কলকাতা: ভিনরাজ্য থেকে বিচারক এনে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর শেষ করতে বলল সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর (SIR in West Bengal) কাজে বিচারক আনা হবে ওড়িশা ও ঝাড়খন্ড থেকে। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি।জয়মাল্য বিচারপতি বাগচী, পরে যে সব তালিকা প্রকাশিত হবে সেগুলিকে ২৮ তারিখের তালিকা হিসাবেই ধরা হবে। কমিশনের পবিত্রতা বজায় রাখতে হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রায় ৮০ লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি এবং আনম্যাপড তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে জেলা বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা বিচারক পদমর্যাদার ২৫০ জন বিচার বিভাগীয় অফিসারকে প্রায় ৫০ লক্ষ দাবি যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কাজে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তিন বছর বা তা বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিভিল জজ পদমর্যাদার অফিসারদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের অনুরোধ করা হচ্ছে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির কোনও আবেদন জানালে তা সহানুভূতির সঙ্গে এবং জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। প্রধান বিচারপতি আরও জানান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাদের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। রিপোর্টে উল্লেখ এই কাজের জন্য পর্যাপ্ত লোকের অভাব রয়েছে। প্রতি দিন ২৫০টি করে নিষ্পত্তি করলেও, প্রায় ৮০ দিন সময় লাগবে। পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অবসরপ্রাপ্তদের পাশাপাশি ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারকদের নেওয়া যাবে। ওই দুই রাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই বিষয়ে সাহায্য করতে অনুরোধ করব।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম নির্দেশ মেনে লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করে দিলেন বিচারকেরা
প্রধান বিচারপতির এই নির্দেশের পর রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ভিন রাজ্যের বিচারকরা বাংলা ভাষা বুঝবেন না। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, “ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের মানুষ ভাষা বোঝেন। একসময় পুরো এলাকায় বাংলার ছিল।”প্রধান বিচারপতি বলেন, এই অবস্থায় আমাদের কিছু করার নেই। ইতিহাস বলছে এক সময় ওই রাজ্যগুলি একই প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ ছিল। তাই স্থানীয় উপভাষা বা ভাষার ধরন থেকে কিছুটা বুঝতে পারবেন। এই পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য প্রধান বিচারপতি জানান, নথি যাচাইয়ের এই কাজে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি তিন বছর বা তার বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিভিল জজ (সিনিয়র ও জুনিয়র ডিভিশন) পদমর্যাদার অফিসারদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিদেরও তিনি অনুরোধ করেন, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কোনও আবেদন এলে তা সহানুভূতির সঙ্গে ও জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, যাচাই প্রক্রিয়া হবে নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী। ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে জমা নথিই গ্রহণ করা হবে। অতিরিক্ত তালিকা ২৮ তারিখে প্রকাশিত তালিকা হিসাবেই ধরা হবে।







