ওয়েবডেস্ক- বিজেপিশাসিত রাজ্যে (BJP-Ruled states) রোগ নিরাময় (Cure Disease) গোমূত্র (cow urine) নিয়ে বরাবরও সওয়াল করতে শোনা যায়। করোনার সময়েও সারা শরীরে গোবর মেখে বসে থাকতে দেখা গেছিল বিজেপি নেতা মন্ত্রীদের, এতে নাকি করোনা ছুঁতে পারবে না, তৈরি হবে প্রতিরোধ ক্ষমতা।
রোগ নিরাময়ে সেই গোমূত্র নিয়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে গবেষণা করে আসছেন মধ্যপ্রদেশের গেরুয়া সরকার। কিন্তু কাজের কাজ তো কিছুই হয়নি, উল্টে লাগামছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
২০১১ সালে জব্বলপুরের নানাজি দেশমুখ বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে (Nanaji Deshmukh Science University) এই প্রকল্পটি চালু হয়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শিবরাজ সিং চৌহান। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল, ‘পঞ্চগব্য’ (গোবর, গোমূত্র এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত দ্রব্যের মিশ্রণ) ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগ নিরাময়ে সক্ষম কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা। সরকারি প্রকল্পেই ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসনের কাছে সংশ্লিষ্ট বিষয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে।
প্রকল্পটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রায় আট কোটি টাকার তহবিলের সাহায্য চেয়েছিল, কিন্তু রাজ্য সরকার সাড়ে ৩ কোটি টাকার অনুমোদন দেয়।
মধ্যপ্রদেশ সরকারের (Madhya Pradesh Govt) দেওয়া এই টাকাতেই অনিময়মের অভিযোগ কিন্তু এই টাকা কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।
আরও পড়ুন- পারদ নামল ২ ডিগ্রির ঘরে! এবার দিল্লিতেও হবে তুষারপাত?
তদন্ত অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গোবর, গোমূত্র, সংরক্ষণ পাত্র এবং কাঁচামালের মতো জিনিসপত্র কেনার জন্য খরচ হয়েছিল প্রায় ১.৯২ কোটি টাকা। কিন্তু সেই সময়ের বাজারমূল্য দেখলে এই অঙ্কটি ১৫.২০ লক্ষ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয় বলে মনে করছে তদন্তকারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তারা গবেষণার কাজে বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ২৩-২৪ বার বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। তার প্রয়োজনীয়তা ছিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, আনুমানিক ৭.৫ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি কেনা হয়েছিল। কিন্তু তা মূল অনুমোদিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
জব্বলপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক রঘুবর মারাভি বলেন, “তদন্তের সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে নথিপত্র জমা দিয়েছিল, সেখানে বেশ কিছু জিনিস কেনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এগুলির অনুমোদন দেয়নি সরকার। নথি অনুযায়ী কৃষকদের কিছু প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ঠিক কী প্রশিক্ষণ তার উল্লেখ করা হয়নি।







