদ পড়েছেন, নো ম্যাপিংয়ে ৪৪.৭৭ শতাংশকে বাদ দেওয়া হয়েছে বা নোটিস দেওয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রে ৫০ শতাংশ মুসলমান মানুষজন থাকেন, এবারে যখন লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির কথা এল, তখন ৮১ শতাংশ সংখ্যালঘু মানুষকে নোটিস পাঠানো হল, আর ৫০ শতাংশ অমুসলমানকে সমানভাবে এসএসডিডি, নো ম্যাপিং বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে রাখা হয়েছে।
খুব পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, দেশের এক জনগোষ্ঠী আজ রাষ্ট্রের এক শক্তিশালী অস্ত্রের সামনে অসহায়। গোটা দেশের অন্য কোনও রাজ্যে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে শুনানির ব্যবস্থা এসআইআর পর্বে হয়নি। নির্বিচারে এরাজ্যের গ্রাম ও শহরের সংখ্যালঘু মানুষকেই ডাকা হচ্ছে। শুনানিতে তাঁদের কাছ থেকে চাওয়া হচ্ছে কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নথির কোনও একটি। অধিকাংশ সংখ্যালঘু ভোটারই তা দিতে পারছেন না। হ্যাঁ, এইবারে আবার এক্কেবারে শুরুর কথায় ফিরে যাই, এই এসআইআর নির্বাচক তালিকা, ভোটার লিস্টকে সংশোধন করার জন্য হচ্ছে না, রাজ্যের বিরোধী দলনেতার দাবি মেনেই দেড় কোটি মানুষকে ছেঁটে ফেলার জন্যই হচ্ছে, রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষজনকে বিপন্ন করে তোলার জন্যই করা হচ্ছে, যা রুখতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ আদালতে, যা রুখতে অসংখ্য মানুষ রাজপথে। হ্যাঁ, একজন নাগরিকের ভোট দেবার অধিকার কাড়তে আমরা দেব না, সে তিনি সংখ্যালঘু হন আর সংখ্যাগুরু। রবি ঠাকুর, নজরুলের দেশে শান্তিকুঞ্জের এক অশান্তি বা কিছু হনুমানের দল যদি সেই আশায় পাত পেড়ে বসে থাকতে চান তো বসুন, আজ না কাল না পরশু বের করতে হবে ফাইনাল ভোটার লিস্ট, আমাদের সহনাগরিকদের সেই তালিকাতে নাম না থাকলে রাজপথ অবরুদ্ধ হবে, আজ বলছি মিলিয়ে নেবেন।
দেখুন আরও খবর:








