HomeJust Inএসআইআর শুনানির আগেই আত্মহত্যা ৭০ বছরের বৃদ্ধের
SIR

এসআইআর শুনানির আগেই আত্মহত্যা ৭০ বছরের বৃদ্ধের

মৃতের নাম নারায়ণ চন্দ্র সেনগুপ্ত

কলকাতা: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করলেন ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে শনিবার, ১৮ জানুয়ারি দুপুরে সালানপুর (Salanpur) ব্লকের হিন্দুস্তান কেবলস সংলগ্ন অরবিন্দ নগরের ৭ নম্বর রাস্তায়। মৃতের নাম নারায়ণ চন্দ্র সেনগুপ্ত (৭০)। তিনি চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার প্রাক্তন কর্মী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণ বাবু দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করতেন। তিন মেয়েই বিবাহিতা। সম্প্রতি ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশিত হলে তিনি জানতে পারেন, তাঁর এবং তাঁর ছোট মেয়ের নাম তালিকায় নেই। পরে এসআইআর শুনানির নোটিসও পান। কিন্তু শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে একাধিক বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন তিনি। অভিযোগ, তাঁর পিএফ পেনশন বুক বা অন্যান্য নথিকে যথাযথ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে না—এই আশঙ্কায় চরম মানসিক চাপে ভুগছিলেন বৃদ্ধ।

আরও পড়ুন: ‘নেতাজির প্রপৌত্রকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ?’ SIR নোটিসে প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন

পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই নারায়ণ বাবু অত্যন্ত চিন্তিত ও চুপচাপ ছিলেন। প্রায়ই বন্ধু ও প্রতিবেশীদের কাছে নিজের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করতেন। সংশ্লিষ্ট বিএলও তাঁকে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও শুনানিতে কী হবে, সেই অনিশ্চয়তা কাটেনি। শনিবার সকালে নিয়মমাফিক সেলুনে দাড়ি কাটিয়ে বাজার করেন তিনি। পরে বাজারের থলে স্ত্রী ও ছোট মেয়ের হাতে দিয়ে দোতলার ঘরে যান। সেখানেই বিছানার চাদর দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার চাপ ও বিভ্রান্তিই এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য দায়ী। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর মেয়ের নাম থাকলেও পিতা হিসেবে নারায়ণ বাবুর নাম উল্লেখ থাকলেও তাঁর নিজের নাম নেই—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ঘন ঘন নির্দেশ ও নথি সংক্রান্ত পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। শোকস্তব্ধ পরিবার, অসুস্থ স্ত্রী কার্যত বাকরুদ্ধ।

[youtube-feed feed=1]
Read More

Latest News