Thursday, January 15, 2026
Homeলাইফস্টাইলখবরের মধ্যেকার 'খবর' খুঁজতে দরকার নিজস্ব দৃষ্টি!
Curriculum and Credit Framework

খবরের মধ্যেকার ‘খবর’ খুঁজতে দরকার নিজস্ব দৃষ্টি!

নিউ আলিপুর কলেজের সাংবাদিকতা বিভাগের মনোজ্ঞ সেমিনার ও কর্মশালা

কলকাতা: বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল সংবাদমাধ্যমের দুনিয়ায় কেবল পুঁথিগত বিদ্যাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পেশাদারী দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সিসিএফ পাঠ্যক্রমের(Curriculum and Credit Framework) সেই বাস্তব দিকগুলি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে সম্প্রতি এক মনোজ্ঞ সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করেছিল নিউ আলিপুর কলেজের(New Alipore Colleg) সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগ(Journalism Workshop)।

নিউ আলিপুর কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বিশেষ আলোচনার বিষয় ছিল ‘সিসিএফ পাঠ্যক্রমের অধীনে অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষার প্রায়োগিক দিক ও পরিধি’।

আরও পড়ুন: জাভিয়েস্তা ৪.০: রেট্রোভার্সে পা রাখছে ভবিষ্যৎ!

অনুষ্ঠানের মূল বক্তা বা রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহারাজা মনীন্দ্রচন্দ্র কলেজের সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান ড. বিশ্বজিৎ দাস। প্রথাগত শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একজন জনপ্রিয় রেডিও জকি (RJ) এবং সুপরিচিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে ড. দাস শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দেন, নতুন এই পাঠ্যক্রম কেবল সিলেবাস শেষ করার জন্য নয়, বরং কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেকে তৈরি করার একটি সুযোগ।

এ দিন সাংবাদিকতা বিভাগের বিভিন্ন সেমেস্টারের ছাত্রছাত্রীরা এই আলোচনায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। ড. দাস তাঁর আলোচনায় ফিল্ড রিসার্চ, স্টোরিটেলিং বা গল্প বলার আর্ট এবং স্ক্রিপ্টিং বা চিত্রনাট্য তৈরির খুঁটিনাটি হাতে-কলমে শিখিয়ে দেন। একটি নিছক সেমিনারের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে একটি প্রাণবন্ত ‘হ্যান্ডস-অন’ ট্রেনিং সেশন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘খবরের ভেতরের খবর খুঁজে বের করতে গেলে নিজস্ব দৃষ্টি ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো অত্যন্ত প্রয়োজন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এই পাঠ্যক্রম নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যে কৌতূহল এবং কিছুটা আশঙ্ক ছিল, এই আলোচনার মাধ্যমে তার অনেকটাই দূর হয়েছে বলে মনে করছেন বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে হয় এবং সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কীভাবে একটি আকর্ষণীয় চিত্রনাট্য তৈরি করা সম্ভব, তার বাস্তব প্রশিক্ষণ পান পড়ুয়ারা।

অনুষ্ঠানের সাফল্য প্রসঙ্গে নিউ আলিপুর কলেজের সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগের প্রধান ড. অমর্ত্য সাহা বলেন, ‘নতুন পাঠ্যক্রমের পরিধি বুঝতে এবং অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে এই ধরণের কর্মশালা অত্যন্ত জরুরি। এতে পড়ুয়ারা পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ব্যবহারিক ক্ষেত্রেও নিজেদের শাণিত করে তোলার সুযোগ পায়।’

কলেজ কর্তৃপক্ষের মতে, আগামী দিনেও ছাত্রছাত্রীদের পেশাদার জগতের জন্য আরও উপযোগী করে তুলতে এ ধরনের সেমিনার ও ওয়ার্কশপের আয়োজন নিয়মিত করা হবে। সাংবাদিকতার এই ছাত্রছাত্রীদের চোখেমুখেও সেদিন ছিল নতুন কিছু শেখার আত্মবিশ্বাস।

Read More

Latest News