Friday, January 9, 2026
HomeScrollAajke | ইলেকশন কমিশনে অমর্ত্য সেন ডাক পাবেন, মোদিজির ডাক পড়বে না...
Aajke

Aajke | ইলেকশন কমিশনে অমর্ত্য সেন ডাক পাবেন, মোদিজির ডাক পড়বে না কেন?

ভোটার লিস্টে তো মানুষের নাম থাকার কথা, নন-বায়োলজিক্যাল এনটিটির নাম আছে কেন?

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

এদেশে মিথ্যের প্রতিশব্দ তো নরেন্দ্র মোদি! মানে ‘মিথ্যে বলিস না’ না বলে কেউ কেউ নাকি বলছেন, ‘মোদি বলিস না’। ‘ভয় দেখাস না’-কে এখন অনেকেই নাকি বলছে, ‘ইডি, সিবিআই দেখাস না’। হ্যাঁ, এসব প্রতিশব্দ চালু হয়েছে ২০১৪-র পর থেকে। হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ‘দেখিস বাবা ঘেঁটে দিস না’-র বদলে অনায়াসেই বলা যায়, ‘দেখিস বাবা নোটবন্দি করে দিস না’। ঠিক সেইরকম ভাবে ইংরেজিতে ‘প্যান্ডেমনিয়াম’ বলে একটা শব্দ আছে, যা বাংলাতে বুঝিয়ে বললে ‘নরক গুলজার’ কথাটা ব্যবহার করা যেতেই পারে। তো এখন তারও এক প্রতিশব্দ হাজির, ‘এসআইআর’, হ্যাঁ এক নরক গুলজার চলছে। ঠিক কী যে হচ্ছে কেউ জানে না। গ্যাঁ-গ্যাঁ-গ্যাঁ জ্ঞানেষ কুমারের হিসেবে অর্ধেক ভারতে প্রায় সাত কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, পুরো ভারতে আমি নিশ্চিত ওনার হিসেবে কমবেশি ১৪ কোটি মানুষজন বাদ পড়বে। ২০২৫-এ মোট ভোটারের ৬৫ শতাংশ ভোট দিয়েছিলেন, খুব সোজা অংকের হিসেবে ৯ কোটি ভুয়ো ভোট পড়েছিল ওই ২০২৪-এ। সেই ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী? হ্যাঁ, জ্ঞানেষ কুমারের হিসেব তো সেই কথাই বলছে। সেই নরক গুলজারের মধ্যেই ডাক পড়েছে অমর্ত্য সেনের, এক নামে যাঁকে পৃথিবীর মানুষ চেনেন, তাঁকে এখন তাঁর মায়ের বয়সের ফারাক বোঝাতে যেতে হবে। জয় গোস্বামীর ডাক পড়েছে, যাঁকে চেনে বাংলার মানুষ। কিন্তু শিশির অধিকারীর ডাক পড়েছে কী? পড়েনি। হ্যাঁ সেটাই বিষয় আজকে, ইলেকশন কমিশনে অমর্ত্য সেন ডাক পাবেন, শিশির অধিকারী পাবেন না?

এসআইআর-এর জন্য শুনানিতে মঙ্গলবার হাজির হয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার আগরপাড়ার বিশ্বাস পরিবার। বৃদ্ধ, অসুস্থ, অশক্ত বাবা-মায়ের সঙ্গেই এদিন দুপুরে স্থানীয় গার্লস স্কুলে শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন ওই পরিবারের চার ভাই। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সজল বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বপন, তাপস ও রজত। সজল সরকারি স্বাস্থ্যকর্তা, বর্তমানে বাঁকুড়া জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। স্বপনও সরকারি চিকিৎসক, বর্তমানে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার। তাপসও চিকিৎসক, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল। তিনি এখন তেঘড়িয়ার একটি বড় বেসরকারি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের প্রধান। আর রজত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিক। গত ৪০ বছর ধরে ভোট দিয়ে আসা মানুষগুলোর হয়রানির কথা বাদই দিলাম, তিনজন ডাক্তারের রোগীদের কথা ভাবুন। একে যদি নরক গুলজার না বলি তো কাকে বলবো? মা আর ছেলের, বাবা আর ছেলের বয়সের ফারাক নিয়ে জ্ঞান বিযুক্ত জ্ঞানেষ কুমার মাঠে নেমেছেন। বড় মেয়ের বিয়ের সময়ে ছোট মেয়ে হয়েছে, ভারতের সমাজ কাঠামোতে এই ঘটনা কি এক্কেবারে নতুন কিছু? বিশেষ করে গো-বলয়ে, যাঁদের সময়ে বাল্য বিবাহ খুব স্বাভাবিক ছিল। আসলে যন্ত্র কাজ করছে, মানুষ নয়, কোন নেতার কোন মেয়ে জামাইয়ের কোম্পানি থেকে সফটওয়ার এল? কেন এই বিপুল ডিলিশন? ডাক পড়ছে জনপ্রতিনিধিদের, ডাক পড়েছে জয়নগর লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ তরুণ মণ্ডলেরও। তিনি শিবপুর এলাকার ভোটার। তাঁকেও কলেজ ঘাট রোডের শুনানি কেন্দ্রে যেতে হয়েছিল। তিনি অবাক, ‘প্রাক্তন সাংসদ হয়েও এখন আমাকে ভোটার তালিকায় নাম থাকার জন্য দৌড়তে হচ্ছে!’ ৬২ বছরের অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী রত্না চক্রবর্তী মঙ্গলবার দুপুরে এসআইআর শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারালেন, উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাঁকে নিয়ে নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানান, ওই বৃদ্ধা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। তাঁকে কল্যাণীর গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই মারা যান রত্না চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন: Aajke | হ্যাঁ, মমতাই দাঁড়াবেন বিচারকদের সামনে, এসআইআর নিয়ে সওয়াল করতে

মৃত্যুমিছিল চলছে, ওদিকে বিরোধী দলনেতা হুঙ্কার দিচ্ছেন, “দেড় কোটি রোহিঙ্গা তাড়াবো”। একবারও পরিস্কার করে জানানো হচ্ছে না, এত তাড়াহুড়োটা কেন? এটাও কি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক? এত গোপনীয়তা কেন? এটাও কি শত্রুদেশে হানাদারি? অমর্ত্য সেন নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অসূয়া তো সবার জানা, নতুন কিছু নয়, তো এ রাজ্যে নরেন্দ্র মোদির পুত্র শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘কিছু তো একটা ভুল আছে, তাই ওনাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে’। গোলমাল আমরা জেনেছি, পুরোটাই ওই সফটওয়ারের গোলমাল। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন নরেন্দ্র মোদিকে ডাকা হচ্ছে না কেন? যাঁর দুটো জন্মদিন, যাঁর এমএ, বিএ-র সার্টিফিকেট নিয়ে বিস্তর গরমিল আছে, যাঁর বয়স আর কাজের সঙ্গে ওনার নিজের বলা জীবনীর মিল নেই, উনি যে বয়সে যা করেছেন, তার সঙ্গে ওনার বয়স মেলানো অসম্ভব, এবং উনিই এই দেশে আপাতত একমাত্র নন বায়োলজিক্যাল, তো জ্ঞানেষ কুমারজি ভোটার লিস্টে তো মানুষের নাম থাকার কথা, এই নন-বায়োলজিক্যাল এনটিটির নাম আছে কেন? আমরা আমাদের দর্শকদের এটাই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, এক নন-বায়োলজিক্যাল নরেন্দ্র মোদি, যাঁর দু’দুটো জন্মদিন, যাঁর পড়াশুনোর সার্টিফিকেটে বিস্তর গরমিল, তাঁর নাম ভোটার লিস্টে কেন আছে? ওনার বদলে অমর্ত্য সেনকে কেন ডাকা হচ্ছে? আপনাদের কী মনে হয়?

আমরা এই অনুষ্ঠানে অনেকবার বলেছিলাম, এই এসআইআর-এর ভোটার তালিকা সংশোধনের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই নেই। এই মোদি–শাহ সরকার সিএএ এনেছিল, এনআরসি করতে চেয়েছিল, দেশ শুদ্ধু মানুষজন রাস্তায় নেমে পড়ায় পিছু হটেছিল। এবারে তারা তাদের অনুগত এক জ্ঞানেষ কুমারকে এনে সেই কাজটাই করতে চাইছে। হ্যাঁ, সেটাই তাঁদের লক্ষ্য, ডিলিশন। এক ঝটকায় ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ সংখ্যালঘু আদিবাসী দরিদ্র প্রান্তিক মানুষজনের না বাদ গেলে এক উজ্জ্বল অর্থনীতির জলছবি তুলে ধরতে তাদের সুবিধে হবে, সেই কাজটাই তারা করছে, কিন্তু সেটা করার জন্যও যে দক্ষতা থাকা দরকার না থাকায় সবটাই এখন এক নরক গুলজার হয়ে বসে আছে।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News