ওযেব ডেস্ক: ‘গোড়া থেকেই বাসনা ছিল…’। মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজ্যসভায় (Nitish Kumar File Nominations Rajya Sabha) যাচ্ছেন নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)। জল্পনা চলছিল গত বুধবার থেকেই৷ এবার সেই খবরে নিজেই সিলমোহর দিলেন নীতীশ কুমার৷ বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে রাজ্যসভাতেই যাচ্ছেন তিনি৷ বৃহস্পতিবার সকালে স্যোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে নিজেই এই কথা জানিয়েছেন তিনি। নীতীশের ঘোষাণার পরই এদিন সকাল থেকেই বিহারের রাজধানী পটনার সড়কে নেমেছিলেন জেডিইউ কর্মী-সমর্থকেরা। দলের রাজ্য দফতর ভাঙচুরের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সরকারি বাংলোর সামনেও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রিত্ব নেওয়ার জন্যই বিজেপি নেতৃত্ব নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে রাজ্যসভায় পাঠানোর বন্দোবস্ত করেছেন।এমনটাই দাবি বিক্ষোভকারী জেডিইউ কর্মী-সমর্থকদের। বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদের পুত্র তেজস্বী যাদব বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত বিহারের জনমতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। বিজেপি সবসময়ই দলিত ও ওবিসি (অনগ্রসর)-দের বিরোধিতা করেছে। নীতীশজি মুখ্যমন্ত্রিত্ব পদ ছেড়ে দিলে তারা সমাজবাদীদের দুর্গে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে।’’বিধানসভা ভোটের চার মাসের মাথায় বিহারে মুখ্যমন্ত্রিত্ব বদলের ঘটনাকে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্দেকে সরিয়ে বিজেপির দেবেন্দ্র ফডণবীসকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর সঙ্গে তুলনা করেন তেজস্বী।
রাজনৈতিক এই টানাপড়েনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে গিয়ে রাজ্যসভা ভোটের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন নীতীশ। তাঁর সঙ্গেই মনোনয়ন জমা দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। শাহের উপস্থিতিতে বিধানসভা সচিব খ্যাতি সিংহের দফতরে মনোনয়নপত্র জমা দেন তাঁরা। সেখানে হাজির ছিলেন, বিহারের এনডিএ মন্ত্রিসভার দুই বিজেপি উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি এবং বিজয়কুমার সিংহ।
আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজ্যসভায় নীতীশ! বিহারে কি এবার মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির?
আজ, বৃহস্পতিবারই রাজ্যসভার মনোনয়ন দাখিল করবেন তিনি৷ বিহারের দশম দফার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার ৪ মাস পরেই এই সিদ্ধান্ত৷বৃহস্পতিবার রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন৷ তার আগেই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া গুঞ্জনে ইতি টেনে দৃশ্যপট স্পষ্ট করে দিলেন বিহারের ‘চাণক্য’৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে পোস্ট করে জানালেন নিজেই৷ লিখলেন, পার্লামেন্টের দুই সভার প্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছে তাঁর বহুদিনের৷সেই কারণে, এই নির্বাচনে রাজ্যসভার সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হতে চাইছি।প্রসঙ্গত, এর আগে লোকসভা, বিহারের আইনসভার উচ্চকক্ষ বিধান পরিষদ এবং নিম্নকক্ষ বিধানসভার সদস্য হিসাবে একাধিক বার নির্বাচিত হলেও আগে কখনও রাজ্যসভায় যাননি নীতীশ।গত নভেম্বর মাসেই দশম বারের জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন নীতীশ। মাঝের কিছু সময় বাদ দিলে ২০ বছর পটনার কুর্সিতে ছিলেন তিনিই। পোস্টে সে কথা উল্লেখ করে নীতীশ লেখেন, “দুই দশকেরও বেশি আপনারা ধারাবাহিক ভাবে আমার উপর ভরসা এবং বিশ্বাস রেখেছেন। এই শক্তির জোরে আমি বিহারের সেবা করতে পেরেছি।”
নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রীত্ব ছাড়াতে বিহারের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তন নিশ্চিত।বৃহস্পতিবার সকালেই নীতীশের দল জেডিইউ-র একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার বেলায় রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দেবেন তিনি। সে ক্ষেত্রে তাঁর জায়গায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, উপমুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন নীতীশের পুত্র নিশান্ত কুমার। বিহার বিধানসভায় বর্তমানে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৮৯, আর নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ-এর বিধায়ক ৮৫। বছরের পর বছর ধরে জোট রাজনীতিতে নীতীশ কুমার ছিলেন ‘বড় ভাই’। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যায় এগিয়ে থেকেও মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দিয়েছিল শুধুমাত্র জোট বজায় রাখার জন্য। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জেডিইউ-এর চেয়ে একটি বেশি আসনে লড়েছিল। সেটাকেই অনেকেই মনে করেছিলেন জোটের শক্তির ভারসাম্য বদলের প্রতীক।বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়— “সংখ্যার বিচারে এখন বিজেপিই বড় দল। তাই নেতৃত্বেও পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক।”







