ওয়েব ডেস্ক: বিহার (Bihar) ফের পুলিশি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। থানায় জেরার সময় এক যুবকের উপর চালানো হয়েছে ভয়াবহ নির্যাতন। অভিযোগ, চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করতে পুলিশি হেফাজতেই ওই যুবকের যৌনাঙ্গে পেট্রল ঢেলে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
পরিবারের দাবি, যুবকটি একটি সোনার দোকানে কর্মরত ছিলেন। কিছুদিন আগে ওই দোকান থেকে প্রায় ৬০ গ্রাম সোনা চুরি যায়। দোকান মালিকের সন্দেহ গিয়ে পড়ে কর্মচারীদের উপর। অভিযোগ, প্রথমে দোকান মালিক নিজেই যুবক ও অন্যান্য কর্মচারীদের মারধর করেন এবং ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে পুলিশ এসে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: অগ্নিগর্ভ ইরান! আটক ভারতীয়দের দেশে ফেরাতে কী পদক্ষেপ কেন্দ্রের?
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, থানায় নিয়ে গিয়ে বারবার যুবককে চুরির কথা স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়। তিনি বারবার দাবি করেন, তিনি চুরি করেননি। কিন্তু তাঁর কথা শোনেনি পুলিশ। অভিযোগ, মারধরের পাশাপাশি ভয় দেখাতে তাঁর যৌনাঙ্গে পেট্রল ঢেলে দেওয়া হয়। নির্যাতনের পরেও কোনও তথ্যপ্রমাণ মেলেনি পুলিশের হাতে। কর্মচারীদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও কিছু উদ্ধার হয়নি। শেষ পর্যন্ত কোনও প্রমাণ না পেয়ে অভিযুক্তদের বন্ডে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
এমনকি, থানায় থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই জোরালো সমালোচনা শুরু হয়।
এই প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার অরবিন্দ প্রতাপ সিং জানান, থানার ইনচার্জ-সহ তিন পুলিশকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দাবি পুলিশের।