ওয়েবডেস্ক- পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার একটি ছোট্ট শহর। কিন্তু এখন সেই জলপাইগুড়িকে এখন মানুষ চিনছে অন্যভাবে। কারণ জলপাইগুড়ির মতো ছোট্ট একটা শহরের ছাত্র নিজের স্বপ্ন পূরণ করার পথে। জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (Jalpaiguri Government Engineering College) তরুণ ছাত্র সুমন বেরা (Student Suman Bera) ।
ওই কলেজের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। কোটি টাকার চাকরি পেলেন সুমন। তার এই কৃতিত্ব এখন সকলের কাছে গর্বের বিষয়। বিটেক শেষের আগেই কোটি টাকার চাকরির অফার। নিজের মেধা আর পরিশ্রমই পুঁজি সুমনের। পশ্চিম মেদিনীপুর (West Midnapore)জেলার খড়গপুরের ২ নম্বর ব্লকের প্রত্যন্ত বারবাসী গ্রামের বাসিন্দা সুমন। কলেজের আইটি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এই ছাত্র বার্ষিক ১ কোটি টাকা বেতনে চাকরি পেয়েছেন আমেরিকার বহুজাতিক সংস্থায় ‘লিঙ্কডইন’ (LinkedIn) এ চাকরি পেয়েছেন।
কলেজ সূত্রে খবর, মোটা বেতনের চাকরি প্রাপ্তি এই কলেজের ইতিহাস প্রথম। সুমনের এই সাফল্যে গর্বিত কলেজ কর্তৃপক্ষ। সব ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের জুলাই মাসে কলেজ শেষ করে সুমন বেঙ্গালুরুতে ওই সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে যোগ দেবেন। দুই দিদির একজনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। অপরজন গ্রামে টিউশন পড়িয়ে কিছুটা রোজগার করেন। রাজ্য সরকারের তরফে কিছু ভাতা মেলে।
বারাবাসী গ্রামে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মাটির ঘরে থাকেন সুমনের বাবার অচলকুমার বেরা। পাঁচ বছর আগে সরকারি আবাসন প্রকল্পে মাথার উপর পাকা ছাদ পেয়েছেন তিনি। মাত্র দুই বিঘা জমির উপর করেই সংসার চলে তাদের। অসুস্থ অচলকুমার বেরা। সুমনে বেরা পরিবারের দুঃখ ঘুচিয়েছেন, ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
১৯৬১ সালে শুরু হয় জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের। গত বছর জুলাইয়ে গুগলে বছরে ৫৪ লক্ষ টাকার চাকরি পান এই কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্রী শ্রেয়া সরকার। বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুতে গুগলের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত। গত বছরের অক্টোবরে এই কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের আরও এক ছাত্রী, ব্যান্ডেলের বাসিন্দা তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় মাইক্রোসফটে বছরে ৫৪ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে গেল সুমন। নিজেকে এক জায়গায় পৌঁছতেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সব তার কলেজে এসেই শেখা। কলেজের কোডার্স ক্লাবের সাহায্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখেন। নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে এখন তিনি সেই ক্লাবের সম্পাদক।
আরও পড়ুন- কোচবিহারে পৌরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের
অষ্টম শ্রেণি থেকেই স্কলারশিপ পেয়ে নিজের পড়াশোনাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন সুমন। লক্ষ্য ছিল জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, সেই স্বপ্ন পূরণের পথে।
সুমনের কথায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরের লিঙ্কডইন-এ ইন্টার্নশিপের জন্য মনোনীত হই। এর পর গত বছর মে মাসে বেঙ্গালুরুতে তিনমাসের ইন্টার্নশিপ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে লিঙ্কডইন থেকে বছরে প্রায় এক কোটি টাকার চাকরির অফার লেটার পেয়েছি’।
সুমনের এই সাফল্য আগামী প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা।







