নয়াদিল্লি: বর্তমানে মুঠো ফোনের যুগে স্যোশাল মিডিয়া সকলের জীবনে অবিচ্ছেদ্য অংশ। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা পরিবার বা বন্ধুদের সাথে মুহূর্তেই সংযুক্ত হওয়া যায় পুরো দুনিয়াকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। চাইলেই দুনিয়ার যেকোনো তথ্য এখন সহজেই সকলের কাছে পৌঁচ্ছে যাচ্ছে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার (Social Media Platforms) দৌলতে বিশ্বজুড়ে সব তথ্যসম্ভার নিমেষেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় কয়েক মূহুর্তে পৌঁচ্ছে যাচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নয়নে মোবাইলের মাধ্যমে স্ক্রলিং করে সোশ্যাল মিডিয়ার সময় কাটাচ্ছে সবাই। প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে রীতিমতো অভ্যাস হয়ে গেছে এটি। এই অভ্যাস সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম থেকে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ভয়ঙ্কর ক্ষতি করছে। অস্ট্রেলিয়ার পথে এ বার ভারত কি শিশুদের জন্য সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধের পথে হাঁটবে? সরাসরি তা না বললেও তেমনই ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)।
গবেষকরা বলছেন, মোবাইলে অতিরিক্ত সময় কাটানো উদ্বেগজনকভাবেই প্রভাব ফেলছে মানুষের জীবনে। সাধারণ কিংবা পেশাগত যোগাযোগ যেকোনো কারণেই এখন সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বেড়েছে। সেই সঙ্গে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিনা কারণেই সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রলিং করতে থাকেন। মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল ও স্যোশাল মিডিয়ায় ব্যবহার করা হলে তখনই তা হিতের বিপরীত হয়। মানসিক, সামাজিক দিক থেকে এটি নেতিবাচক হয়ে ওঠে। শুধু কি তাই বড়দের সঙ্গে সঙ্গে স্যোশাল মিডিয়ার ব্যবহার বেড়েছে শিশুদের মধ্যেও। কেউ নিজেই ব্যবহার করছে, কারও মা-বাবা-দাদা-দিদির মোবাইলেই কাটছে দিনের বেশির ভাগ সময়। যদিও ফোনে আসক্ত হয়ে পড়া ভীষণই অস্বাস্থ্যকর।স্মার্টফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন মস্তিষ্ক, কান-সহ নানা অঙ্গের ক্ষতি করে। একটি বাচ্চার স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠার সময়ে তা আরও ক্ষতিকর। সেই কারণেই গত বছর ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কমবয়সিদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, ফ্রান্স-সহ কিছু দেশও একই পথে হেঁটেছে। এবার অস্ট্রেলিয়া-ফ্রান্সের মতো ভারতেও নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত স্যোশাল মিডিয়ার ব্যবহার নিষিদ্ধ হচ্ছে। এমনই ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: পুতিনের দেশে ‘সোনা’র দরে বিকোচ্ছে শসা
কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি জানান, বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ নিয়ে সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিপফেকও! ভবিষ্যেতের রূপরেখা তৈরি করতে সরকার স্থির আলোচনা করছে। অশ্বিনী জোর দিয়ে জানান, নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, মেটা বা এক্স, যে সংস্থাই হোক— সকলকেই ভারতের আইনি কাঠামো এবং সংবিধান মেনে চলতে হবে। তাঁর মতে, ডিপফেকের সমস্যা দিনে দিনে বাড়ছে। তা শক্ত হাতে মোকাবিলার প্রয়োজন রয়েছে। অশ্বিনীর কথায়, ‘‘বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ এবং ডিপফেক মোকাবিলা করার জন্য সমাজমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে উপযুক্ত উপায় নির্ধারণ করা যায়।’’ডিপফেক আরও কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও সম্প্রচার মন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘আমি মনে করি ডিপফেকের উপর আমাদের আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। এটি ক্রমবর্ধমান একটি সমস্যা। অবশ্যই শিশুদের এবং আমাদের সমাজকে এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার প্রয়োজন আছে।







