কলকাতা: সম্প্রতি কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ৭৪ তম প্রাক্তনী পুনর্মিলন অনুষ্ঠান(74th Annual Reunion Debate and Annual Academic Meet, Calcutta National Medical College, 2026) হয়ে গেল। এবছর এই পুনর্মিলনীতে চিকিৎসকদের সুরক্ষার বিষয় নিয়ে এক বিতর্ক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। বিতর্ক সভার বিষয় ছিল বিচার বিভাগের ভয়ের প্রভাব। অর্থাৎ ‘বিচার বিভাগের ভয় চিকিৎসকদের সর্বাধিক যত্ন দিতে বাধা দিচ্ছে কি না!'(“Fear of the judiciary hinders the medics from giving maximal care”)

প্রসঙ্গত, এদিনের এই বিতর্ক সভায় প্রস্তাবের স্বপক্ষেই রায় দেওয়া হয়। ডাক্তারদের পক্ষে জড়ালো যুক্তি দিয়ে বিতর্ক শুরু করেন চিকিৎসক কুনাল সরকার(Kunal Sarkar)। তিনি বলেন ডাক্তাররাই একমাত্র পেশাজীবী যাদের বিরুদ্ধে বিচারের চারটি ফোরামে মামলা করা হয়। সেখানে একটি ভোক্তা আদালত একটি দেওয়ানী আদালত একটি ফৌজদারী আদালত এবং কখনো কখনো পুলিশও আপনার দরজা কড়া নাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ, মৃত্যুর হার মারাত্মক, কোন মাংস থেকে দূরে থাকবেন?
এদিন চিকিৎসকদের সঙ্গে জমে উঠেছিল বিচারকদের বিতর্কসভা। প্রস্রাবের বিরুদ্ধে প্রথম কথা বলেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জী(Judge Samapti Chatterjee)। তার মধ্যে চিকিৎসকদের আদালতে টেনে নিয়ে গেলে বিচারবিভাগকে দায়ী করা যায় না। কোন ডাক্তারের দোষ থাকলে তাকে আদালতে তোলা হতেই পারে।
কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র অর্থোপেডিক কৌশিক ঘোষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জিকে পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন আজকাল ডাক্তাররা শুধু স্টেথোস্কোপই বহন করে না, তাদের সঙ্গে এই ভয়ও বহন করতে হয় যে একটি ‘মৃত্যু’ অবহেলার অভিযোগ উত্থাপন করবে।
কলকাতা হাইকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী সুরঞ্জন দাশগুপ্ত বলেছেন যে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ‘বিরলতম বিরল’। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগে বিশেষজ্ঞের মতামত না নিয়ে গ্রেফতার করা যাবে না।
এছাড়া বিতর্ক সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বপন দাশগুপ্ত,প্রদীপ গুপ্ত উৎপল চ্যাটার্জি প্রমূখ।






