স্বাধীন ভারতবর্ষে সবথেকে হিংস্র এক সরকার আমরা দেখছি। হ্যাঁ, নির্বাচিত সরকার, তাদের নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাও নেই। কিন্তু তারাই আজ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কারা হবেন দেশের নাগরিক। দেশের নাগরিক তাঁদের কাজ করেছিল, একবার নয় তিন তিনবার মোদিজির সরকারের সমর্থনে সেই নির্বাচকদের গরিষ্ঠ অংশ রায় দিয়েছিল, আজ সেই সরকার, নির্বাচকদের কাছে প্রমাণ চাইছে নাগরিকত্বের। ‘কাগজ না থাকলে তুমি বেনাগরিক’- আমরা তো এই কথাটাই মানি না, একটা কাগজ দিয়ে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মতো আহাম্মকিপনা আর হতেই পারে না। এটা ঠিক যে, গ্রাম, মফঃস্বল, শহরের শিক্ষিত মানুষ, ধনী মানুষের গায়ে আঁচড়ও পড়বে না। দেখছেন না মিডিয়ার কাজ-কারবার, জয় গোস্বামীকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে, মহানায়ক দেবকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে! ভাবা যায়! রণদুন্দুভি বেজে উঠেছে। আমরা সব্বাই জানি যে, ওসব নেহাতই কাগুজে ভুল, ওনারা আছেন, থাকবেন, দরকার হলে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার তাঁদের ডেকে নাম তুলিয়ে দেবেন। কিন্তু সেই লক্ষ লক্ষ প্রান্তিক মানুষজন, যাঁদের সত্যিই কাগজ নেই, তাঁদের পক্ষে সেসব গুছিয়ে রাখার সামর্থ্যও নেই, তাঁদের সেই তথাকথিত কাগুজে শিক্ষাও নেই। তাঁদের কী হবে? তাঁরা কি এবারে বেনাগরিক?
কেবল ভোট দিতে পারবেন না বললে তো ল্যাটাই চুকে যেত, সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রায় সবাই জানেন যে, ভোট দিয়ে তাঁদের জীবনে কিছুই আসত যেত না, এখন আসে। কিছু ডোল, কিছু সাহায্য, মাসের শেষে, তিন মাসে কিছু টাকা, সেটাও যদি না আসে, তাঁদের চিন্তা তো বাঁচা-মরা নিয়ে, ভোট দিয়ে সেলফি তোলার বিলাসিতা তো তাঁদের নেই। ভোটার লিস্টে নাম না থাকলে তাঁরা পাবেন না ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘কন্যাশ্রী’, ‘স্বাস্থসাথী’র সুবিধে। হ্যাঁ, সেটা নিয়ে চিন্তিত তাঁরা, সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রে ভোটদানের পরম পূণ্য পাওয়ার জন্য তাঁরা হেদিয়ে মরছেন না। তাঁদের কী হবে? সেই জীবিত অথচ মৃত মানুষেরা, যাঁরা সর্বসমক্ষে হাঁটলেন, গ্যাঁ-গ্যাঁ-গ্যাঁ জ্ঞানেষ কুমার সেই তিনজনের ভুল স্বীকার করেছেন, কিন্তু আরও অজস্র আছে তো, তাঁদের কী হবে? হ্যাঁ, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রয়োজনে সামলা গায়ে তিনিই দাঁড়াবেন সুপ্রিম কোর্টে। সেটাই বিষয় আজকে, হ্যাঁ, মমতাই দাঁড়াবেন বিচারকদের সামনে, এসআইআর নিয়ে সওয়াল করতে।
আরও পড়ুন: Aajke| অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারী “দূর্নীতি” বলতে কী বোঝেন? কী বোঝান?
হ্যাঁ, সেই ছবিই রাজ্যের সেই প্রান্তিক মহিলা, পুরুষ, প্রৌঢ়, বৃদ্ধ, বৃদ্ধারা দেখতে চান, অভিভাবকের মতো এক মহিলা গিয়ে দাঁড়াবেন তাঁদের জন্য। হ্যাঁ, আইনের ধারা উনি জানেন, কিন্তু সেটাও জরুরি নয়, জরুরি এক সংবেদনশীল মন যা এই প্রান্তিক মানুষজনকে এই লড়াইয়ে উতরে দেবে। যে অসভ্য বিরোধী নেতা দেড়-দু’কোটি ভোটারদের তালিকা থেকে নাম কাটাতে চান, যে সাম্প্রদায়িক বিরোধী দলনেতা ‘রাজ্যের মুসলমান ভোট চাই না’ বলেই ঘোষণা করেছেন, যে অসংবেদনশীল নেতা গাজা স্ট্রিপের ধ্বংসকে জায়জ মনে করেন, তাঁর বিপরীতে দাঁড়িয়ে আমরা তো এমন কাউকেই চাইব, যিনি চাকরি খেতে চান না, যিনি তেলা মাথায় তেল না দিয়ে, নূন্যতম ২১ থেকে ২২ হাজার টাকার মাইনে পাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ডিএ না দিয়ে লক্ষ লক্ষ গরীব মানুষের ঘরে লক্ষ্মীর ভান্ডার পাঠাচ্ছেন, যিনি পরিবারের গৃহকর্ত্রীর নামে স্বাস্থসাথী কার্ড করার কথা ভাবেন, তিনিই গিয়ে দাঁড়ান আর আইনের ধারা দিয়ে নয়, এক মানবিক আখ্যান তুলে ধরে এই এসআইআর-এর চক্রান্তটা তুলে ধরুন। কারণ এর শুরুয়াতই তো বেআইনি।
নির্বাচন কমিশনের হ্যান্ডবুকে তো দেশজুড়ে, রাজ্যজুড়ে এসআইআর-এর কোনও ব্যবস্থাই নেই। এক যন্ত্র, তা নাকি আবার আর্টিফিসিয়াল বুদ্ধিমত্তা, যাকে হ্যাঁচ্চো বানান করতে দিয়ে দেখুন, কেতরে যাবে, তারা পুন্ডরীকাক্ষ পুরকায়স্তের সঙ্গে আদৃতা খাসনবিশকে গোলাবে, তা তো স্বাভাবিক। কেমন গুলিয়েছে? নির্বাচন কমিশনই বলছে প্রায় সাত লক্ষ মানুষের নামের বানান, তাঁদের বাবা মায়ের বানান ভুলের জন্য ডাউটফুল ভটারের তালিকাতে চলে গিয়েছে। কী অসাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! হ্যাঁ, এই সব পরিসংখ্যান নিয়ে আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা দেখতে চাই বিচারকদের সামনে, তিনি সওয়াল করুন সাত কোটি ভোটার আর ১৩ কোটি বাঙালির হয়ে। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, বহু প্রান্তিক মানুষের নাম ভোটার তালিকাতে নেই, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ফেল মেরেছে, কিন্তু এসআইআর চলছে। আপনারা কি চান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয় নিয়ে মামলায় নিজেই সওয়াল করুন?
হ্যাঁ, স্বাধীন ভারতে এক ইতিহাস রচনা হবে, রাজ্যবাসী দেখবে মমতার আরেক রূপ, সেদিন সওয়াল জবাবের পরে ঘেমে উঠবেন বিচারকেরা, দিল্লির নির্বাচন কমিশনার গ্যাঁ-গ্যাঁ-গ্যাঁ জ্ঞানেষ কুমার টেনশনে মাথার চুল ছিঁড়বেন। মোদি ও শাহ দেখবেন বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি। দেশ দেখবে জননেত্রীকে আরেক রূপে। হ্যাঁ, আমরা চাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই যান সর্বোচ্চ আদালতে বিচার চাইতে।
দেখুন আরও খবর:








