কলকাতা: রাজ্যে শিল্পায়নের নামে মানুষের সামনে ভ্রান্ত ছবি তুলে ধরা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করল বিজেপি (BJP)। উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ও বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।
সংবাদ সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বারবার দাবি করেন তিনি বাংলাকে গুজরাট বা মহারাষ্ট্র হতে দেবেন না। অথচ বাস্তবে মহারাষ্ট্রে বাইরের শিল্পের বিনিয়োগ যেখানে ৩৬ শতাংশ, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে তা মাত্র ০.৬ শতাংশ। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে শিল্পায়নের নামে একের পর এক মৌ স্বাক্ষর হলেও বাস্তবে কোনও বড় শিল্প আসেনি।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলনেতাকে কথা বলতে হলে হাইকোর্টে যেতে হয় এবং বিধানসভায় কথা বললেই সাসপেন্ড করা হয়। জমি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, উন্নয়নের ক্ষেত্রে কৃষকদের ১০ শতাংশ অংশ দিতে হবে এবং লাভেও তাঁদের শেয়ার থাকা উচিত।
আরও পড়ুন: এবার রিষড়ায় ED-র হানা! শুরু তলাশি, জিজ্ঞাসাবাদ! কিন্তু কেন?
যুবভারতীর ঘটনা নিয়ে শমীক বলেন, ক্রীড়ামন্ত্রী ও ডিজিকে সামনে রেখে নাটক চলছে। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছিলেন, তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, অথচ তৃণমূল নেতাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে কেবল শোকজের নাটক হচ্ছে। বিজেপি কারও দয়ায় নয়, নিজেদের শক্তিতেই রাজ্যে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত বলে মন্তব্য করেন শমীক ভট্টাচার্য।
সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর মন-মেজাজ ভালো নেই বলেই ‘বিশ্ব বাংলা বিজনেস সামিট’-এর বদলে ‘ধনধান্যে বিজনেস সামিট’ করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ করে সেখানে উপহার বিতরণ ও আপ্যায়নের আয়োজন হবে।
তিনি জানান, বিজেপি শিল্পায়নের এই ‘মিথ্যাচার’ মানুষের সামনে তুলে ধরতে ক্যাম্প ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার চালাবে। বিজিবিএস প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মৌ স্বাক্ষরের সংখ্যা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিনিয়োগ বাস্তবে শূন্য। তাঁর দাবি, বিজিবিএসের পেছনে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচ হলেও রাজ্যের কোনও লাভ হয়নি। এই অর্থে বহু হাসপাতাল গড়ে তোলা যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও যুবভারতী কাণ্ডে যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন বিরোধী দলনেতা।
দেখুন আরও খবর:







