Sunday, August 31, 2025
HomeScrollFourth Pillar | ১০টা বোমা, যা মমতা ছুঁড়লেন বিজেপির দিকে, হ্যাঁ এগুলোই...

Fourth Pillar | ১০টা বোমা, যা মমতা ছুঁড়লেন বিজেপির দিকে, হ্যাঁ এগুলোই ২৬-এর নির্বাচনের ইস্যু

২০২৬ সালের নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক নতুন রাজনৈতিক ন্যারেটিভের জন্ম দেবে!

এবারের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের জমায়েত, শ্লোগান, ব্যবস্থা- সবকিছুই বলে দিচ্ছে যে, এটা অন্য বছরের মত কেবল একটা গতানুগতিক রাজনৈতিক আয়োজন নয়, এটা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের খুঁটিপুজো বা বলা যায় আগমনী বার্তা, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এই সমাবেশ থেকে মুখ্যমন্ত্রী কার্যত ২০২৬-এর ঢাকে কাঠি দিলেন এবং ঘোষণা করলেন, “২০২৬ সালেও মা-মাটির আশীর্বাদে নবান্নের ১৪ তলায় সিঁড়ি দিয়ে হাওয়াই চটি উঠবে, কোনও দিল্লির বাবুর বুট সিঁড়ি দিয়ে উঠবে না।” হ্যাঁ, চটি নিয়ে এমন রসিকতাকে আমরা ‘মুহতোড় জবাব’ বলতেই পারি। এই মেসেজটা প্রতীকী, যা স্পষ্ট করে দেয় যে, আগামী নির্বাচন কেবল দুটো রাজনৈতিক দলের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং ‘ভূমিপুত্র বনাম বহিরাগত’ এবং ‘বাংলার স্বাভিমান বনাম দিল্লির হস্তক্ষেপ’-এর এক আইডিয়ার লড়াই। আমি আদর্শ বা দর্শনের লড়াই বলছি না, সেই অর্থে ব্রাত্য বসু যাকে মমতাবাদ বলেন, তা হল কিছু ছেঁড়া ছেঁড়া চিন্তা ভাবনা, যা ক্রমশ একটা নয় বেশ কিছু ন্যারেটিভ তৈরি করছে। সেই ন্যারেটিভগুলোই আগামী কুরুক্ষেত্রের ব্রহ্মাস্ত্র। মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০টা মূল ইস্যুর কথা বললেন, যা এক বিচ্ছিন্ন অভিযোগের লম্বা লিস্ট নয়, বরং বিজেপির বিরুদ্ধে এক সুসংহত এবং মমতাসূলভ আবেগ মাখানো ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা। প্রতিটা ইস্যু একটা করে ‘তীর’ বা বোমার মতো কাজ করবে, যা বিজেপির শক্তিশালী আক্রমণের জায়গাগুলোকে ভোঁতা করার চেষ্টা করবে, প্রতিরোধগুলো ভাঙবে। আর তার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূলের নিজস্ব দুর্বল দিকগুলোকেও আড়াল করার দিকটাও মাথায় রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রথম তীর: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ডাইরেক্ট বেনিফিসিয়ারি তৈরির যাবতীয় কোট আনকোট জনমুখী প্রকল্পের জয়গাথা। মমতার বক্তৃতায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘সবুজ সাথী’ এবং ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’-এর মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। হ্যাঁ, এটাই ফার্স্ট ওয়েপন। এই প্রকল্পগুলো তো শুধু জনকল্যাণমূলক কাজ নয়, এগুলোই তৃণমূলের মূল ভোটব্যাঙ্ক, মহিলা ও তরুণ প্রজন্মকে ধরে রাখার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পটা সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিয়ে রাজ্যের মহিলাদের কাছে তৃণমূলকে এক নির্ভরযোগ্য সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে কী না জানি না, কিন্তু মহিলারা এই প্রকল্পকে মাথায় রেখেই বুথে আসছেন, তা সবাই জানে, বিজেপিও জানে, সিপিএমও জানে। একইভাবে, ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্প, নাইন থেকে টুয়েল্ভ ক্লাসের ছাত্রদের সাইকেল দেওয়া। দিল্লির সরকারের তথ্য বলছে, এই প্রকল্প শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার বাড়াতে সাহায্য কছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় কোটি ছাত্র ছাত্রী সাইকেল পেয়েছে। বিজেপি বারবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকেই সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দমদমের জনসভায় এসেও বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো অর্থ তৃণমূলের ‘ক্যাডারদের’ পকেটে চলে যায়। মমতা এই অভিযোগগুলোকেই জনকল্যাণের বিরুদ্ধে বিজেপির আক্রমণ হিসেবে তুলে ধরছেন, সেই অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন ক্যাডারদের হাতে। এই হল একধরনের ‘আর্থিক সুরক্ষা’ বনাম ‘নৈতিক অবক্ষয়’-এর লড়াই। সাধারণ মানুষের কাছে যখন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা সরাসরি পৌঁছয় বা তাঁদের সন্তান ‘সবুজ সাথী’র সাইকেল পায়, তখন দুর্নীতির অভিযোগ তাদের কাছে গৌণ হয়ে যেতে পারে। তৃণমূল দুর্নীতির মতো বিমূর্ত ইস্যুর চেয়ে জনগণের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া প্রকল্পগুলোকে এক ‘হার্ড ফ্যাক্ট’-এ বদলে দিতে চাইছে। ওরা আমাদের দুর্নীতিবাজ বলছে, তুমি ‘কন্যাশ্রী’র টাকা পাচ্ছ কী না? তুমি সাইকেল পেয়েছো কী না? তুমি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা পাচ্ছ কী না? হ্যাঁ, এটাই অস্ত্র, তুমি দুর্নীতির কথা বলতে থাকো, আমরা পাওনা গন্ডার হিসেব বুঝিয়ে দেব। মানে এই খেলাতে তৃণমূল নৈতিক বিতর্কের চেয়ে জনসমর্থনের দিকটাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

