তিনি সাংবাদিক, পে-প্যাকেট হাতে নিয়ে ‘উলটে দেখুন, পালটে গিয়েছি’ গোছের নয়, লাগাতার ক্ষমতার বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন, লাগাতার লিখেছেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে, লিখেছেন ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে, ওমর আবদুল্লার বিরুদ্ধে, মেহবুবা মুফতির বিরুদ্ধে, কাশ্মীরে মিলিটারি শাসনের বিরুদ্ধে, পাক জঙ্গিদের হানার বিরুদ্ধে, দিল্লির বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে। মানে ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থেকে বাবা বেদ ভাসিনের ১৯৫৫-তে তৈরি করা কাগজ ‘কাশ্মীর টাইমস’ চালিয়ে যাচ্ছেন অনুরাধা ভাসিন। জঙ্গিরা হুমকি দিয়েছিল বেদ ভাসিনকে, তিনি পাত্তা দেননি। তাঁর মেয়ে রেগুলার হুমকি পেয়েছে হিন্দুত্ববাদীদের কাছ থেকে, জেলে পোরার হুমকি, কাগজ ক’দিন আগেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু মাথা নোয়াননি অনুরাধা ভাসিন। বেদ ভাসিন, মানে বাবা মারা যাওয়ার পরে অনুরাধা ভাসিনই ‘কাশ্মীর টাইমস’-এর সম্পাদক। তো সেই ‘কাশ্মীর টাইমস’ গতকাল সেনাবাহিনী দাঁড় করিয়ে রেইড হয়েছে, যে দফতর থেকে কাগজ আর চালানো হয় না, যেখানে কাগজের ছাপানো কবেই সরানো হয়ে গিয়েছে, সেই বিল্ডিংয়ে রেইড হল আর কী। আশ্চর্য, সেখানে একে ফর্টি সেভেনে-এর কার্তুজ পাওয়া গেল। ব্যাস, হৈ-হৈ প্রচার, টেররিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, টেররিস্ট আউটফিট, নানান বিশেষণ, কারা দিচ্ছেন? যাঁরা এক এবং একমাত্র পে-প্যাকেটের জন্য যতবার খুশি পালটি খেতেই পারেন।
কিন্তু সেটা বড় ব্যাপার নয়, বড় কথা হল কাশ্মীরের এই মূহুর্তের অবস্থা। উগ্রপন্থী হানা তো একটা সিম্পটম, লক্ষণ; আসল সমস্যা তো কাশ্মীরের রাজনৈতিক অস্তিত্ব, কাশ্মিরী মানুষজনের চাহিদা, তাঁদের কাশ্মিরিয়ৎ নিয়ে বেঁচে থাকার – এই কথাগুলোই অনুরাধা ভাসিন তাঁর বিভিন্ন লেখাতে বলেছেন, বলে চলেছেন। কিন্তু দেশের ক্ষমতাতে তো বিজেপি, কাশ্মিরীরা মরল না বাঁচল, তা নিয়ে তাদের কিচ্ছু এসে যায় না। খেয়াল করে দেখুন, এই কাশ্মিরী পন্ডিতরা যখন ঘর ছাড়ছেন, তখন দেশের ক্ষমতার অন্যতম স্তম্ভ এই বিজেপি, তাদের নেতা লাল কৃষ্ণ আদবানী। আবার দেখুন ২০১৪ থেকে বিজেপির শাসন, এই ১১ বছরে একজন কাশ্মিরী পন্ডিতকেও তাঁরা ঘরে ফেরাতে পারেননি। কী করেছেন? কাশ্মীরের মানুষকে আরও বিচ্ছিন্ন করে রাজ্যটাকে ভেঙে রাজ্যকে এখন কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল বানিয়ে দিয়েছেন। ৩৭০ ধারা তুলে নিয়েছেন, কেন? কারণ ৩৭০ ধারা নাকি বিচ্ছিন্নতাবাদকে প্রশ্রয় দিত, ৩৭০ ধারা থাকলে মেইন ল্যান্ড ইন্ডিয়ার মানুষ নাকি অনায়াসে কাশ্মীরে এসে ব্যবসা করতে পারতেন না, জমি কিনতে পারতেন না, আর উগ্রপন্থীদের তাতে প্রশ্রয় দেওয়া হত। বিজেপি প্রশ্ন তুলেছিল কেন কাশ্মীরের আলাদা পতাকা থাকবে? কেন একটা আলাদা সংবিধান থাকবে? তাই ৩৭০ ধারা তুলে, রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে আরও আহত করল সেই কাশ্মিরিয়ৎকে, যা নিয়ে বাঁচতে চান কাশ্মিরীরা। সেই কাশ্মীরে এবারে ‘কাশ্মীর টাইমস’-এর সম্পাদককে জেলে পোরার ব্যবস্থা চলছে, সংবাদপত্র দফতরে পাওয়া গিয়েছে একে ফর্টি সেভেনের গুলি। উচ্ছৃষ্টভোজী সাংবাদিকদের কী আনন্দ আকাশে বাতাসে, বলেছিলাম, বলেছিলাম। এই সাংবাদিকেরা আসলে সরকারের সার্কুলারকেই সংবাদ বলে মেনে নিয়েছেন। এনআইএ জানাল ইনি টেররিস্ট, সাংবাদিক অভিযুক্ত উগ্রপন্থীও লিখছেন না, লিখছেন টেররিস্ট। পুলিশ জানাচ্ছে এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে, সাংবাদিক লিখছে পুলিশকে আক্রমণ করার সময়ে একজন টেররিস্ট মারা গিয়েছে। এঁরা হলেন উচ্ছৃষ্টভোগী সরকারের কন্ঠ, তাঁরাই আজ আনন্দিত, অনুরাধা ভাসিনের দফতরে একে ফর্টি সেভেনের গুলি পাওয়া গিয়েছে, একজন দেশবিরোধী ধরা পড়েছে।
ঠিক যখন এসব বলছেন, মানে তাঁরা এই উল্লাসে মগ্ন ঠিক তখন দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে হেঁটে নয়, লুকিয়ে নয়, হেলিকপ্টারে করে তাঁর গ্রামে এসেছিলেন থুইঙ্গগ্যালেং মুইভা। যখন হেলিকপ্টারে করে তিনি মণিপুরের নাগাহিলসের কাছে সদ্য তৈরি হেলিপ্যাডে নামছিলেন, তখন অসংখ্য নাগা সমর্থক নাগালিমের হালকা নীল পতাকা হাতে নিয়ে তাঁর জন্য দাঁড়িয়ে। ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিলের সর্বোচ্চ নেতা মুইভা, এখন ৯১ বছরে বৃদ্ধ, তিনি নামলেন হাত তুললেন, নামলেন জেলা প্রশাসনের তৈরি নতুন হেলিপ্যাডে, প্রশাসনের বিশাল গাড়ির বহর তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাজির। তার আগে নাগালিমের পতাকা উড়ল, নাগালিমের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হল, মণিপুরের উখরুলের কাছে তাঁর গ্রামে তিনি গেলেন এবং সাফ জানালেন, “২০১৫-তে মোদির সঙ্গে যে ডিল হয়েছে, তাতে আমাদের নিজস্ব সংবিধান, আমাদের নিজেদের জাতীয় গান আর পতাকার কথা আছে, সেটা মেনেই আমরা নতুন নাগালিম তৈরি করব, আর যদি না করা হয়, তাহলে লড়াই যেমন চলছে তেমন চলবে।” শুনেছেন নাকি ঐও উচ্ছৃষ্টভোগী দালাল সাংবাদিকদের গলাতে এ নিয়ে একটাও কথা? শুনেছেন নাকি আমাদের ৫৬ ইঞ্চি ফেকুবাবুর মুখে একটাও কথা? শুনেছেন নাকি তাড়িপার জোকার অমিত শাহ যিনি ২৬-এই মাওবাদ শেষ করবেন, তাঁর মুখে একটাও কথা শোনেননি। কারণ জানেন? খানিকজন বিচ্ছিন্ন কিছু মাওবাদীকে মেরে ফেলে রেখে এসব বুক বাজানো এক ব্যাপার আর উত্তর পূর্বাঞ্চলে নাগা জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ওতোপ্রতভাবে জড়িয়ে থাকা ন্যাশনালিস্ট সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ডের ব্যাপারটা আলাদা। হ্যাঁ, তাঁদের সামলানোর জন্য মোদিজিকে তাঁদের আলাদা সংবিধান, আলাদা জাতীয় সঙ্গীত, আলাদা জাতীয় পতাকার শর্ত মেনেই শান্তি ফেরাতে হয়েছে। ভেবেছিলেন একবার শান্তি ফিরলে সব ম্যানেজ হবে, কিন্তু ৯১ বছরের মুইভা নিজে এসে জানিয়ে গেলেন, ‘সে গুড়ে বালি নয়, কাঁচের গুঁড়ো’! আলাদা সংবিধান, জাতীয় পতাকা আর জাতীয় সঙ্গীত আর নাগালিম মানে নাগাদের বৃহত্তর নাগাভূমি ছাড়া শান্তি ফিরবে না।
আরও পড়ুন: Fourth Pillar | বাংলার দখল চায় বিজেপি, সামনে একটাই দেওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
এই কাশ্মীরে এক কাগজের বন্ধ অফিসে একটা একে ফর্টি সেভেনের কার্তুজ আবিষ্কার করার খবরে যাঁরা উল্লাসে ফেটে পড়ছেন, তাঁরা তাঁদের মালিকের জি’হুজুর বলে পায়ে ধরার কাহিনী জানেন? জানেন কোন অনৈতিক সমঝোতার পে-প্যাকেট তাঁরা হাতে পান? জানেন, সেখানে দেশ লুঠের কত ভাগ আছে? সব জানেন, কিন্তু ওই পে-প্যাকেটের কাছে বিলিয়ে দেওয়া তন-মন নিয়ে কার সমালোচনা করছেন অনুরাধা ভাসিনের, যিনি কাশ্মীরের মতো জায়গাতে থেকে উগ্রপন্থী, জঙ্গি আর সরকারি হুমকির কাছে মাথা নীচু না করে সাংবাদিকতা করে যাচ্ছেন। শ্রীনগর, লালকেল্লার বিস্ফোরণ আটকাতে পারেনি এই অপদার্থ সরকার, পহলগামের হত্যা আটকাতে পারেনি এই সরকার, পুলওয়ামা জওয়ানদের হত্যার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করতে পারেনি এই সরকার। কিন্তু সেই সব আক্রমণকে অজুহাত করেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কারা হচ্ছে। এখন সেই বিস্ফোরণের তদন্তের সূত্রে সংবাদ মাধ্যমের দফতরেও হানা চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জম্মু-কাশ্মীরের স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ)-র দল পত্রিকার কার্যালয় ও কম্পিউটার ঘরে তল্লাশি চালায়। জম্মুতে ‘কাশ্মীর টাইমস’-এর দফতরে এই লাগাতার অভিযানের নিন্দা জানিয়ে পত্রিকার দুই বর্ষীয়ান সম্পাদক প্রবোদ্ধ জামওয়াল, অনুরাধা ভাসিন বলেছেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ ও পুলিশি তৎপরতা ভয় দেখানো, আর শেষ পর্যন্ত চুপ করিয়ে দেওয়ার জন্যই সাজানো হয়েছে। সম্পাদকের কথায়, “চুপ করে বসে থাকব না। সাংবাদিকতা কোনও অপরাধ নয়।” পত্রিকার এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সরকারকে সমালোচনা করা রাষ্ট্রবিরোধিতা নয় বরং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। স্বাধীন ও প্রশ্নমুখী সংবাদমাধ্যম সুস্থ সাধারণতন্ত্রের শর্ত।”
গত ১১ বছর ধরে মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে বহু সংবাদমাধ্যমই নানা ধরনের দমনমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ভারত রয়েছে ১৮০ দেশের মধ্যে ১৫১তম স্থানে। বৃহস্পতিবারের ঘটনা সেই দমনপীড়নেরই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। কোন নির্বোধ এই কথা বিশ্বাস করবে যে, এক সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান, যারা আউট অ্যান্ড আউট বিজেপি বিরোধী, মোদি বিরোধী, তারা তাদের দফতরে একে ফর্টি সেভেনের গুলি, গ্রেনেডের লিভার রেখে দেবে? আসলে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর জীবনের সবচেয়ে বড় ভয় প্রশ্নে, প্রশ্ন করলেই ওনার গলা শুকিয়ে যায়, উনি ‘দোস্তি বনি রহে’ বলে বেরিয়ে আসেন সাক্ষাৎকার ছেড়ে, এবং খেয়াল করে দেখুন তিনিই সেই প্রধানমন্ত্রী যিনি কোনওদিন কোনও প্রেস কনফারেন্স করেননি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ওনার কাছে বিষের মত। বহু উদাহরণ আছে। ২০১৯-এর ৯ অগাস্ট রাতে মুম্বাই বিমান বন্দরে প্রণয় রায় আর তাঁর স্ত্রী রাধিকা রায়কে ৭ দিনের বিদেশে যাওয়ার আগে আটকে দেওয়া হয়। জানানো হয়, তাঁদের কোম্পানির নামে অভিযোগ আছে। শোনা হয়নি কোনও আবেদন, তাঁদের ফেরার টিকিট ছিল ১৫ অগাস্ট, সে কথা জানানোর পরেও তাঁদের ডিটেন করা হয়। তারপর এনডিটিভি-র মালিকানা চলে গেল উনিজির ‘পেয়ারের বন্ধু’ আদানির কাছে। ২০২০ ১২ জুন, ৬৭ বছরের পদ্মশ্রী পুরস্কার পাওয়া সাংবাদিক বিনোদ দুয়ার বাড়িতে হিমাচলপ্রদেশের পুলিশ আসে। হিমাচলপ্রদেশে কোনও এক বিজেপি নেতা তাঁর নামে মামলা দায়ের করেছে, সেই মামলায় দেশদ্রোহে অভিযুক্ত বিনোদ দুয়াকে তারপরের দিন ১০টার মধ্যে ২০ ঘন্টার জার্নি করে আদালতে পৌঁছতে হবে। মাথায় রাখবেন, তখন করোনার পিক পিরিয়ড চলছে। ২০২০-র ১১ এপ্রিল অযোধ্যা থেকে পুলিশ আসছে, ‘দ্য ওয়ার’-এর বিশিষ্ট সাংবাদিক সিদ্ধার্থ বরদারাজনের বাড়িতে, তাঁর নামে দু’টো এফআইআর করা হয়েছে, দুটো ক্রিমিনাল কেস দায়ের করা হয়েছে। যোগীর রাজত্বে করোনার মধ্যেও রাম নবমীর অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, এই খবর করেছিলেন সিদ্ধার্থ। অতএব প্রথম এফআইআর সেই খবরের জন্য করা হল। আমরা সবাই জানি, ২৫ মার্চ সেই রামনবমীর অনষ্ঠানে স্বয়ং যোগী আদিত্যনাথ হাজির ছিলেন। দ্বিতীয় এফআইআর-এ বলা হয়েছে, সিদ্ধার্থ বরদারাজন মিথ্যে ও অশ্লীল টুইট করেছেন। কিন্তু কোন টুইটে এমনটা করা হয়েছে, তার উল্লেখ ছিল না। বেনারসে ডোমারি গ্রাম দত্তক নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই গ্রামে সাংবাদিক সুপ্রিয়া শর্মা গিয়েছিলেন, ২০২০-র জুন মাসের ৮ তারিখে। তাঁর লেখা ছাপা হয় ‘দ্য স্ক্রোল’-এ। এই লকডাউনের মধ্যে অনাহারে আছেন সেই গ্রামের মানুষ – এটাই ছিল খবর। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করে, দুটো এফআইআর দায়ের করা হয়। গুজরাতে ‘ফেস অফ দ্য নেশন’ নামে এক নিউজ ওয়েবসাইটের সম্পাদক ধবল প্যাটেল। তিনি লিখেছিলেন, গুজরাতে কোভিড সংক্রমণ ঠিকঠাক না সামলানোর জন্য সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানিকে সরিয়ে মনসুখ মান্ডভিয়াকে আনা হচ্ছে। ব্যস, ধবল প্যাটেলের বিরুদ্ধে দাঙ্গা ছড়ানো, উসকানি দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হল, গ্রেফতার করা হল। মালয়ালম নিউজ পোর্টাল ‘আজিমুখম’-এর সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পম যাচ্ছিলেন হাথরস, হাথরসে ধর্ষিতা মহিলার বাড়ির লোকজনেদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন লেখার জন্য। তাঁকে যোগী রাজ্যের পুলিশ গ্রেফতার করে ইউএপিএ ধারায়। একজন সাংবাদিককে ইউএপিএ দেওয়া হল, তালিকা আরও অনেক লম্বা। মণিপুরের সাংবাদিক কেসি ওয়াংখেম, ওম শর্মা, এমএ গনি, অশ্বিনী সাইনি, বিশাল আনন্দ, নেহা দিক্ষিত, প্রশান্ত কানোজিয়া, মণিষ পান্ডে, সুভাষ রাই, জুবির আহমেদ। সংখ্যা ৬৭-তে দাঁড়িয়েছে। মানে বিজেপি রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত কেবল লেখার জন্য, সাংবাদিকতার জন্য ৬৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। অনুরাধা ভাসিনকে গ্রেফতার করা হলে সংখ্যাটা ৬৮ হবে। এই আর কি! টাকা দিয়ে, রাজ্যসভার পদ দিয়ে, অন্যান্য সুযোগ সুবিধে দিয়ে একগুচ্ছ পত্রিকা, টিভি চ্যানেলকে প্রায় পোষা কুকুরের মত রেখে দেওয়ার কথা বাদই দিলাম, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে ভয় পান, সে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে কীই বা বলা যায়? সেই বিজেপি শাসনে নতুন করে সাংবাদিকতার উপরে হামলা। স্বাধীন, নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের রুখে দাঁড়াতেই হবে, না দাঁড়ালে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চতুর্থ স্তম্ভ ভেঙে যাবে, গণতন্ত্র আক্রান্ত হবে।
দেখুন ভিডিও:








