কলকাতা: বেলডাঙায় (Beldanga) কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) মোতায়েনের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। মুর্শিদাবাদে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বেলডাঙায় ব্যবহারের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানাল, রাজ্য সরকার চাইলে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক (DM) ও পুলিশ সুপারকে (SP) এলাকার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
শুনানির সময় বেলডাঙার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “৩০ ঘণ্টা ধরে বেলডাঙায় বেলাগাম নৈরাজ্য চলেছে।”মানুষের জীবন ও সম্পত্তি বিপন্ন হওয়া নিয়ে আদালত চিন্তিত। আদালতের মতে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সবার আগে। পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে অশান্তি ছড়িয়েছে তা আটকাতে ইতিমধ্যেই ৫ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েন হয়েছে। আরও প্রয়োজন হলে মোতায়েন করা হোক, রাজ্যের তাতে কোন আপত্তি নেই বলে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে জানাল রাজ্য। যদি বাহিনী কম থাকে, সেক্ষেত্রে রাজ্যের উদ্দেশে আদালতের পরামর্শ, তাহলে আরও বেশি বাহিনীর জন্য কেন্দ্র অনুমোদন দিক।
আরও পড়ুন: জিএসটি-তে বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারি! ফের কলকাতায় ইডি হানা
মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও, অশান্তির সময়ে তাদের ব্যবহার করা হয়নি, পরে ব্যবহার করা হয়েছে।৫ কোম্পানির মধ্যে ১ কোম্পানি ব্যবহার করা হয়েছিল। ৮ কোম্পানি বিএসএফ জঙ্গিপুরে, ৪ কোম্পানি সামসেরগঞ্জে, ৫ কোম্পানি বেলডাঙায় আছে। আদালত এবার রাজ্য CAPF ব্যবহারের নির্দেশ দেয়। এই মামলার একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, NIA তদন্তের দাবি। শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বিল্লোদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, বেলডাঙায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইন অনুযায়ী ১৬৩ জারি করা হয়নি। প্রতি শুক্রবার এই ধরনের কোনও ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদে নেমে হিন্দুদের সম্পত্তি ভাঙচুর, তাঁদের ওপর আক্রমণ করা হয়। রাজ্য যদি সদিচ্ছাবশত ফোর্স ব্যবহার না করে তাহলে কেন্দ্রকে হস্তক্ষেপ করতে বলা হোক। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় এই মুর্শিদাবাদ জাতীয় সড়ক ১২ এর মাধ্যমে। উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণের যোগাযোগের একমাত্র পথ।
হাইকোর্টের নির্দেশ দেয়, মুর্শিদাবাদ পুলিশ সুপার ও জেলাশাসক এলাকার প্রতিটি মানুষের সম্পত্তি ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করবে। কেন্দ্র যদি মনে করে তাহলে সে ক্ষেত্রে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। রাজ্য সরকার এলাকা সুরক্ষা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী সাহায্য নিতে পারবে। রাজ্য কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইলে কেন্দ্রীয় সরকার সেই কেন্দ্রীয় বাহিনী দেবে।প্রয়োজনে মুর্শিদাবাদ জেলায় বর্তমানে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীকেই বেলডাঙায় কাজে লাগানো যেতে পারে।নির্দেশ প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি ও সারথি সেনের। আরও বড় বিষয় হলো, ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে কেন্দ্রীয় সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে তারা এনআইএ (NIA) তদন্তের নির্দেশও দিতে পারে বলে জানিয়েছে আদালত। আদালতের নির্দেশ, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে ২ সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। আবেদনকারী মনে করলে এক সপ্তাহের মধ্যে জবাবি হলমামা দেবে। তিন সপ্তাহ পরে মামলার শুনানি







