ওয়েব ডেস্ক: ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে ক্ষমতা পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিচ্ছেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। শপথ নিচ্ছেন বিএনপি (BNP)-র নির্বাচিত সদস্যরাও। বাংলাদেশে নতুন সরকারের (Bangladesh New Government) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেই কাটল তাল। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বমূর্তি ধারণ করল জামাত। মঙ্গলবার অনুষ্ঠান চলাকালীনই গণভোটে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিএনপিকে কার্যত ‘কোনঠাসা’ করছে জামাত।
মঙ্গলবার সংসদীয় দলের সভাকক্ষে বৈঠকে সংসদীয় দলের নেতা হিসাবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাচন করা হয়েছে। এরপরে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ হয়। শপথ পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বিএনপির সংসদ সদস্যরা। এ কথা তারা জানিয়েছেন। এদিকে, বিএনপি এই কথা বলতেই বেঁকে বসেছে জামাত (Jamaat-e-Islami)-ও। তাদের দাবি, বিএনপি যদি গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের জন্য শপথ না নেয়, তাহলে তাঁরাও শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করবেন। সংসদ সদস্য হিসেবেও কেউ শপথ নেবেন না। জামাত মনে করছে, সংস্কার ছাড়া নতুন সংসদ অর্থহীন।এদিকে বিএনপিও সংবিধান সংস্কারে নারাজ। দলের নির্বাচিত সাংসদদের যুক্তি, তাঁরা জনতার ভোটে নির্বাচিত, গণভোট তাঁদের সিদ্ধান্তে হয়নি।
আরও পড়ুন: বিদায়ী ভাষণেও ‘সেভেন সিস্টার্স’ প্রসঙ্গ টানলেন ইউনুস
১৩তম জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন শপথবাক্য পাঠ করান। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সহস্রাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন বিকেল ৪টে নাগাদ। সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করতে বিএনপি সংসদ ভবনে বৈঠক ডেকেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। পরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।তবে সংসদীয় দলনেতা হিসেবে ইতিমধ্যেই তিনি শপথবাক্য পাঠ করেছেন। তবে এমন শুভ দিনে শুরুতেই তাল কাটল জামাত। দলের নায়েব আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মহম্মদ তাহের মঙ্গলবার সকালে সেদেশের বহুল প্রচারিত সাংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেন, জামাতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনও শপথই নেবেন না। কারণ তাঁরা মনে করেন, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, তারেক রহমান এমন একটি মন্ত্রিসভা গঠনের কথা ভাবছেন যেখানে অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় থাকবে। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার আকার তুলনামূলকভাবে ছোট হতে পারে, সদস্যসংখ্যা ৩২ থেকে ৪২ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ইঙ্গিত।মন্ত্রিত্ব বণ্টন নিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তবে চূড়ান্ত তালিকা শপথের পরেই প্রকাশ পাবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, চূড়ান্ত মন্ত্রিসভা জানতে দেশবাসীকে কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।







