কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকারের সক্রিয়তায় কাশ্মীর (Kashmir) সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে আশাবাদী বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)। তাঁর দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ভারতের অন্তর্ভুক্ত হলেই নয়াদিল্লি-ইসলামাবাদ (New Delhi-Islamabad) সংঘাত নিমেষে মিটে যাবে। সম্প্রতি ব্রিটেন (Britain) সফরে গিয়ে লন্ডনের (London) চ্যাথাম হাউসে (একটি আলোচনাসভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।
জয়শঙ্কর স্পষ্ট করেন, ভারত সরকার (Indian Government) এখন পাকিস্তানের (Pakistan) ‘চুরি করা’ জমি ফেরত আনার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘৩৭০ ধারা (Article 370) বাতিল এবং জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu & Kashmir) বিধানসভা ভোটের (Assembly Elections) আয়োজন সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।’’ তাঁর কথায়, পাকিস্তান যদি এই অংশটি ভারতকে ফিরিয়ে দেয়, তবে কাশ্মীর সমস্যার (Kashmir Issue) স্থায়ী সমাধান হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: লন্ডনে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের গাড়িতে হামলা
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলুপ্ত হয়। সেই থেকে জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বিজেপি নেতাদের দাবি ছিল, পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত আনার মাধ্যমে মোদী সরকার কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রচারে বলেছিলেন, মোদী জেতার ছ’মাসের মধ্যে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্ত হবে।
বিদেশ সফরে গিয়ে বুধবার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়র স্টার্মারের সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। আলোচনা হয় দু’দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গে। ব্রিটেনের বিদেশসচিব ডেভিড ল্যামি এবং অন্যান্য বর্ষীয়ান নেতারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এই মন্তব্যের পর থেকে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে বিতর্ক শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে তৃতীয় মোদী সরকারের বর্ষপূর্তির আগে জয়শঙ্করের এই মন্তব্য কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
দেখুন আরও খবর: