Tuesday, January 6, 2026
HomeScroll‘আমি খুশি নই, মোদি জানেন’, ভেনেজুয়েলা আবহে ভারতকে শুল্ক-বার্তা ট্রাম্পের
Narendra Modi-Donald Trump

‘আমি খুশি নই, মোদি জানেন’, ভেনেজুয়েলা আবহে ভারতকে শুল্ক-বার্তা ট্রাম্পের

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বরফ গলতে পারে আলোচনার পর...

ওয়েব ডেস্ক: বছর শেষের আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump)। সেই আলোচনার পর মনে করা হচ্ছিল, বহু প্রতীক্ষিত ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বরফ গলতে পারে। কিন্তু বছর ঘুরতেই ফের কড়া সুরে ভারতকে বার্তা দিলেন ট্রাম্প। রাশিয়া (Russia) থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার কারণে ভারতের উপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি খুব ভালো মানুষ। তিনি জানতেন আমি খুশি নই। আমাকে খুশি করা গুরুত্বপূর্ণ। তারা বাণিজ্য করে, আর আমরা খুব দ্রুত তাদের উপর শুল্ক বাড়াতে পারি।” তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের আগে ঢেলে পিৎজার অর্ডার! কী এই ‘পেন্টাগন পিৎজা থিয়োরি’?

উল্লেখ্য, গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপর শুল্কনীতি আরও কঠোর করে। ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হয়। পাশাপাশি, ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ জরিমানা আরোপ করে ওয়াশিংটন। এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে মোট শুল্কের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। এই সিদ্ধান্তের জেরে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে স্পষ্ট টানাপড়েন তৈরি হয়।

প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ফোনালাপের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফের শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ফের বাণিজ্য সংঘাতের পথে হাঁটছে দুই দেশ? যদিও ওই ফোনালাপে শুল্ক উত্তেজনা সত্ত্বেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং যৌথ প্রচেষ্টা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেছিলেন দুই নেতা।

ঘটনাচক্রে, যেদিন ওয়াশিংটনের একটি প্রতিনিধি দল বাণিজ্য আলোচনা করতে ভারতে আসে, সেই দিনই মোদি-ট্রাম্পের মধ্যে ফোনে কথা হয়। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেন তাঁরা। তবে ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া তথাকথিত ‘ডেডলাইন’ নিয়ে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সাফ জানিয়ে দেন, “ডেডলাইন মেনে আমরা আলোচনা চালাই না।”

প্রথম দফায় আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য আলোচনা সফল না হওয়ার পরই ট্রাম্প শুল্ক বাড়ানোর পথে হাঁটেন। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের অবস্থানই এই চাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। পরবর্তীকালে আবার আলোচনা শুরু হলেও, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ফের প্রশ্ন উঠছে—ভারতের উপর কি আবার শুল্কের চাপ বাড়তে চলেছে? রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।

Read More

Latest News