কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) সাফল্য পেতে মরিয়া বঙ্গ বিজেপি (BJP)। সংগঠন মজবুত করা থেকে শুরু করে ইস্তেহার তৈরির জন্য জনমত সংগ্রহ—সব দিকেই জোর দিচ্ছে পদ্ম শিবির। তবে প্রচারে ঝড় তুললেও বঙ্গ বিজেপির অন্দরমহলের বাতাবরণ ততটাও শান্ত নয় বলে মত একাংশের। একজোড়া দলীয় সমস্যা এখনও কাটেনি বলেই দাবি দলের অন্দরের একাংশের।
এই আবহেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যসভা (Rajya Sabha) নিয়ে। দলীয় মহলের দাবি, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহাকে (Rahul Sinha) রাজ্যসভায় পাঠানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, এই প্রস্তাবের পক্ষে রয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। অন্যদিকে দলের নব্য গোষ্ঠীর একাংশ চাইছে, রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেওয়া হোক অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে (Mithun Chakraborty)। কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে তাঁর পূর্ববর্তী সাংসদ অভিজ্ঞতা। তিনি আগে তৃণমূল কংগ্রেসেরর টিকিটে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘গরীব হতে পারি, গদ্দার নই’! প্রতীক উরের দলবদলে ভাইরাল ‘পঞ্চায়েত’-এর বিনোদ
দলীয় অন্দরে এই মতভেদের জেরে অস্বস্তি বাড়ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, একটি পদের জন্য নাম নিয়ে দ্বন্দ্বের বার্তা বাইরে গেলে সংগঠনের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই বঙ্গ বিজেপিতে ‘আদি’ ও ‘নব্য’ নেতা–কর্মীদের মধ্যে বিভাজনের অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, আদিপন্থী নেতাদের একাংশ এখনও সক্রিয় রাজনীতিতে পুরোপুরি ফিরতে অনীহা দেখাচ্ছেন।
রাহুল সিনহাকে নিয়ে সমালোচনাও শোনা যাচ্ছে নব্য গোষ্ঠীর তরফে। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনী সাফল্যের নিরিখে তাঁর রেকর্ড উল্লেখযোগ্য নয়। পাল্টা আদিপন্থীদের দাবি, শুধুমাত্র গ্ল্যামার বা জনপ্রিয়তা রাজ্যসভায় যাওয়ার একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না; রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা মিঠুন চক্রবর্তীর রাজনৈতিক সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে রাজ্যসভার পদ নিয়ে যে বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছে, তা একপ্রকার স্পষ্ট।
দেখুন আরও খবর:







