এমনিতে শুভেন্দু বাবু যাঁকে পিতা বলে ঘোষণা করেই দিয়েছেন, মানে প্রকাশ্যেই বলেই তো দিয়েছেন যে, নরেন্দ্র মোদি আমাদের পিতা। তো সেই মোদিজি মিথ্যে বলার ব্যাপারে আপাতত একটা এমন উচ্চতায় গিয়েছেন, যেখানে তাঁর প্যারালাল কেউ নেই, তো সেখানে তাঁর প্রিয় সন্তানেরা যে মিথ্যেই বলবেন তা নিয়ে তো কোনও প্রশ্নই উঠতে পারে না। সাধারণ মিথ্যে অনেক সময়ে হিংসের থেকে হয়, ব্যর্থতা থেকে জন্ম নেয়, নিজেকে বড় প্রমাণ করতে গিয়েই এমন মিথ্যে অনেকেই বলেন, সেগুলোকে বাদ দেওয়া যেতেই পারে। একদিন আগেই আমাদের শান্তিকুঞ্জের মেজখোকা বলেছেন যে মমতা তো জীবনে কোনও আন্দোলন করেননি, একমাত্র ওই টাটাবাবুদের রাজ্যছাড়া করা ছাড়া। এটা শোনার পর থেকে শুনলাম যে, ওনার দেহরক্ষী হাসতে শুরু করেছেন, থামতে পারছে না। কিন্তু এ ধরণের মিথ্যে হল আসলে অক্ষমতার বর্হিপ্রকাশ, তার বেশি কিছু নয়, আর এগুলো নিজের অজান্তেই মানুষ বলে ফেলে। কেন? ওই যে অক্ষমতা। ধরুন আমাদের এই ‘টাচ মি নট’ খোকাবাবু, সেই ২০২১ থেকে বিজেপিতে আছেন, ক’টা আন্দোলন খাড়া করতে পেরেছেন, ক’টা এমন আন্দোলন করেছেন, যা সারা ভারত বাদই দিলাম উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত মানুষের কাছে ছড়িয়ে গিয়েছে? একটা নয়, আধখানা, সিকিখানা সেরকম কোনও আন্দোলন করেছেন? সেই তিনি বলছেন মমতা জীবনে কোনও আন্দোলন করেননি। এতে মানুষ গুরুত্ব দেবে না, হাসবে, বড় জোর করুণার চোখে দেখবে, আহারে ছেলেটার গ্যাস হয়েছে, উল্টোপালটা বকছে। এটা ঠিক মিথ্যে নয়, মিথ্যে হল বাজেট নিয়ে ওনার প্রতিক্রিয়া। উনি জানিয়েছেন, এই বাজেট নাকি বাংলাকে অনেক কিছু দিয়েছে, যা আগামী দিনে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। হ্যাঁ, সেটাই আজকে আমাদের বিষয় আজকে, মিথ্যে বলবেন না শুভেন্দুবাবু।
শুভেন্দু অধিকারী বাজেট পেশ করার পরেই জানিয়েছেন, ‘এই বাজেটে শিল্পায়ন আর কর্মসংস্থানে জোর দেওয়া হয়েছে। এটা পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রাপ্তি। ডানকুনি থেকে গুজরাতের সুরাত পর্যন্ত ফ্রেট করিডর এবং দুর্গাপুরে শিল্প করিডরের জন্য বিশেষ ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের দিশা দেখাবে।’ রাজনীতি বাদ দিন, তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস বাদ দিন, বাংলার আলো-জল-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা বাংলার মাটির কাছে ঋণী একজনের মুখে এই কথাগুলো বের হল কী করে? কী করে এমন এক তীব্র বঞ্চনাকে আড়াল করার জন্য এই মিথ্যেগুলো অনায়াসে বলে গেলেন? দুর্গাপুরের শিল্প করিডোর বিষয়টা কী বুঝিয়ে বলবেন? এমনিতে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা, তার চারদিকে নানান ছোট খাটো প্রডাকশন ইউনিট, কয়লাখনি অঞ্চল আছে, দুর্গাপুর এক শিল্প কেন্দ্র, আজ নয় সেই ইস্পাত কারখানার শুরুয়াতি দিন থেকেই, তার কৃতিত্ব বিধান রায়ের। এখানে শিল্প করিডোর করার যে ঢপবাজি, সেটা নিয়ে একটা কথাও বলেছেন শুভেন্দুবাবু? কী হবে? বাজেট বক্তৃতায় দেখাতে পারবেন, এটা নিয়ে কোনও বাজেট বরাদ্দ। হতেই পারে আমরা বুঝতে পারছি না, কিন্তু টাকার অঙ্কে বাংলাতে যে টাকা আসবে, তার অঙ্কটা দিয়েও তো একটা কথা বলতে পারেন। বলেননি তো?
আরও পড়ুন: Aajke | ৩৮ শতাংশ ভোট ছিল, জিততে হলে বিজেপির চাই ৪৫ শতাংশ ভোট, সম্ভব?
বেনারস শিলিগুড়ি হাই স্পিড ট্রেন হবে? মোদিজি বলেছিলেন, ২০২৪-এ বুলেট ট্রেন চলবে, যা এখনও শুরুই হয়নি, এই হাই স্পিড ট্রেনের ঘোষণাটা কীসের? আবারও জিজ্ঞেস করবো, বরাদ্দ কত? তা তো বলা নেই। এবারে আসুন সুরাত–ডানকুনি ফ্রেট করিডোর নিয়ে, এ তো ১৫ বছর আগে ডানকুনি–অমৃতসর ফ্রেট করিডোরের ঘোষণা হয়েছিল? এবারে কেবল সুরাত জুড়ে দিয়েই সেটা নতুন প্রকল্প? বাংলায় থাকবেন, খাবেন দাবেন, ব্যবসা করবেন, রাজনীতি করবেন আর বাংলার স্বার্থ জলাঞ্জলী দেওয়ার বিরুদ্ধে একটা কথাও বলবেন না? এটা কেমন রাজনীতি? ধরে নিলাম দলীয় বাধ্যবাধকতা আছে, চুপ করে থাতে অসুবিধে কোথায়? বাংলার এই চুড়ান্ত বঞ্চনাকে বাংলার উন্নয়নের রুপরেখা বলে চালানোর মানে কী? আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাজেটে বাংলার নামই এল না, বরাদ্দ আগের থেকে কমে গেল, এই চুড়ান্ত বঞ্চনার বিরুদ্ধে একটা কথাও বললেন না রাজ্যের বিজেপি সাংসদরা, উলটে বাজেট নাকি বাংলার উন্নয়নের জন্য হতে পারে, যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে এরকম কথাও বললেন। আপনাদের মতামত জানান।
অন্যান্য রাজ্যে সরকার আর বিরোধী দল মিলেই রাজ্যের বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য তদবির করে, মহারাষ্ট্র থেকে কর্নাটক, তেলঙ্গানা থেকে অন্ধ্রতে আমরা এই ধরণের সবাই মিলে রাজ্যের স্বার্থের জন্য সরব হতে দেখেছি, দল মত ভুলেই। কিন্তু আমাদের রাজ্যের বিরোধী দলনেতা, যাঁর দলের সরকার আছে দিল্লিতে, তিনি সাফ জানিয়েই দিচ্ছেন, উন্নয়ন তখনই হবে, যখন মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়ে এ রাজ্যে ক্ষমতায় আনবে। এক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বসে একজন বিরোধী দলনেতা এরকম মূর্খের ঔধত্য দেখাতে পারেন, সেটা আগে জানাই ছিল না। মিথ্যে বলছেন শুভেন্দু অধিকারী, এবারের বাজেট বাংলা বিরোধী এটা বোঝার জন্য বাজেট বক্তৃতায় আলতো করে চোখ বোলালেও হবে।
দেখুন আরও খবর:








