রাজার ঘুম ভাঙিল, আড়ামোড়া খাইল, রাতে ভিজিয়ে রাখা মেথি মৌরির জল খাইল। জানলা দিয়ে তাকাইয়া দেখিল, সূর্য প্রায় মধ্যগগনে, দার্জিলিং চা আসিল, পটল বিস্কুট ডুবাইয়া, চা খাইয়া, রাজা বলিল, ‘কাল প্রজাগণের ঘরে ঘরে তিন শত স্বর্ণ মুদ্রা পাঠানো হইবে, ঘোষণা করিয়া দাও’, ঘোষক, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ হুজুর’ বলিয়া প্রস্থান করিল। মন্ত্রী বলিল, ‘রাজামশাই স্বর্ণমুদ্রা কি মলমলের কাপড়ে না ভেলভেটে থলিতে যাইবে? রাজা বলিল, ‘মলমল’। মন্ত্রী আবার শুধাইল, ‘সাদা না লাল?’, রাজা বলিল, ‘গেরুয়া’, সঙ্গে সঙ্গে গান বাজিল ‘মোহে রংগ দে তু গেরুয়া’। রাজা শুইয়া পড়িলেন। মন্ত্রীর নব নিযুক্ত অ্যাসিসট্যান্টেরর চোখ ততক্ষণে কপালে। সে অবাক! শুধাইল, ‘স্যার, এত টাকা কি কোষাগারে আছে?’, মন্ত্রী হাসিল, কহিল, ‘খেয়ালের পোলাও তে খেয়ালের ঘি ঢালিবে’, ইহাই প্রথম পাঠ। নব্য শিক্ষার্থী কহিল, ‘রাজামশাই এর ঘুম ভাঙিলে যদি শুধোয়?’, মন্ত্রী গোঁফে হাত দিল, মুচকি হাসিল। রাজা মশাই এ নিয়া আর কোনও উচ্য বাচ্য করিবে না। ইহা ঘোষণা মাত্র। এ ছিল রুপকথা। হবুরাজা, গবুমন্ত্রীর রুপকথা। কিন্তু ২০১৪ থেকে সেই রাজাই আমাদের ‘পরধান সেভক’ বনে বসে আছেন। বিশাল বিশাল ঘোষণা দেন, তারপর তা বিলকুল ভুলিয়া যান। তিনি আগের করা ঘোষণা নিয়ে একটা কথা বলাও পছন্দ করেন না। তিনি একটি ঘোষণা করবেন, যেদিন থেকে সেই ঘোষণা নিয়ে কথা বন্ধ হবে, জেনে রাখবেন সেদিন থেকেই সেই ঘোষণার গঙ্গাযাত্রা, শ্রাদ্ধশান্তি হয়ে গিয়েছে। কিছু ঘোষণা ঘোষণাতেই শেষ, কিছু ঘোষণা হামাগুড়ি দিয়ে চলতে চলতে হারিয়ে যাবে। হারিয়ে গিয়েছেন বুঝবেন কীভাবে? যেদিন আমাদের চওকিদার সাহেব সেই ঘোষণা নিয়ে কথা বন্ধ করবেন, রা মাত্র কাড়িবেন না, সেদিনই জানবেন সে ঘোষণার পরিসমাপ্তি। ধরুন ওনার প্রথম ঘোষণা, ‘সবকে খাতে মে ইউঁহি পনদ্র পনদ্র লাখ অ্যা যায়েঙ্গে’, প্রতিটা জনসভায় বলে যাচ্ছেন, প্রতিটা জনসভায় উচ্চকিত ঘোষণা। লাখ টাকাই স্বপ্ন যাঁদের, তাঁরা ভাবছে পনেরো লাখ, উরিব্বাস, সাব্বাশ। ভোট শেষ, চোখে জল নিয়ে সাষ্ঠাঙ্গ প্রণাম করে সেই যে তিনি লোকসভায় ঢুকলেন, তারপর থেকে আর শুনেছেন? শুনেছেন ওনার মুখে ‘পনদ্র লাখ’-এর গপ্পো? ওটি ছিল বিশুদ্ধ ঘোষণা। বছর শেষে তালি বাজিয়ে নোটবন্দি, ‘কালে ধন কে খিলাফ জঙ্গ, আজ রাত আট বজে কে বাদ’, ১৬ হজার কোটি টাকার ক্যাশ উবে গ্যালো, লক্ষ লক্ষ মানুষের দুর্গতি, অর্থনীতির সেই যে শুরু পতনের তা আজও অব্যাহত। কয়েকমাস পরেই তিনি ওই নোটবন্দি নিয়ে কথা বলা বন্ধ করলেন, আর শুনেছেন ওনার মুখে নোটবন্দি নিয়ে একটাও কথা? অ্যাট লিস্ট ভুল হয়ে গিয়েছে টাইপের কথা? ক্ষেপেছেন, ‘চায়ওলা পরধান সেভক’ কেবল ঘোষণা দেবেন, শুনবিস শুনবিস, না শুনবিস না শুনবিস, খেলবিস খেলবিস, না খেলবিস তো না খেলবিস। কেবল ঘোষণা নয়, ঘোষণার কায়দাবাজিও অনবদ্য।
পৃথিবীর কোনও দেশ মধ্যরাতে সংসদের অধিবেশন ডেকে প্রশাসনিক ঘোষণা করেছে? একটা উদাহরণ? একটাও নেই। উনি জিএসটি-র ঘোষণা করলেন রাত বারোটায় সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে। দেশে অনেক রকমের ট্যাক্স আছে আজ থেকে একটাই ট্যাক্স। তার ঘোষণা মাঝরাতে। কেন? কারণ নেহেরু মাঝরাতে দেশের স্বাধীনতা এল, তার ঘোষণা দিয়েছিলেন, ওনাকে নেহেরু হতে হবে, তাই মাঝরাতে। কে বোঝাবে যে দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে এক নিছক প্রশাসনিক ঘোষণাকে একভাবে দেখা যায় না। স্বাধীনতা আন্দোলনের বিশ্বাসঘাতকদের উত্তরাধিকারী স্বাধীনতা আর জিএসটি-র ঘোষণা কে এক করে দেখবেন, স্বাভাবিক। আবার কিছুদিন পরে আবার ঘোষণা। ‘সবকা ঘর হোগা’, আরও কতকিছু নাকি হোগা, ‘কল হোগা’, ‘জল হোগা’, ‘লাইট হোগা’, ‘বাল্ব হোগা’, ‘টয়লেট হোগা’। কব হোগা? নিজেই জানিয়েছিলেন, ‘দো হাজার বাইশ কে অন্দর হোগা’। তো কেয়া হুয়া? হুক্কা হুয়া! ২০২২-২৩-২৪-২৫ পার করে ৩১ ডিসেম্বারের মোচ্ছব পার করে আমরা ২০২৬-এ ঢুকে পড়েছি, হোলিও পার হয়ে গেল। এখন মোদিজির নতুন ঘোষণা, ‘২০৪৭-এ সবকা ঘর হোগা’, আগামী বছর থেকেই এই ঘোষণা আর শুনতেই পাবেন না, গোলপোস্ট সরে যাবে, আরও দূরে, মেসি, নেইমারের আন্দাজের বাইরে, আপনি তো দুধুভাতু, নাগরিক কিনা, তাই জানেন না। বুলেট ট্রেন? শিনজো আবের কথা মনে আছে? সে বুলেট ট্রেনের বিজ্ঞাপন, মোদিজির সহাস্য মুখ। টার্গেট ২০২১। ট্রেন চলা বাদ দিন, ট্রেনের লাইনও পাতা হয়নি। আপাতত মোদিজি বুলেট ট্রেন নিয়ে একটা কথাও বলছেন না। তার জায়গায় বন্দে ভারত, রেলমন্ত্রী নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনিই ঝান্ডা দেখাচ্ছেন, এই সেদিন বাংলার পরে হায়দ্রাবাদে, সামনে নির্বাচন, বন্দে ভারতের গাড়িকে হরা ঝান্ডা দেখালেন মোদিজি। এরই মধ্যে বন্দে ভারতকে আগের রেলগাড়ির বন্ধ রেখে বুকিং বাড়াতে হচ্ছে। প্রতিটা বন্দে ভারত লেটে চলছে, টিকিটের দাম আড়াই তিনগুন। কদিন পরে নিশ্চিত এ নিয়ে মোদিজি একটা কথাও বলবেন না, বুঝবেন বন্দে ভারত বন্ধের মুখে, নতুন কোনও প্রকল্প চালু হবে। ‘নিউজ এয়র ডট গভ ডট ইন’, আকাশবাণীর সাইট, সেখান থেকেই বলছি, মোদিজির ঘোষণা, আইআইটি হায়দরাবাদে অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং আর হস্টেল বিল্ডিংয়ের জন্য ২৫০০ কোটি টাকা স্যাংশন করা হয়েছিল। ভাবুন দুটো বিল্ডিং, হোক না আইআইটি-র, ২৫০০ কোটি টাকার দুটো বিল্ডিং? চমকাবেন না, এ তো ঘোষণা, স্বপ্নের পোলাওতে কল্পনার ঘি একটু বেশি পড়েছে, এই তো।
আরও পড়ুন: Fourth Pillar | এসআইআর এই বাংলাতে বিজেপির কবর খুঁড়ে দিয়েছে
তো সেই নরেন্দ্রভাই দামোদরদাস মোদিজির এক দারুণ ঘোষণা ছিল, উজ্জ্বলা গ্যাস যোজনা, রাস্তায় এর হলেই বিরাট বিরাট হোর্ডিং, মোদজির সহাস্য মুখ, উজ্জ্বল চেহারা, উজ্জ্বলা গ্যাসের গুলগল্পের প্রচার। আসুন আজ সেই ঘোষণার গঙ্গাযাত্রার গল্প শোনাই। ২০১৬-র মে মাসে ঘোষণা হয়েছিল ৩ বছরের মধ্যে বিপিএল তালিকা থেকে ৫ কোটি মহিলাকে ১৬০০ টাকা দেওয়া হবে, তাঁরা এ দিয়ে একটা গ্যাস স্টোভ, কনেকশন আর একটা সিলিন্ডার কিনবেন। এর সঙ্গে সহজ কিস্তিতে একটা হট প্লেট কিনতে পারবেন। প্রথমে ৫ কোটি বলা হল, তারপর সেটা বাড়িয়ে ৮ কোটি করা হল, ১২ হাজার আটশ কোটি টাকা এই প্রকল্পে খরচ হবে, মাথায় রাখুন ১২,৮০০ কোটি টাকা। কাঠকুটো জ্বালা বন্ধ হবে, পরিবেশ বাঁচবে ইত্যাদি ইত্যাদি। ততদিনে প্রধানমন্ত্রীর দাঁড়ি বেড়েছে, প্রত্যেক রাস্তার মোড়ে সেই ছবিই আমরা হোর্ডিংয়ে দেখলাম। আর শেষ কবে এই যোজনা নিয়ে সরকারি স্তরে ঘোষণা শুনেছেন? প্রতি নির্বাচনের আগে এই উজ্জ্বলা যোজনার কথা শুনতে পান বটে, কিন্তু তা সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে যেখানে শুরু হয়েছিল। সেই ২০২১ থেকে এই উজ্জ্বলা যোজনার নথিভুক্ত মানুষের সংখ্যা কমবেশি ১০ কোটিতেই দাঁড়িয়ে আছে, শুধু তাই নয় ২০১৯ থেকে আজ অবধি এই যোজনায় রেজিস্টার্ড মানুষজন বছরে তিন থেকে চারটের বেশি সিলিন্ডার কিনতে পারেননি। অন্যদিকে সাধারণ কনজিউমারেরা গড়ে ৬-৭ টা সিলিন্ডার কেনেন। আসুন কিছু তথ্য দেখা যাক। ২০১১ থেকে এই সাবসিডাইজড আর নন সাবসিডাইজড মানে ভর্তুকি ছাড়া আর ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডারের দামটা দেখে নেওয়া যাক। তার আগে বলে নিই, সরকার ভর্তুকি ছাড়া কিনতেন, সাধারণ মানুষকে ভর্তুকি দিয়েই বিক্রি করা হত, আপনি আমি কিন্তু ভর্তুকি দেওয়া দামেই গ্যাস সিলিন্ডার কিনতাম। ২০১১ জুলাই মাস ভর্তুকি ছাড়া গ্যাস ৭১০ টাকা, ভর্তুকি দিয়ে ৩৯৯ টাকা। ২০১২ নভেম্বরে ভর্তুকি ছাড়া ৯২২ টাকা, ৪১০ টাকা ভর্তুকি দিয়ে। ২০১৩ ডিসেম্বর ১০২১, আর ৪১০ টাকা। ২০১৪ জানুয়ারি ১২৪১, আর ৪১৪ টাকা। ২০১৫ ফেব্রুয়ারি ৬০৬ টাকা, আর ৪৫২ টাকা। ২০১৬ ডিসেম্বর ৫৮৪ টাকা আর, ৪৩২ টাকা। ২০১৭ ডিসেম্বর ৭৪৭ টাকা আর, ৪৯৫ টাকা। ২০১৮ ডিসেম্বর ৮০৯.৫০ টাকা, আর ৫০০.৯০ টাকা। ২০১৯ ডিসেম্বর ৬৯৫ টাকা আর, ৪৯৫ টাকা। ২০২০ জুলাই ৫৯৪ টাকা, ২০২০ মে থেকে ভর্তুকি বন্ধ। জুন ২০২০-তে সাবসিডি ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ছিল ৫৮১ টাকা ৫০ পয়সা, এখন দাম হয়েছে ৯৩৯ টাকা। হ্যাঁ, বিপিএল’ই হও আর এপিএল, ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম আজ ৯৩৯ টাকা। কিনবিস কিনবিস, না কিনবিস তো না কিনবিস, হাততালি। গরীবের রোজগার কমেছে, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে, গৌতম আদানি গ্যাস সিলিন্ডার কিনছেন ৯৩৯ টাকা দিয়ে, নাত্থুলাল ও ওই ৯৩৯ দিয়েই। নাত্থুলালের ঘরে খালি গ্যাস সিলিন্ডারের উপর এখন কাপড় শুকোনোও হয়।
২০১৩-তে ছিল মনমোহনের সিংয়ের ইউপিএ সরকার, এমন নয় যে তারা সমাজতন্ত্র আনার চেষ্টা করছিলেন, খোলাবাজার আর পুঁজির স্বাধীন গতির কথা বলা মনমোহনের সরকার বা কংগেস সেদিনও এই গ্যাসে সাবসিডি বা ভর্তুকি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, কারণ কেবল ২০১৩-র’ই হিসেব দেখুন- সরকারের একটা সিলিন্ডারের খরচ ছিল ১০২১ টাকা, ভর্তুকি দিয়ে বিক্রি হত ৪১০ টাকায়, মানে সরকার কমবেশি ৬০০ টাকা ভরতুকি দিতেন। হিসেব বলছে সরকার মাসে ৮,৪০০ কোটি টাকা, বছরে ১,০০,৮০০ কোটি টাকা এই ভর্তুকির জন্য ব্যয় করতেন। এইবার মোদিজি মাঠে আনলেন উজ্জ্বলা যোজনা, এর সঙ্গেই ভর্তুকি তুলে দেবার লক্ষ্য। দাঁড়াল কী? ২০১৬-১৭-তে মোট ভর্তুকি ছিল ১৫,৯০৪ টাকা, ২০১৭-১৮-তে ২৩,৪৬৪ টাকা, ২০১৮-১৯-এ ৩৭,২০৯ টাকা, ২০১৯-২০-এ ২৪,১৭২ টাকা, ২০২০-২১-এ ১১,৮৯৬ টাকা, ২০২১-২২-এ ১,৮১১ টাকা, ২০২২-২৩-এ ৬,৯৬৫ টাকা, মানে এলপিজি ভর্তুকিতে সরকারের মোট ব্যয় ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে ৩৭,২০৯ কোটি থেকে কমে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে মাত্র ৬৯৬৫ কোটিতে নেমে আসে। মানে সরকার আম আদমির জ্বালানীর জন্য টাকা খরচ করবে না। আপনি বলতেই পারেন যে সরকার এই ভর্তুকির অর্থ দেশের পরিকাঠামো, শিক্ষা স্বাস্থ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যয় করবে, তারা সে সবের টাকা কোত্থেকে পাবে? তাহলে দেখুন এই মোদি সরকারের কীর্তি। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত শুধুমাত্র বড় শিল্পের জন্য প্রায় ৯.২৭ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ মুকুব করা হয়েছে করা হয়েছে। ২০১৮-১৯: ১,৪৮,৭৫৩ কোটি, ২০১৯-২০: ১,৫৯,১৩৯ কোটি, ২০২০-২১: ১,২৭,০৫০ কোটি, ২০২১-২২: ৬৯,৫৩২ কোটি, ২০২২-২৩: ১,১৪,৫২৮ কোটি, ২০২৩-২৪: ৬৮,৩৬৬ কোটি। হ্যাঁ, এটাই এই সরকারের আসল চেহারা। এটাই তাদের ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’। গৌতম আদানি আর নাত্থুলালের গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক, এবং হিসেব বলছে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ওই উজ্জ্বলা যোজনার ভর্তুকি পাওয়া ১ কোটির বেশি সুবিধাভোগী মাত্র একবার রিফিল কিনেছেন, মানে প্রথমটা ফ্রি, তারপর একটা কিনতে পেরেছেন। আর একটাও কেনেননি কতজন? তথ্য বলছে, এই সংখ্যাটা হল ১.৮৭ কোটি, মানে প্রথমটা ফ্রি পেয়েছিলেন, তারপর থেকে একটাও কেনেননি। আসলে মোদিজি এসে খুব সুনির্দিষ্টভাবেই পরিকল্পনামাফিক শিল্পপতিদের ভর্তুকি বাড়িয়েছেন, বিভিন্ন ঋণ মাফ করা হয়েছে, আর সাধারণ গ্যাস ব্যবহারকারীদের সংখ্যার খুব ছোট্ট এক অংশকে ভর্তুকি দেওয়া সিলিন্ডার দেবার কথা বলে বাকি কমবেশি ২০ কোটি মানুষের সিলিন্ডারের দামের উপর থেকে ভর্তুকি তুলে নিয়েছেন, আর ঠিক সেই জন্যই আমরা ২০১১ জুলাই মাস ভর্তুকি ছাড়া গ্যাস ৭১০ টাকা, ভর্তুকি দিয়ে ৩৯৯ টাকায় কিনেছি, আজ ভর্তুকি ছাড়া সেই গ্যাস কিনছি ৯৩৯ টাকায়। এটাকেই বলে ‘মোদি ম্যাজিক’। বিরাট প্রচার হল, মোদিজি উজ্জ্বলা যোজনা চালু করেছেন, খুব কমদামে গরীব মানুষজন গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে পারবেন ৬৩৯ টাকায়, যা তাঁরা কিনতে পারছেন না, আর মধ্যবিত্ত মানুষজন যে ভর্তুকি পেতেন তা তুলে দিয়ে সেই গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এখন ৯৩৯ টাকা। এটাকেই গোদি মিডিয়া বলে ‘মোদি ম্যাজিক’, আমরা বলি ‘পিওর ধাপ্পাবাজি’।
দেখুন আরও খবর:








