কলকাতা: রাজ্যে বিরোধী নেতা-নেত্রীদের লক্ষ্য করে তথাকথিত ‘ডিম থেরাপি’ বা ডিম ছোড়ার ঘটনা কমেছে, নাকি এখনও অব্যাহত? সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) এই প্রশ্নেই মুখোমুখি হল রাজ্য ও জনস্বার্থ মামলার আবেদনকারী পক্ষ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সময় রাজ্যের দাবি, ৩০ জুন আদালতের নির্দেশের পর থেকে এ ধরনের ঘটনার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। অন্যদিকে আবেদনকারী পক্ষের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে এবং বহু ক্ষেত্রে অভিযোগও নিচ্ছে না পুলিশ।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের রিপোর্ট অনুযায়ী পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
আরও পড়ুন: পিএসসির হাত ধরে পঞ্চায়েতে ১১ হাজার নিয়োগ, জেলা-ভিত্তিক ব্যবস্থা বদলে আনছে রাজ্য
তবে আবেদনকারী আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দাবি খারিজ করে বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে বিক্ষোভ ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা এখনও চলছে। তিনি আদালতে দাবি করেন, সম্প্রতি সাংসদ মহুয়া মৈত্রের দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি বিভিন্ন থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুনানির সময় আরেক আইনজীবী অর্ক নাগ আদালতে দাবি করেন, আগের তুলনায় ডিম ছোড়ার ঘটনা বেড়েছে এবং আদালত চত্বরও নিরাপদ নয়। এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
শেষে আদালত নির্দেশ দেয়, ৩০ জুনের পর কোথায় কোথায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, পুলিশে অভিযোগ করা সত্ত্বেও কোথায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই সমস্ত নির্দিষ্ট তথ্য-সহ জবাবি হলফনামা দাখিল করতে হবে আবেদনকারীকে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৮ অগস্ট।







