ওয়েব ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৫ বছরের বেগম শাসনের পর পদ্মাপাড়ে কুর্সিতে বসতে চলেছে পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। ২০ বছর পর বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি (BNP)। বাংলাদেশ (Bangladesh)নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়েছে বিএনপি। ২১০টি আসন এসেছে তাদের ঝুলিতে। প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বিএনপি প্রধান তারেক রহমান (Tarique Rahman)। তারেকের জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে শুভেচ্ছাবার্তা দিয়ে বলেন, তারেক রহমানের জয় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। তাঁর পালটা ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বন্ধুত্বের হাত বাড়াল তারেকের দল।
ভারত বিরোধিতা, মৌলবাদের আগুন, পাকিস্তানের অঙ্গুলিহেলন পেরিয়ে অবশেষে গণতন্ত্রের সোজা পথে হাঁটবে বাংলাদেশ? ফিরবে দিল্লি-ঢাকার অতীতের উষ্ণ বন্ধুত্ব? বিএনপি জেতার পর এখন এই প্রশ্ন ঘুরছে দু’দেশের আমজনতার মধ্যে। নির্বাচনে জয়ের পর কার্যত সেই ইঙ্গিতই দিল বাংলাদেশের শাসকদল বিএনপি।শুক্রবার নির্বাচন জয়ের পর হবু প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর পালটা ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বন্ধুত্বের হাত বাড়াল তারেকের দল।
তারেকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী এক্সে লেখেন, “বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করার জন্য আমি তারেক রহমানকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই। এই জয় আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটায়।ভারত সর্বদা গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সমর্থনে থাকবে। আমি আশা করি আমরা আমাদের বহুমুখী সম্পর্ক জোরদার করতে এবং আমাদের যৌথ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য একসঙ্গে কাজ করব।””শুক্রবার সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তারেক রহমানকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তা প্রসঙ্গে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরাও আমাদের দলের পক্ষ থেকে নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।আমাদের নেতা তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোর জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাই। গণতান্ত্রিক দেশগুলি জনগণের রায়কে সম্মান করে, এটা ভালো।”
আরও পড়ুন: তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’ই বাজিমাত বিএনপির?
ঐতিহাসিকভাবে ভারত সম্পর্কে বিএনপির অবস্থান জটিল। তবে ২০২৫ সালের শেষের দিকে তারেক রহমানের ফিরে আসার পর থেকে এটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।খালেদা জিয়ার শাসনকালে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ ভারতের উপর ক্ষুব্ধ ছিল। অন্যদিকে ভারত উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে জঙ্গিদের সমর্থনের জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করেছিল। এর ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। এবং বিএনপিকে প্রায়শই ভারতবিরোধী হিসেবে দেখা হত। কিন্তু তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরে আসার পর থেকে তিনি ভারতের ব্যাপারে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছেন।







