Friday, March 13, 2026
HomeScrollFourth Pillar | এসআইআর এই বাংলাতে বিজেপির কবর খুঁড়ে দিয়েছে
Fourth Pillar

Fourth Pillar | এসআইআর এই বাংলাতে বিজেপির কবর খুঁড়ে দিয়েছে

এসআইআর শুনানির শিবিরগুলোতে কান পাতলে বুঝে যাবেন, কারা আসবেন ক্ষমতায়

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

সংসদীয় রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ‘ইস্যু’। হ্যাঁ, কোন ইস্যু নিয়ে কখন আপনি মাঠে নামছেন, কোন ইস্যুর পক্ষে কোন ইস্যুর বিপক্ষে। ধরুন ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’, বিজেপি এক সময়ে এই বিলের চুড়ান্ত বিরোধিতা করেছে, কংগ্রেসকে বিল পাস করতে দেয়নি, তারপরে তারাই এই বিল নিয়ে এসেছে, তারাই মহিলাদের ইস্যু তুলে ধরতে চায়, বাকিরা বিপক্ষে, একথা বলার চেষ্টা করেছে। তাই ইস্যু একই, কিন্তু যে পক্ষে ছিল সে বিপক্ষে, আর যিনি বিপক্ষে ছিলেন তিনি পক্ষে চলে যান। হ্যাঁ, অনেক সময়েই তাই হয়, সংসদীয় রাজনীতিতে তো প্রায়শই। ইস্যু একই, একজন ইস্যুর এ পক্ষে, একজন ইস্যুর ওই পক্ষে, তৃতীয় পক্ষও থাকতেই পারে, কিন্তু মানুষ একদিকেই রায় দেয়, মানে বেশিরভাগ মানুষের কথা বলছি। এমনিতে এই বাংলাতে হুদো হুদো ইস্যুতো ছিলই। ছিল তো বামেদের কাছে, বিজেপির কাছে এই সরকারের ১৫ বছরের অ্যান্টি-ইনকমব্যান্সি। ১৫টা বছর সরকারে থাকা মানে প্রতিদিন যদি দু’জন মানুষ উপকৃত হয়, তাহলে সাধারণ নিয়ম মেনেই একজন সেই উপকার পাবে না। আর এইভাবে কমে উঠতে থাকে সরকারের উপরে অনাস্থা। ১৫টা বছর কি কম কথা? আর সেসব ছাপিয়ে তারও উপরে কখনও নারদা, কখনও সারদা, কখনও অভয়া, কখনও চাকরি দুর্নীতি, কখনও বালি-কয়লা-গরু চুরির অভিযোগ। এসব তো বিরাট ব্যাপার। প্রতিটা ঢেউ আসে, আর আমাদের হিসেব কষতে হয়, মানে সাংবাদিকদের, এই ঢেউয়ে কতটা ক্ষইবে সরকারের জন সমর্থন।

এ তো গেল ক্ষয়ের গল্প, কিন্তু ১৫ বছর ধরে কেবলই কি ক্ষয়? কিছুই কি হয়নি? তাহলে তো ১৫ কেন ১০ বা পাঁচেই ‘বল হরি হরিবোল’ হয়ে যেত। হয়নি তো? তার কারণ হল উল্টোদিকেও একটা চেষ্টা চলে, সেখানে আছে লক্ষ্মীর ভান্ডার, আছে বেকারদের চাকরি, আছে বিভিন্ন ভাতা, আছে শহরের সৌন্দর্যায়ন, আছে দলের সংগঠন, আছে প্রচার যন্ত্র। আর এই টানাপোড়েনের মধ্যেই গরমের পরে বর্ষার মতো নিয়ম করে নির্বাচন আসে, পাল্লা যে ধারে ভারি হয়, হয় প্রত্যাবর্তন না হলে পরিবর্তন। কেউ তো ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ বলে সরকারের সঙ্গে লেপটে থাকবে এমন নয়। ১৯৫২ সাল থেকে নানান তিকড়মবাজি নানান শক্তি প্রদর্শন নানান জোচ্চুরি ভুয়ো ভোট রিগিং, সায়েন্টিফিক রিগিং ইত্যাদির পরেও পরিবর্তন এসেছে, আর পরিবর্তনের পরে আমরা সেই পরিবর্তনের কারণগুলো বুঝতে পেরেছি, কেউ কেউ কিঞ্চিত আগে টের পেয়েছেন। তো এবারে দেখুন বিজেপির অস্ত্র ছিল আছে থাকবে ‘হিন্দু খতরে মে হ্যায়’, ‘মুসলমানেরা মঙ্গলসূত্র, সিঁথির সিদুঁর, হাতের নোয়া কেড়ে নিয়ে যাবে’ গোছের প্রচার তো প্রধানমন্ত্রীই করেন। বিজেপির ইস্যু নরেন্দ্র মোদির বিরাট উন্নয়নের তালিকা, আছে তো তৃণমূলের দুর্নীতি ইত্যাদি। কিন্তু নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে তত ডমিনেটিং ইস্যু হয়ে উঠছে এই এসআইআর ইস্যু। কারণ এই একটা ইস্যু যেখানে ভোটারেরা সরাসরি প্রভাবিত, স্বামী না পাক তো বউ পেয়েছে, বউ না পাক তো ছেলে পেয়েছে, ছেলে না পাক তো নাতনি পেয়েছে নির্বাচন কমিশনের নোটিস, কোথাও কোথাও তো গুষ্টিশুদ্ধু পেয়েছে সেই নোটিস, আর সেটাই হয়ে উঠেছে নির্বাচনী ইস্যু। সিপিএম-এর ইস্যু বলতে ওই অভয়ার ধর্ষণ আর খুনের আন্দোলন, সে আন্দোলনের মুখেরাই এখন একে অন্যকে সংশোধনবাদী বলা শুরু করেছে, আর অভয়ার মা অমিত শাহের সঙ্গে দেখা না করতে পেরে রেগে কাঁই, ওনাদের মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সিপিএম-এর হাতে কী নেই দুর্নীতির ইস্যু, কিন্তু সেই ইস্যুকে মানুষের কাছে পৌঁছে নিয়ে যাওয়ার যন্ত্রটাই নেই, পুরো সংগঠন এখন হয় ফেসবুকে নাহলে সন্ধ্যে হলেই ঘাড়ে পাউডার দিয়ে চ্যানেলে চ্যানেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিজেপির বিপক্ষে কী আছে? সেও খুব কম নয়, পাড়ায় পাড়ায় কান পাতলেই শোনা যাবে, ‘রেখেছো বিজেপি করে মা গো বাঙালি করোনি’, কারিয়াকর্তারা যশস্বী প্রধানমন্ত্রীকে বোঝাতে পারেননি যে, জ্যোতি বসু আর মৃত বাঙালি আইকনদের নামের শেষে ‘দাদা’ বসালেই কেলো হবে। অবশ্য কেউ এই ফরমুলা দিলে উনি আবার এক্কেবারে আক্ষরিক অর্থে এটাকেই মেনে বিবেকানন্দ বাবু বলে বসতেন, কেউ ওনাদের প্রাক্তন সভাপতি নাড্ডাজিকে বলে দেননি যে, রবি ঠাকুরের জন্ম জোড়াসাঁকোতে হয়েছিল শান্তিনিকেতনে নয়, কেউ ওনাদের বর্তমান জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন কে বলে দেননি যে, রবি ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাননি, কেউ বলে দেননি যে এরকম ভুল করলে বাঙালিরা মানে মধ্যবিত্ত সংস্কৃতিবান বাঙালিরাও তাঁদের ‘শান্তির ছেলে’ বলতে বাধ্য হবে।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | ইরান হবে ভিয়েতনাম, ট্রাম্প সাহেবের মুখ পুড়বে, আরব দুনিয়ায় ইজরায়েল আবার একলা

মানে বিজেপির সমস্যা বাঙালি হয়ে ওঠা, বিজেপির সমস্যা বঙ্গ বিজেপিতে শুম্ভ নিশুম্ভের ধুন্ধুমার লড়াই লেগে যাওয়া, বিজেপির সমস্যা নব্য বিজেপি আর আদি বিজেপির স্বার্থের সংঘাত। ওদিকে সিপিএম-এর সমস্যা হল, তাদের ৩৪ বছরের ইতিহাস আর নামের পিছনে খুব বিচ্ছিরি আটা দিয়ে লাগিয়ে রাখা কমিউনিস্ট পার্টির তকমাটা, সে আজ খুলে যায় তো কাল খুলে যায়। ৩৪ বছরের সেই সর্বগ্রাসী সংগঠন আজও মানুষের মাথায় আছে, সেই মানুষ তাদের জায়গা দিতে রাজি নন, আর সংসদীয় গণতন্ত্রে হড়কে গেলে আবার নিজেকে তুলে ধরা এক কঠিন ব্যাপার, সেটা করতে হলে নিজের খোল নলচে বদলে ফেলতে হয়, কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টির স্লোগানই তো হল ‘হাম নহি বদলেঙ্গে’, ‘দুনিয়া বদলে যাক, আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকব’। এখনও সিপিএম-এর কর্মসূচিতে কংগ্রেস হল দেশের পুঁজিপতি জমিদার অবশেষের প্রতিনিধি, যাদের সরানোর জন্য এক জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবই তাঁদের আপাতত লক্ষ, তারপরে তো ‘আসলি বিপ্লব’ ইত্যাদি। এদিকে এসব কর্মসূচিতে থাকার পরেও সিপিএম কংগ্রেসের হাত ধরেছে, হাত ছেড়েছে, ধরেছে, ছেড়েছে। ধরার সময় বাম ও গণতান্ত্রিক জোটের কথা বলেছে, ছাড়ার সময়ে বাম ঐক্যের কথা বলেছে। এসব কথা কেন বলছি? বলছি এই জন্য যে, নির্বাচনের আগে বহু এমন ফ্যাক্টর এক রাজনৈতিক দলের পক্ষে আর বিপক্ষে কাজ করতে থাকে, মানে কোনওদলই ধোওয়া তুলসীপাতা হয়ে নির্বাচনে নামে না, আর সেই পক্ষে বিপক্ষের তুল্যমূল্যের হিসেবেই নির্বাচনে জয় পরাজয় আসে। প্লাস সংগঠন। আপনার পক্ষে বহু কিছু আছে, কিন্তু আপনার সংগঠন নেই, তাহলে আপনি রাঙামুলো বা সোনার পাথরবাটি। তো ২০২৬-এর নির্বাচন আসতে আসতে এই এসআইআর-এর ইস্যু এক্কেবারে ডমিনেন্ট হয়ে দাঁড়াল, সব পক্ষের কাছেই এই এসআইআর এক ইস্যু, মানুষের কাছেও এ এক জ্বলন্ত সমস্যা। আগেও বলেছি আবার বলছি, এমন একবারও ভাববেন না যে, সাধারণ মানুষ ভোট না দিতে পেরে ‘রাধার বিহনে কী হইলো গো সর্বাঙ্গে ব্যাথা বা জাগরণে যায় বিভাবরী’ এমন কিন্তু নয়, বরং বেশিরভাগ মানুষ এখন বুঝেই ফেলেছে যে, এই নির্বাচন একটি আস্ত তামাশা, এক প্রকান্ড ঠাট্টা বা প্রবঞ্চনা। কিন্তু তাঁরা ভোট দেন, প্রতিবার হয়তো দিন বদলাবে, হয়তো কিছু সুরাহা হবে এই ভেবে। কিন্তু এই এস আই আর তো কেবল ভোটের নয়, কেবল নিজেরও নয়, আজ তালিকাতে নাম না থাকলে নাগরিকত্ব নিয়ে টানাটানি হবে, আগামী প্রজন্মের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কাজেই মানুষ পরেশান, মানুষ আশঙ্কায় ভুগছে, মানুষ চিন্তিত, মানুষ মারা যাচ্ছেন, মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। কাজেই সব কিছুকে ঢেকে দিয়ে এই এসআইআর ইস্যু এসেছে আমাদের সামনে, সাধারণ মানুষের সামনে। কে আনল? সবাই জানে যে, এটা বিজেপির থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মাথা থেকে বের হয়েছে আর এই মুহূর্তে সেই থিঙ্ক ট্যাঙ্কের ইচ্ছে অনুযায়ী এসআইআর-এর প্রক্রিয়াতে নানান নতুন নতুন জিনিসপত্র নিয়ে হাজির করা হচ্ছে, সর্বশেষ আমদানি, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার মেসেজ, কিছু হিন্দুদের নাম কাটা গিয়েছে ঠিকই কিন্তু এবারে আমাদের টার্গেট মুসলমানেরা। কাজেই প্রথমেই এই লড়াইকে আমরা দু’টো ভাগে ভাগ করে নিতে পারি- (১) এসআইআর-এর পক্ষে, (২) এসআইআর-এর বিপক্ষে। পক্ষে থাকাটা জরুরি ছিল না কিন্তু পাকেচক্রে এসআইআর এখন বিজেপির, বিশেষ করে বঙ্গ বিজেপির পলিটিক্যাল এজেন্ডা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বিপক্ষে বাকি সবাই। কাজেই বিজেপির এই এসআইআর-এর বাড়াবাড়ি আর এক যুক্তিহীন কাজ দেখে ভোটারদের এক বড় অংশ বিজেপির বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে, এমনকি যাঁরা গতবারেও ভোট দিয়েছে বিজেপিকে, তাঁদেরও এক অংশ এবারে ওই লাইনে দাঁড়িয়েই অন্য সুরে কথা বলছেন। তার কারণ এই আহাম্মকিপনা কেন হঠাৎ এত জরুরি হয়ে পড়ল, তা বিজেপি একবারের জন্যও বুঝিয়ে উঠতে পারেনি।

এবারে অন্যদিকে আসুন, রাজ্যজুড়েই এই প্রক্রিয়া চলছে, প্রথমে মমতা এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে, নিজে সওয়াল করে এই বিরোধীতার চ্যাম্পিয়ন হয়েই গিয়েছেন, সিপিএম যেদিন মমতা গেলেন সেদিনে ‘এ তো নাটক’, ‘এ তো লোক দেখানো’ ইত্যাদি বললেন, একবারও সেদিনে বললেন না যে, তাঁদের একজনই তো সেই দিনের পিটিশনার ছিলেন, সেদিন তাঁর পক্ষে কে ছিল সর্বোচ্চ আদালতে? কেউ না। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে তাঁদের টনক নড়েছে, এয়ারপোর্ট থেকে দিল্লিতে নীলোৎপল বসুকে নিয়ে, মোস্তারি বানুকে সামনে রেখে সাংবাদিক সম্মেলন করা হলো। হ্যাঁ, মঙ্গলবারে গণশক্তির প্রথম পাতায় সিপিএম উকিল সাহেবদের সঙ্গে তার ছবিও ছাপা হল, কিন্তু সেদিন? সেদিন ওই উকিলবাবুরা কোথায় ছিলেন? ইন ফ্যাক্ট তার আগের দিনেও যখন বলা হচ্ছে, মমতা নিজেই থাকতে পারেন সওয়াল করতে সেদিন গণশক্তিতে একবারও বলা হয়েছিল এই মোস্তারি বানুর কথা? হয়নি। কাজেই ওই লড়াইয়ে মমতা যোজন খানেক এগিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু সেটাও বড় কথা নয়, এটা বহু মানুষের চিন্তা, আশঙ্কা, হয়রানি, এক কোটির বেশি মানুষ নোটিস পেয়েছেন। গিয়ে দেখেছেন সেই সব এসআইআর ক্যাম্পে? কারা আছে? ঠিক যেমন প্রথম পর্যায়ে ‘আপনার নাম কোথায় আছে মাসিমা দেখে দিচ্ছি’, ‘ও মেশোমসাই আসুন ভোটার লিস্ট ২০০২-এর এখানে আছে’, কাউন্সিলরেরা, পঞ্চায়েতের নেতারা ২০০২-এর লিস্ট নিয়ে বসে আছেন যেন সাক্ষাৎ মুসকিল আসান, হ্যাঁ, হাজির ছিল তৃণমূল কর্মীরা, এবারেও তাঁদের উপস্থিতিকেই আগে নিশ্চিত করেছে তৃণমূল, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ওই রাজনৈতিক প্রতিনিধি বিএলএ-রা শুনানির সময়ে থাকতে পারবে, ছোট্ট রায়, কিন্তু এই রায় তৃণমূলের পক্ষে কতটা কাজ করছে একবার এলাকার ওই শিবিরগুলোতে যান, যেখানে শুনানি হচ্ছে, বুঝতে পারবেন। শতরুপ নীতি নৈতিকতার পাঠ তাকে তুলে কীভাবে কমিউনিস্ট পার্টি করতে হবে সেটা শেখাচ্ছেন, বাকিরা সন্ধ্যে হলেই কলতলার ঝগড়াতে, আর সারাদিন অনায়াস বিদগ্ধ চর্চায় ফেসবুকে, শাণিত যুক্তি আর তীক্ষ্ণ মেমে নিয়ে হাজির। শিবিরে দুলাল, যিশু, কেলে মদন, হুমদো বুকাই, ঢ্যাঙা প্রদীপেরা মাসিমা মেশোমশাইকে নিয়ে গিয়ে শুনানিতে সামিল। হ্যাঁ, এক বিন্দু মিথ্যে বলছি না, চলে যান যেখানে শিবির হচ্ছে, ৮০ শতাংশ শিবিরে একমাত্র তৃণমূল হাজির। শুনেছি ৭৮-এর সেই বন্যার সময়ে সালতিতে করে খিচুড়ি নিয়ে এসেছিল কারা, সব্বাই ছিল সিপিএম-এর ক্যাডার, পাঁড় কংগ্রেসী ঘরের লোকজন হাতজোড় করে বলেছিল, ‘লাগবে না বাবা, যাঁদের দরকার আছে তাদের দাও, ইশ্বর তোমাদের মঙ্গল করুক’, এক্কেবারে সেই ছবি, এক বেশ প্রবীণ অবসরপ্রাপ্ত জয়েন্ট বিডিও সাহেব, সঙ্গে স্ত্রী, এক নাছোড়বান্দা তৃণমূল কর্মী, বিএলএ, তাঁদের সাহায্য করবেই, মানুষটি বলছেন, ‘আমি আমারটা সামলে নিতে পারব ভাই, আপনি বরং ওই ওদের দেখুন, থ্যাঙ্ক ইউ, আপনি সাহায্য করবেন বলেছেন ধন্যবাদ’।

হ্যাঁ, এটাই বাস্তব ছবি। রেজাল্ট হাতে এসে যাওয়ার পরে জোট হলে আরও সাতজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হত না- এই চিন্তা যখন মাথায় ঘুরবে কমরেডগণ তখন মনে রাখুন রাজনীতিটা আপনারাই মাঠে নেমে করতে শিখিয়েছিলেন। আজ আপনারা ভুলে গেলেও আপনাদের আর্ক রাইভাল তৃণমূল সেটাকে রপ্ত করে ফেলেছে, আপনারা বসে আছেন। হ্যাঁ, এই মুহূর্তে এসআইআর ২০২৬ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ইস্যু, এই এসআইআর-এর ফলে যদি মানুষের গণহারে নাম কাটা যায়, সেটা আগামী দিনে আরও বড় ইস্যু হয়ে উঠবে। সেটা হবে কী না, তা তো ফাইনাল ভোটার লিস্ট বের হবার পরেই বলা যাবে। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত এসআইআর-এর সমস্ত ক্ষীর আপনি চান বা না চান, তৃণমূল খেয়ে গিয়েছে। হ্যাঁ, ‘মুসলমানেদের নাম কাটার চেষ্টা করেছি’, ‘ওরা তো আসলে ঘুসপেটিয়া’- এসব বলে বিজেপি তার কোর ভোটকে তো হাতে রাখবে, কিন্তু বামেদের এই এসআইআর হয়ে উঠতেই পারত। কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর হাতিয়ার, তাঁরা শুরু থেকেই বিষয়টাকে এক প্রতিকী ব্যাপার হিসেবে ডিল করেছেন। ভাবা যায়, কমরেড সুজন চক্রবর্তীর মতো নেতা জিজ্ঞেস করছেন, যখন তামিলনাড়ু বা কেরল রাজ্য বিধানসভাতে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস করাল, তখন তৃণমূল কেন করল না? একবারও ভেবেছেন, আস্তিনে কোন প্যাঁচটা নিয়ে মমতা ঘুরছিলেন? সেই কবেই ঠিক হয়েছিল উনি যাবেন সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে, মানুষকে যদি এটাই বোঝাতে হয় আমি এসআইআর-এর লড়াইয়ের সময়ে আপনাদের পক্ষে ছিলাম, তাহলে সেটাই তো সবথেকে জরুরি পদক্ষেপ ছিল, যা আপনাদের বিব্রত করেছে, গোটা দেশ বলছে, ‘হ্যাঁ পারেন মমতা’। একজন সাংবাদিক হিসেবে বলব, বাকিদের একটু শিবিরগুলো ঘুরে দেখুন, আপনাকে ওই সমীক্ষা ইত্যাদি করতে হবে না, এখনও, হ্যাঁ এখনও এসআইআর শুনানির শিবিরগুলোতে কান পাতলে বুঝে যাবেন, কারা আসবেন ক্ষমতায়। হ্যাঁ খোকা তো গেল মাছ ধরতে, কোলা ব্যাং যা করার করল, কিন্তু মাছ আসলে কে পেল সেটাই তো কথা।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News

evos gaming

https://rendez-vous.benin-ambassade.fr/profil-d/ https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 DEPOBOS idn poker 88 situs slot gacor https://www.demeral.com/it/demeral_software/ BWO99 slot 5000 poker situs slot gacor joker toto slot maxwin slot maxwin situs bola BANDAR80 WATITOTO LGO188 DEPOBOS https://www.demeral.com/it/podcast bandar togel