Monday, January 12, 2026
HomeScrollAajke | রাজ্য বিজেপির নতুন কমিটি এবং একঘর কমেডি
Aajke

Aajke | রাজ্য বিজেপির নতুন কমিটি এবং একঘর কমেডি

মিঠুন’দা বিজেপিতে থেকেও যে তৃণমূলের কথা ভাবেন সেটা বোঝা গেল বিজেপির রাজ্য কমিটি দেখে

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

দিল্লি-কলকাতা, দিল্লি-কলকাতা, চিরকুট চালাচালি, গোঁসা, অভিযোগ জানানো, বঞ্চনার কথা, আদি নবদের ধারাবাহিক লড়াই চলতে চলতে একসময় সম্ভবত বিজেপির দিল্লি মহলের খেয়াল হয়েছিল। এই রে নির্বাচন এসে গেল, এখনও সভাপতির টিম তৈরি হয়নি, বেলা বয়ে যায়। তো তেনারা একটা টিম নামিয়ে দিয়েছেন। যাঁদের নাম আছে, দিলীপ ঘোষ সমেত তাঁরা সব্বাই বলছেন, এবারে আর কেউ আটকাতে পারবে না, ‘অবকি বার ২০০ পার’। অবশ্যই প্রার্থী তালিকা বেরোবার পরে এনাদের অনেকেরই ভ্রু কোঁচকাবে, বলতে শুরু করবেন, ‘না এবারেও হল না’। আর যাঁদের নাম এই কমিটিতে নেই, তাঁরা ইতিমধ্যেই বলতে শুরু করেছেন, ‘এই দলবাজি করেই দলটা ডুবল’, ‘এই কমিটি দিয়ে কিছুই হবে না’, ইত্যাদি। এমন নয় যে, অন্য দলে এমনটা হয় না, হয় কিন্তু এবারের কমিটি দেখে আমাদেরও কটা কথা মনে হচ্ছে বৈকি। মনে হচ্ছে আরও বেশি করে, কারণ সামনেই তো নির্বাচন, এটাই তো সেই সময়, যার জন্য বিজেপি সারা বছর কাজ করে যায়, এটাই তো বিজেপির রাজনীতি, টোয়েন্টি ফোর ইন্টু সেভেন ইলেক্টোরাল পলিটিক্সের মধ্যেই থাকা অন্য কোনও দল এই ভারতেই নেই, এবং মাথায় রাখুন আগামী ৪টে বড় নির্বাচনে বিজেপির কাছে আছে মাত্র অসম, আর পেতে পারের তালিকাতে আছে বাংলা। না খানিক ভোট পার্সেন্টেজ বাড়লেও তামিলনাড়ু বা কেরালাতে বিজেপি তেমন কোনও দাগ কাটতে পারবে না। কাজেই সেই বাংলাতে বিজেপির নতুন কমিটিই বিষয় আজকে, রাজ্য বিজেপির নতুন কমিটি এবং একঘর কমেডি।

কমিটি কেন এতদিন ঝুলে ছিল? প্রথম বঙ্গ বিজেপির এখন তিন ভরকেন্দ্র, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, ওদিকে অমিতাভ চক্রবর্তী আর আমাদের শান্তিকুঞ্জের মেজখোকা শুভেন্দু অধিকারী। তিনজনেই তাঁদের অনুগত অনুগামীদের নাম ঢোকানোর চেষ্টা করেছে। আর সেই চেষ্টা চলতে থাকায় সময় বরবাদ হয়েছে, আর শেষমেষ রাজ্য সভাপতি নয়, দলে ভারি কিন্তু শুভেন্দু শিবির। কিন্তু এটাই দেরি হওয়ার একমাত্র কারণ নয়, বিজেপি এবারে বঙ্গ বিজেপিকে জাতীয় ধাঁচায়, কাঠামোতে সাজানোতে জোর দিয়েছিল, কাজেই কিছু কোটা তৈরি হয়েছিল, যেমন এসসি কোটা, এসটি ক’জন? ওবিসি ক’জন? উঁচু জাতের ক’জন? মহিলা ক’জন? এই সবকটার কোটা বেঁধে দিয়েছে দিল্লির নেতারা। এদিকে বাংলার রাজনীতি তো এভাবে চলে না, আর ওনারা ওই কাউ বেল্টের জলছবি এই বাংলাতে দেখতে চান। কাজেই এই কোটা পূরণ করতে গিয়ে যেমন দেরি হয়েছে, তেমনিই আবার গুচ্ছ গুচ্ছ লোকজনের নাম বাদও গিয়েছে। শোনা গেল, শমীক ভট্টাচার্য নাকি এরকমও বলেছিলেন, ‘আমাকে নির্বাচন অবধি আমার মতো কমিটি তৈরি করতে দিন, তারপরে না হয় আপনাদের কোটা পূরণ করা যাবে।’ কিন্তু না, দিল্লি রাজী নয়। অতএব ওই কমিটির তালিকাতে এমন কেউ কেউ এসেছেন, যাঁদের কেউ চেনেই না।

আরও পড়ুন: Aajke | ২৬-এর নির্বাচনে বিজেপিকে এমন অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, যার উত্তর তাদের কাছে নেই

ওদিকে ‘ন্যাড়া’ বললেই এখন যে আর সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’-এর কথা মনে পড়ার আগেই কৌস্তুভ বাগচির কথা মনে পড়ে যায়, সেই আপাতত বিজেপির অত্যন্ত পরিচিত মুখ বাদ। বাদ পড়েছেন তরুণজ্যোতি তেওয়ারি, বাদ শঙ্কুদেব পন্ডা, ওড়িশা কোটা ছিল না বলে হয়তো, বাদ পড়েছেন সজল ঘোষ, এতদিন পরে যাও বা রাজ্য সভাপতি তাঁর ঘনিষ্ঠ রিতেশ তেওয়ারি বা সায়ন্তন বসুকে দলে ফিরিয়েছেন, তাঁদের কমিটিতে জায়গা দিতে পারলেন না। গতবারের কমিটিতেও ছিলেন সোনালি মুর্মু, না তাঁর নাম কেউ শুনেছে বলেও জানা নেই, কিন্তু তিনি এবারেও আছেন ওই শিডিউল ট্রাইব কোটায়। আর সবচেয়ে মজার নাম, যা নিয়ে দলের ভেতরে হাসাহাসি চলছে, সেটা হল মনোজ ভার্মা। গুগল করেও কাজে দেবে না, ওই আইপিএস-এর নাম বেরিয়ে আসবে আর উনি বিজেপি জয়েন করেননি। তো ইনি কে? কেন রাজ্য কমিটিতে? জানা গেল, উনি হলেন মিঠুন চক্রবর্তীর পিএ ছিলেন, সেই সুবাদেই উনি রাজ্য কমিটিতে। মিঠুন’দা বিজেপিতে থেকেও যে তৃণমূলের কথা ভাবেন সেটা বোঝা গেল। এই মনোজ ভার্মাকে নেবার জন্য গোটা উত্তর কলকাতা ফুঁসছে। এত গরমিল তবুও পার্টি অফিস ভাঙচুর বা সাংবাদিক ডেকে গোঁসা দেখানো হচ্ছে না, কেন? তার কারণ হল, ক’দিন পরেই প্রার্থী তালিকা বেরোবে, কমিটিতে নেই তো কি, প্রার্থী তালিকাতে থাকলেই হবে! এইজন্যই পজ বটম টিপে সব্বাই বসে আছে। কিন্তু যদি প্রার্থী তালিকাতেও নাম না থাকে ন্যাড়া বাগচির, তাহলে? তাহলে কিন্তু খবর আছে, প্রার্থী না হওয়া পর্যন্ত চুল না কাটার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলতে পারেন কৌস্তুভ বাগচি। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, সজল ঘোষ, শঙ্কুদেব পন্ডা, কৌস্তুভ বাগচি, তরুণজ্যোতি তেওয়ারি, রীতেশ তেওয়ারিদের মতো পরিচিত মুখদের বাদ দিয়ে যে বিজেপি রাজ্য কমিটি তৈরি হল, তারা কি ঐক্যবদ্ধভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়তে পারবে?

বিজেপি নির্দিষ্টভাবে কাউ বেল্টের, গো বলয়ের দল, তারা সেভাবেই দলকে চালাতে চায়, কাউ বেল্টের নিরামিষ, রামজী, হিন্দুত্ব আর মুসলমান ঘৃণা সারা গায়ে মেখে বাংলাতে রাজনীতি করা যায় না। তাঁরা এখনও বাংলার রাজনৈতিক সামাজিক কাঠামোকেই বুঝে উঠতে পারেননি। পারেননি বলে লক্ষ কোটি টাকা খরচ করে, হাজার বার ইডি-সিবিআই পাঠিয়েও বাংলার মাটিতে দাগ কাটতে পারছেন না। বাঙালি অন্য অনেক দিকে পিছিয়ে, কিন্তু বাঙালি পরিচিতি বাঙালির কাছে এক গর্বের ব্যাপার। বিজেপির মাথাতে সেটা ঢোকে না। ওদের কাছে একজন অবাঙালি ‘চলায় চলায়’ বলার বদলে ‘চোলায় চোলায়’ বলেছে তো কী হয়েছে? ‘বঙ্কিম’দা’ বলেছে তো কি হয়েছে? ‘মোহন বেঙ্গন’, ‘ইস্ট বেঙ্গন’ বলেছে তো কী হয়েছে? এরকমটা তাঁরা মনে করেন, কিন্তু এগুলো বাঙালি পরিচিতিতেই ঘা দেয়, আর সেই পরিচিতিকে নিয়ে রাজনীতি না করতে পারলে কাউ বেল্টের এই রাজনীতি কোনওদিন এই রাজ্যে মাটি পাবে না।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News