দ্বিতীয় তীর: ইডি-সিবিআইয়ের রাজনৈতিক খেলা – দুর্নীতি বনাম কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের লড়াই। স্বাভাবিকভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১০ মেসেজের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর (ইডি, সিবিআই) ‘রাজনৈতিক অপব্যবহার’ নিয়ে আক্রমণ ছিল দু’নম্বরে। ইডি, সিবিআই কেবল বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ সাল থেকে এই দুটো সংস্থা যতগুলো মামলা করেছে, তার ৯৫ শতাংশই বিজেপি-বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে, যার মধ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই সবচেয়ে বেশি ৩৪টি মামলা রয়েছে। এসব তদন্তকারী সংস্থা বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে পুরানো মামলাগুলো ঝুলিয়ে রেখেছে, অথচ বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলায় দ্রুত তৎপরতা দেখাচ্ছে। এগুলোকেই বা এই ইস্যুকেই আরও শক্তিশালী করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ভুয়ো ইডি-সিবিআই’ চক্রের ঘটনাটা তুলে ধরেন। কদিন আগেই ডায়মন্ড হারবারে ভুয়ো অফিস খুলে ইডি-সিবিআই অফিসার সেজে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। একদিকে, নিয়োগ দুর্নীতির মতো ঘটনায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ অনেক নেতার জেলে যাওয়া এবং কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে ২৬,০০০ চাকরি বাতিল হওয়া বিজেপির হাতে এক শক্তিশালী অস্ত্র। কিন্তু তৃণমূল এই ঘটনাকে ব্যবহার করে এক নতুন ন্যারেটিভ তৈরি করছে: “আসল সিবিআইও কি ভুয়োদের মতো কাজ করছে?” তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো আসলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার জন্য এক ‘এক্সটর্শন র‍্যাকেট’ হিসেবে কাজ করে, যেখানে বিজেপিতে যোগ দিলেই মামলা বন্ধ হয়ে যায়।

তৃতীয় তীর: ভোটার তালিকার যুদ্ধ – ‘ললিপপ’ থেকে ‘৬০০ দল’-এর অভিযোগ। সংসদের ভেতরে আর বাইরে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিতর্কিত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়াটার বিরুদ্ধে তৃণমূলের আক্রমণ ছিল চুড়ান্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটাকেই ‘ললিপপ’ বলে দিলেন। বাচ্চারা লালিপপ খায়, নির্বাচন কমিশনের বুড়োরা তা খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন তুললেন নিরপেক্ষতা নিয়ে, আর অভিযোগ করলেন, এর মাধ্যমে কমিশন বিজেপিকে সুবিধা দিতে চাইছে। তিনি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগও তুললেন। বলা হচ্ছে এক কোটি ভোটারের নাম কাটা যাবে, মুখ্যমন্ত্রী সেই ইস্যু বাদ দেবেন কেন? বিহারে ইতিমধ্যেই দু’কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কার কথা বিরোধীরা বলছেন। কাজেই এই ভোটার তালিকা সংশোধন বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতেই পারে। মনে করিয়ে দিলেন, আপনার ভোট সুরক্ষিত নয়। বিজেপি সাধারণত অনুপ্রবেশের সমস্যাকে সামনে এনে ‘বাংলাদেশি কার্ড’ খেলে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও হিন্দুত্বের এজেন্ডা তৈরি করে। কিন্তু তৃণমূল এই বিষয়টাকে সম্পূর্ণ আলাদা দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের কায়দাটা হল, এই সংশোধন প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষত প্রান্তিক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে যে ভয় তৈরি হচ্ছে, তাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা। “আমার ভোটটা কি থাকবে?”—এই প্রশ্নটা যত বেশি উঠবে, তৃণমূলের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন তত বাড়বে। এই মূহুর্তে এটা আসলে ভোটের অধিকার রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বিজেপির অনুপ্রবেশ বিতর্কের চেয়ে অনেক অনেক বেশি স্পর্শকাতর এবং মানুষকে তা স্পর্শ করছে।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | লাগু ৫০ শতাংশ ট্যারিফ, টাকা কামালেন মোদিজির বন্ধুরা, চাকরি যাবে আম আদমির, চাপে ভারতের অর্থনীতি

চতুর্থ তীর: ‘বহিরাগত’ বনাম ‘ভূমিপুত্র’ – বাংলা বাঙালির আত্মমর্যাদার লড়াই। ২০২১ সালের নির্বাচনেই বহিরাগত ইস্যুটা তৃণমূলের জয়ে বিরাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এবার এই ইস্যুকে আরও শক্তিশালী করতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘জয় বাংলা অভিযান’ এবং ‘জনগণের গর্জন, বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন’ স্লোগানকে সামনে এনেছেন। এই আসলে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বের উপর নির্ভরতার বিরুদ্ধে এক আঞ্চলিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর নির্ভরতা  এবং মোদিজির বাজে বাংলায় শুরু করলেও আদতে হিন্দি ভাষণ এই বহিরাগত ন্যারেটিভকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিজেপির হিন্দুত্ববাদী মেরুকরণের বিরুদ্ধে এক সফল আঞ্চলিক প্রতি-মেরুকরণ, কাউন্টার পোলারাইজেশন তৈরি করবে। এই লড়াইটা আসলে ‘হিন্দুত্ব’ বনাম ‘বাঙালি আত্মপরিচয়’-এর। পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি আত্মপরিচয় অনেক গভীর এবং তা বিজেপির জাতীয়তাবাদী স্লোগানকে কোণঠাসা করে দিতে পারে।

পঞ্চম তীর: পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্মান – হেনস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক। বক্তৃতার অনেকটা সময় ধরে ছিল বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা এবং বাংলাদেশি সন্দেহে হয়রানির বিরুদ্ধে তথ্য আর কথা।  মহারাষ্ট্র, ওড়িশা সমেত একাধিক রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের ভাষাগত সন্ত্রাস এবং বাংলাদেশি সন্দেহে হয়রানি করা হচ্ছে। হাওড়ায় এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু। সব মিলিয়ে এই ইস্যু সাধারণ মানুষের কাছে, বাঙালিদের কাছে এক আবেগ তৈরি করেছে – বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের মারা হচ্ছে। যাকে তৃণমূল ‘টার্গেটেড কিলিং’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে অভিযোগ করেছে। তৃণমূলের কৌশল হল, দেখো বিজেপি তোমাদের অনুপ্রবেশকারী বলে হয়রানি করছে, তখন তৃণমূল, তোমাদের পাশে একজন বাঙালি হিসেবে দাঁড়াচ্ছে। রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাসিক ৫,০০০ টাকা অনুদান ঘোষণা তো এমনি এমনি করেনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়েও বলতে ছাড়েননি। যদিও এটা বিজেপির মূল আক্রমণের জায়গা, তৃণমূল এই মামলাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিযোগ করছে। কলকাতা হাইকোর্টের রায় দেওয়া বিচারপতির বিজেপিতে যোগ দেওয়াটা অনেকাংশেই তৃণমূলের ন্যারেটিভকে সমর্থন করে। তৃণমূল প্রমাণ করতে চাইছে যে এটা কোনো আইনি প্রক্রিয়াই নয়, বরং এক রাজনৈতিক খেলা। তৃণমূল এই ইস্যুকে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। ওবিসি সংরক্ষণ নিয়েও মমতা বলেছেন, কলকাতা হাইকোর্ট ২০১০ সালের ওবিসি তালিকা বাতিল করার পর, তৃণমূল সরকার নতুন তালিকা তৈরি করেছে। বিজেপি এই তালিকাটাকে মুসলিম তোষণ বলে আক্রমণ করে। কিন্তু তৃণমূলের কৌশল হল, এটাকে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরা। হাইকোর্ট রায় দিয়েছে যে, এই তালিকায় ধর্মীয় মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছিল, কিন্তু তৃণমূলের বক্তব্য হল, ঐতিহাসিকভাবে এই গোষ্ঠীগুলোই পিছিয়ে ছিল। এই লড়াই আসলে ‘তোষণ’ বনাম ‘ন্যায়বিচার’-এর। যা যা অভিযোগ বিজেপি করছে বা করতে পারে, একে একে প্রত্যেকটা নিয়েই কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি নিশ্চই তাদের পুরনো আর প্রতিষ্ঠিত এজেন্ডাগুলোতেই জোর দেবে। তাদের মূল আক্রমণের বিষয়বস্তু হবে ‘দুর্নীতি’, ‘অনুপ্রবেশ’ এবং ‘তোষণ’। বিজেপি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছনোর অভিযোগ করবে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে তুলে ধরবে। আসলে তৃণমূল জনসমর্থনের দিকে নজর দিচ্ছে, আর বিজেপি নৈতিকতা ও স্বচ্ছতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে তাদের বাধা সর্বভারতীয় বহু তথ্য, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নেতাদের তথ্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ব্যর্থতার তত্ত্ব, বিদেশ নীতির ব্যর্থতার তত্ত্ব। তাহলে ২০২৬-এর লড়াই- তৃণমূলের ১০টি তীর কি সফল হবে? মানে এক্কেবারে ‘বুলস আই’তে হিট করবে?

২০২৬ সালের নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক নতুন রাজনৈতিক ন্যারেটিভের জন্ম দেবে। বিজেপি তাদের মূলশক্তি, অর্থাৎ ‘জাতীয়তাবাদ ও নৈতিকতার’ উপর ভর করে লড়বে। অন্যদিকে, তৃণমূল তাদের ‘আঞ্চলিক আত্মমর্যাদা ও জনকল্যাণের’ ন্যারেটিভকে সামনে রাখবে। তৃণমূলের আপাতত লক্ষ্য হল, জনগণের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দিয়ে এবং তাদের আত্মমর্যাদাকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করে বিজেপির জাতীয়তাবাদী স্লোগানকে কোণঠাসা করা। শেষ পর্যন্ত, বাংলার মানুষ কোন আখ্যানকে গ্রহণ করবে, তার উপরই নির্ভর করবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। আজ মমতা তাঁর অস্ত্রগুলোকে সামনে রাখলেন, কিন্তু অনেকেই বলছেন দু’একটা অস্ত্র নাকি লুকোনই থেকে গেল, যা বেরোবে নির্বাচনের আগে। হতেই পারে, আমরা অপেক্ষা করব, দু’পক্ষের মহারণ দেখার জন্য।

Read More

Latest News