ওয়েবডেস্ক- বর্তমান সময়ে স্মার্ট ফোনের যুগ। সবার হাতেই একটা করে স্মার্টফোন (smart phone) । নানা ধরনের স্মার্টফোনে এখন বাজার ছেয়ে গেছে। বিভিন্ন কোম্পানি নিত্য নতুন ফিচারযুক্ত স্মার্টফোন তাদের বাজারে নিয়ে আসছে, আর সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেগুলির কদর বাড়ছে নয়া প্রজন্ম থেকে কম বেশি সকল প্রজন্মের কাছে। কারণ একটা স্মার্ট ফোন থাকলেই আর সব কাজ এক সেকেন্ডের মধ্যেই হয়ে যায়, ফলে মার্কেটে চাহিদা বেশি।
তবে স্মার্টফোন ছেড়ে সাধারণ বা ‘বোকা’ ফোনে (Dumbphone) ফিরে যাওয়ার এই প্রবণতা আসলে দুনিয়া উল্টো দিকে ঘোরা নয়, বরং আধুনিক জীবনের ডিজিটাল ক্লান্তি থেকে বাঁচার একটি সচেতন প্রচেষ্টা। ২০২৩-২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ট্রেন্ড ২০২৫-২৬ সালেও বেশ জোরালোভাবে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মের মধ্যে।
স্মার্টফোনের অন্তহীন নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ডোপামিন-ড্রাইভেন’ অ্যালগরিদম এবং সারাক্ষণ অনলাইনে থাকার চাপ থেকে মুক্তি পেতে অনেকে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোন ছেড়ে সাধারণ ফোনে ফিরলে উদ্বেগ কমে এবং ঘুমের মান উন্নত হয়। স্মার্টফোন আমাদের মনোযোগের ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এমনকি ফোনটি পাশে থাকলেও তা আমাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। সাধারণ ফোনে অ্যাপ বা ইন্টারনেট না থাকায় মানুষ কাজে বেশি মনোযোগী হতে পারছেন। স্মার্টফোন প্রতিনিয়ত আমাদের ডেটা ট্র্যাক করে। সেই তুলনায় সাধারণ ফোনে ডেটা সংগ্রহের সুযোগ অনেক কম, যা ব্যবহারকারীদের বাড়তি সুরক্ষা দেয়। অনেকে ১৯৯০ বা ২০০০-এর দশকের ফ্লিপ ফোন বা স্লাইড ফোনের নস্টালজিয়া থেকেও এগুলো ব্যবহার করছেন। এটি এখন এক ধরণের ‘ডিজিটাল মিনিমালিজম’ বা স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবেও গণ্য হচ্ছে। স্মার্টফোনের মতো প্রতিদিন চার্জ দেওয়ার ঝামেলা এই ফোনগুলোতে নেই। একবার চার্জ দিলে বেশ কয়েকদিন চলে যায়, যা ভ্রমণে বা ব্যাকআপ ফোন হিসেবে সুবিধাজনক।
২০২৩ সালে আমেরিকায় এক টিকটক ব্যবহারকারী প্রথম ‘ব্রিংব্যাকফ্লিপফোন’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে ভিডিয়ো পোস্ট করার পরেই সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল। নয়া প্রজন্ম থেকে ‘মিলেনিয়াল’ অর্থাৎ তাদের আগের প্রজন্মের সমর্থন জানিয়েছিল। এই নিয়ে প্রচার চলেছে। কোনও দল চেয়েছে স্মার্টফোনের বদলে ব্ল্যাকবেরিকে ফিরিয়ে আনতে। কোনও দল চেয়েছে স্মার্টফোনের বদলি হিসাবে সেই প্রথম জমানার ইটের মতো ভারী আর শক্ত ‘নোকিয়া ১১১০’ ফিরিয়ে আনতে। ব্রিটেনে স্মার্টফোন-মুক্ত শৈশবের পক্ষেও পথে নেমেছেন বাবা-মায়েরা। আর এই সব কিছু যার দাবিতে, তার কেন্দ্রে রয়েছে সেই প্রথম যুগের বোতাম টেপা ফোন। ‘ডাম্ব’ ফোন। এমন ফোন যা আপনার ফোনে নজরদারি চালাবে না।
আরও পড়ুন- মিশরের রাজারা দিনে একবার খেতেন, জানেন কেন?
এক রকম সাধ করেই ‘বোকা’ হওয়ার এই বিপ্লব। তবে বিদেশে ইতিমধ্যেই তা প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। অস্কারজয়ী সিনেমা ‘থিয়োরি অফ এভরিথিং’-এর নায়ক এডি রেডমেন আইফোন ছেড়েছেন বেশ কয়েক বছর আগেই। বদলে কিনেছেন, সস্তার একটি ডিজিটাল ফিচার ফোন এবং এডি জানিয়েছেন, এই বদল তার জীবনের ভারটা অনেকটা কমিয়েছে। আগের থেকে অনেক বেশি হালকা বোধ করছেন তিনি। হলিউডের অভিনেতা মাইকেল সেরা স্মার্টফোন ছেড়ে বেছে নিয়েছেন ফ্লিপফোন, ‘পার্ল হার্বার’ অভিনেত্রী কেট বেকিনসেলও স্মার্টফোন ছেড়ে ফ্লিপফোন বেছে নিয়েছেন মানসিকতার সুস্থতার জন্য।
অভিনেকা ক্রিস পাইন আবার আইফোন ছেড়ে ৪ বছরের জন্য ডাম্ব ফোনে ব্যবহার করে ফের স্মার্টফোনে ফিরে এসেছেন। তার বক্তব্য, এই যুগে এই ব্যাপারটা কঠিন। স্মার্টফোন ছেড়ে থাকতে মনের জোর লাগে, যারা পেরেছেন তাদের অভিনন্দন। তবে স্মার্টফোনের বর্জনের লড়াই চালিয়ে যাব।







