ওয়েব ডেস্ক: ২০২৫-কে অনেকেই বিপর্যয়ের বছর (Catastrophic Year) বলে চিহ্নিত করেছিলেন। কিন্তু ২০২৬’ও কম কিছু যাচ্ছে না। এই বছরে ইতিমধ্যেই আর্জেন্টিনা থেকে অস্ট্রেলিয়া, চিলি থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা – সব জায়গাতেই রেকর্ড হারে বেড়েছে তাপমাত্রা (Temperature Rise)। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ গোলার্ধের একাধিক অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ দাবানল (Wild Fire)। ইতিমধ্যে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, দুর্বল লা নিনার প্রভাবে পারদ নিম্নমুখী থাকলেও এই চরম আবহাওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) প্রভাবে আরও ভয়ঙ্কর বিপর্যয় হতে পারে এই বছর।
২০২৬-এর শুরুতে কী কী বিপর্যয় ঘটেছে?
- জানুয়ারিতে ‘হিট ডোম’ গ্রাস করে অস্ট্রেলিয়ায় একটি বিস্তৃত অঞ্চলকে, যেখানে তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়।
- জানুয়ারিতেই দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র গরম ও দাবানল দেখা যায়।
- আর্জেন্টিনার প্যাটাগোনিয়ার দুর্গম অঞ্চল আগুনে পুড়ে যায়।
- চিলির উপকূলবর্তী শহরগুলিতে দাবানলে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়।
- দক্ষিণ আফ্রিকাও গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মুখোমুখি হয়েছে।
আরও পড়ুন: পা রেখেছিলেন শুভাংশু শুক্লা, সেই ISS-কেই ধ্বংস করতে চলেছে NASA! কেন জানেন?
কেন বিশ্বজুড়ে বাড়ছে দাবানল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘লা নিনা’র (La Nina) প্রভাব কাটিয়ে যদি দ্রুত ‘এল নিনো’ (El Nino) পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ দাবানলের মানুষের কারণে হলেও চরম তাপ, খরা ও শুষ্কতা প্রাকৃতিক আগুনকেও ভয়ঙ্কর করে তুলছে। আর্জেন্টিনার লস আলের্সেস ন্যাশনাল পার্কে সাম্প্রতিক দাবানল সেই এর স্পষ্ট উদাহরণ।
জলবায়ু পরিবর্তনে বিপুল আর্থিক ক্ষতি
দাবানলের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতিও হচ্ছে বিপুল পরিমাণে। ইনস্যুরেন্স ব্রোকার সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে দাবানলজনিত বিমাকৃত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের গড় ছিল বছরে মাত্র ৪ বিলিয়ন ডলার।
পরিবেশ রক্ষা করলেই সমাধান
কিন্তু এই সমস্যা থেকে কীভাবে রেহাই পাবেন মানুষজন? এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা শহরের আশপাশে গাছ লাগানো এবং আগুন-প্রতিরোধী নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার বৃদ্ধির উপরে জোর দিচ্ছেন। পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপরেই জোর দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
দেখুন আরও খবর:







