Wednesday, January 14, 2026
HomeBig newsরাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ, মৃত্যুর হার মারাত্মক, কোন মাংস থেকে দূরে থাকবেন?
Nipah Virus

রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ, মৃত্যুর হার মারাত্মক, কোন মাংস থেকে দূরে থাকবেন?

শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করলে ৪ থেকে ১৪ দিন লেগে যায় উপসর্গ বুঝতে

ওয়েবডেস্ক-  বাংলায় আতঙ্ক জাগিয়ে আগমন নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus)। বছর শুরুর যে আনন্দ-অনুভূতি মানুষের মধ্যে ছিল, এই ভাইরাসের আসার সঙ্গে সঙ্গে গায়েব। সেই জায়গায় মানুষের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে উদ্বেগ, ভয়, অজানা আতঙ্ক।

নিপার উপসর্গ (Symptoms) হিসেবে প্রথম পর্যায়ে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশীতে ব্যথা, বমি, গলা ব্যথা, বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ দেখা যায়। সেই মাথা ঘোরা, বেঁহুশ হয়ে যাওয়া, অসংলগ্ন প্রলাপ এবং মস্তিষ্কের তীব্র সংক্ৰমণ জনিত স্নায়বিক লক্ষণ সহ নিউমোনিয়া, তীব্র বুকে যন্ত্রণা সহ শ্বাসকষ্ট সম্মুখীন হতে পারে। কিছু লোক নিউমোনিয়া, তীব্র বুক যন্ত্রণা সহ তীব্র শ্বাসকষ্টের সম্মুখীন হতে পারেন। নিপায় সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হল, এই সংক্রামণ প্রতিরোধে কোনও ভ্যাকসিন নেই। কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

অক্সফোর্ডে একটি ভ্যাকসিন তৈরির কথা জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত কোনও ভ্যাকসিন (Vaccine) তৈরি হয়নি। চিকিৎসকেরা বলছেন, শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করলে ৪ থেকে ১৪ দিন লেগে যায় উপসর্গ বুঝতে। মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ, স্নায়ুতন্ত্র ফেল করলে বিপদ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

চিকিৎসকেরা বলছেন শুয়োয়ের মাংস (Pork) খাওয়া এই সময় বন্ধ রাখতে হবে। সেই সঙ্গে শুয়োর পালনা এড়িয়ে চলতে হবে। কোনও ফল খাওয়ার আগে সেটি ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। সেই সঙ্গে N-95 মাস্ক ব্যবহার করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরের খাবার যতটা সম্ভব এই সময় না খাওয়াই ভালো।

নিপা ভাইরাস মাংস খাওয়ার মাধ্যমে ছড়ায় না। তবে সংক্রামিত প্রাণীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেমন-বাদুড়, শুয়োর, ঘোড়া, ছাগল, কুকুর, বিড়াল তাদের শরীরের তরল পদার্থ। কাঁচা তালের রস যা বাদুড় আগেই সেই তালটিতে কামড় দিয়েছে, এমন ফলের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রামিত খামার থেকে শুয়োরের মাংস খেলে ভাইরাস ঢুকতে পারে এই মানুষের শরীরে। বাদুড় এই ভাইরাসের বাহক, এই ভাইরাসটি তাদের লালা, প্রস্রাব বা মলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শুয়োররা সেই দূষিত ফল বা ফলের রস খেয়ে সংক্রামিত হয়। এবার সংক্রামিত শুয়োরের কাছাকাছি থাকা মানুষেরা রক্ত, প্রস্রাব, লালা থেকে ভাইরাস সংক্রামিত হতে পারে। ফলে পরোক্ষভাবে মানুষ সংক্রামিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন-  নিপা ভাইরাস ঠিক কতটা মারাত্মক? করোনার মতোই ভয়াবহ?

খেজুরের রস বাদ দিতে হবে এই সময়ে, তার বদলে গুড় খাওয়া যেতে পারে। কারণ তাপমাত্রায় গরম করে জাল দিয়ে গুড় বানানো হচ্ছে, ফলে জীবাণু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলের ক্ষেত্রেও সাবধানতা নিতে হবে। ফলে দাগ রয়েছে, এই ধরনের ফল খাওয়া যাবে না। ফল কেটে যদি দেখা যায়, ভিতরের অংশটি পচা তাহলে গোটাটাই ফেলে দিতে হবে।

ফল, শাক-সবজিতেও একই ব্যাপার কামড়ের দাগ থাকলে খাওয়া চলবে না। ভালো করে ধুয়ে শাক-সবজি ফল খেতে হবে।  মাংসের ক্ষেত্রেও ভালো করে সিদ্ধ করে খেতে হবে। আর হাত ধোয়া থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করতে হবে।

 

Read More

Latest News