HomeScrollতৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ অব্যাহত,পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের
Kalighat Trinamool Bank Account Case

তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ অব্যাহত,পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

মামলার পরবর্তী শুনানি ৮ জুলাই

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ব্যাঙ্ক একাউন্টের আর্থিক লেনদেন নিয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর নির্দেশ,এইচ ডি এফসি ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা ব্রাঞ্চের ম্যানেজারকে আগামী বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক তহবিলের মোট আমানত, ব্যাঙ্কের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে হলফনামা দিতে হবে। ৮ জুলাই ফের শুনানি । তবে কালিঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আপাতত আর্থিক লেনদেন চালু রাখার যে আর্জি জানানো হয়েছিল তা খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি।

প্রসঙ্গত,কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের ভিতরে ডামাডোল চলায় কোষাধ্যক্ষ অরুপ বিশ্বাস ব্যাঙ্ককে চিঠি দিয়ে আপাতত লেনদেন বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছিলেন। তারপর পুলিশ ১৮ জুন এফয়াইয়ার দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। বন্ধ করে দেওয়া হয় ৩ টি ব্যাঙ্কের একাউন্ট। সেই একাউন্টের লেনদেন চালু করতে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানায় কালীঘাট তৃণমূল।

আরও পড়ুন: আরও জটিল আইনি প্যাঁচে দেবরাজ, বিপুল সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনে নজর ইডির

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি পর্বে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষের আইনজীবী রুদ্র নন্দীর সওয়াল, অরুপ বিশ্বাস যিনি কোষাধ্যক্ষ ছিলেন তার চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তৃনমুল কংগ্রেসের অপর আইনজীবী কিশোর দত্ত বলেন, তিনটি নয়, আরো অন্তত পাঁচটি ব্যাঙ্ক একাউন্ট শুধুমাত্র সন্দেহের কারনে লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কে চিঠি দেওয়া হয় যাতে কোন বেয়াইনি লেনদেন যাতে না হয়।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর বার্তা, আজকে আদালত শুধুমাত্র বিচার করবে কোন অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া যাবে কিনা। অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে। এই মুহুর্তে আদালতের হস্তক্ষেপ করা কি উচিত? পাশাপাশি আদালতের দেখা দরকার তিনটি ব্যাঙ্ক একাউন্ট বন্ধ রাখার আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা তদন্তের প্রয়োজনে। তবে অভিযোগ যখন দায়ের হয়েছে তখন তদন্তের স্বার্থে তো ব্যাঙ্ক একাউন্ট বন্ধ রাখাই শ্রেয়!

রাজ্য পুলিশের পক্ষে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতার সওয়াল, এই একাউন্টের টাকা যাতে সাইফন(বিদেশে চালান) না হয় সেটা দেখা প্রয়োজন।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর মন্তব্য, আমি ব্যাঙ্কের থেকে এবং অন্যান্য সব পক্ষের থেকে হলফনামা তলব করবো।তারপর এই মামলার শুনানি করা হবে। তবে আপাতত যাতে পার্টির প্রতিদিনের খরচ চালাতে পারে তার ব্যাবস্থা করতে হবে। ১৮ জুন অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ যেটা দায়ের হয়েছে তাতে সুনিশ্চিত কোনো কারন উল্লেখ করা হয়নি।

তৃণমূল কংগ্রেসের অপর এক আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, সংবিধানের ১৯ ধারা অনুযায়ী পুলিশ কোন রাজনৈতিক দলের ব্যাঙ্ক একাউন্ট ফ্রিজ করতে পারে? রাজনৈতিক কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে?
১৮ জুন যে এফয়াইয়ার দায়ের হয়েছে সেই পরিপ্রেক্ষিতে সব একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একটা রাজনৈতিক দল নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে দেখে এই ভাবে তাদের কার্যকলাপ বন্ধ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা করা যায়? আদালত কিছু দেখার আগে পুলিশ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। সব গুলো একাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। আদালত যদি হস্তক্ষেপ না করে তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকলাপ বন্ধ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অভিযোগকারী অরুপ বিশ্বাসের আইনজীবী নিরাজ কিষান কল আদালতে দাবি করেন.
আমার অভিযোগের পর ৫ জুন নতুন একজনকে কোষাধ্যক্ষ হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে। কে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করবে সেটা এখন নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে।এই পরিস্থিতিতে এই মামলা আদৌ গ্রহণযোগ্যই নয়।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর মন্তব্য, আমি সেই বিষয় নিয়ে বিচার করতে বসিনি।গত ১৮ জুন পুলিশ এফয়াইয়ার দায়ের করে যে তদন্ত শুরু করেছে আদালত সেই বিষয়ে জানতে চায়।পাশাপাশি আদালত ব্যাঙ্কের কাছে আর্থিক লেনদেনের নথি চাইবে।

রাজ্য পুলিশের পক্ষে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতার প্রস্তাব, কোন নিরপেক্ষ এজেন্সিকে দায়িত্ব দেওয়া হোক এই মুহুর্তে একাউন্ট থেকে টাকার লেনদেন আদৌ চলতে পারে কিনা। দুটো গ্রুপ পার্টির মধ্যে তৈরি হয়েছে। কারা অর্থ খরচ করবে? সেই প্রশ্ন রয়েছে। সেই জন্যই একজন লেনদেন বন্ধ রাখা উচিত।

তুষার মেহতার উদ্যেশে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর মন্তব্য, ১৮ জুন পুলিশ তদন্ত শুরু করার পর কি আদালত এখন আর আপনার বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে পারে? কিভাবে টাকা সাইফন হতে পারে বলে আপনি আশঙ্কা করছেন?

রাজ্য পুলিশের পক্ষে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতার জবাব, দুটি গ্রুপের প্রত্যেকেই যদি দাবি করে আমরা আসল।সেক্ষেত্রে ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে। সেই জন্যই বন্ধ রাখা উচিত।

[youtube-feed feed=1]
Read More

Latest News