Friday, January 16, 2026
HomeScrollনিপা সংক্রমণ হলেই কি কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক? নতুন গাইডলাইন জারি স্বাস্থ্য দফতরের
Nipah Virus Guidelines

নিপা সংক্রমণ হলেই কি কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক? নতুন গাইডলাইন জারি স্বাস্থ্য দফতরের

নিপা সংক্রান্ত নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর

কলকাতা: করোনার (Corona) আতঙ্ক অনেকটাই অতীত হলেও ফের নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নিপা ভাইরাস (Nipah Virus)। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা কমাতে ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতে নিপা সংক্রান্ত নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর। ১৪ জানুয়ারি জারি হওয়া এই নির্দেশিকায় কোয়ারেন্টাইন, নজরদারি ও চিকিৎসা, সব দিকেই স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিপা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ঝুঁকির ভিত্তিতে দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উচ্চ ঝুঁকি (হাই রিস্ক) এবং স্বল্প ঝুঁকি (লো রিস্ক)। যাঁরা রোগীর শরীরের তরল যেমন রক্ত, লালা, বমি ইত্যাদির সংস্পর্শে এসেছেন অথবা ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ঘনিষ্ঠভাবে কাছে ছিলেন, তাঁদের ‘উচ্চ ঝুঁকির’ তালিকায় রাখা হবে। এই শ্রেণির ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ২১ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক। দিনে দু’বার স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেবেন।

আরও পড়ুন: তপসিয়ার সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ঘটনাস্থলে দমকল

অন্যদিকে, যাঁরা রোগীর পোশাক বা ব্যবহৃত জিনিসপত্র স্পর্শ করেছেন, তাঁরা ‘স্বল্প ঝুঁকি’র মধ্যে পড়বেন। তাঁদের ক্ষেত্রেও ২১ দিন পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে, তবে ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলেই চলবে।

নির্দেশিকায় ওষুধের ব্যবহার নিয়েও স্পষ্ট দিশা দেওয়া হয়েছে। উচ্চ ঝুঁকির ব্যক্তিদের এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়া রোগীর সেবা করা কর্মীদের জন্য Ribavirin অথবা Favipiravir ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে যাঁরা পূর্ণ PPE পরে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত ওষুধের প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছে।

যাঁদের শরীরে নিপার উপসর্গ দেখা দেবে এবং RT-PCR পরীক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়বে, তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে আইসোলেশনে ভর্তি করতে হবে। প্রয়োজনে Remdesivir, Ribavirin বা Favipiravir-এর পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমতিতে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের স্পষ্ট বার্তা, আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই নিপা মোকাবিলার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা মানসিক বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Read More

Latest News