ওয়েব ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ অভিযানে আত্মনির্ভরতার পথে বড় সাফল্যের ইঙ্গিত দিল আইআইটি-খড়গপুর (IIT-Kharagpur)। রকেটের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক প্রোপাল্যান্ট তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে এই প্রতিষ্ঠানের স্টার্টআপ। শনিবার নিউটাউনে (Newtown) আইআইটি খড়গপুর রিসার্চ পার্কে আয়োজিত কনক্লেভে এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করলেন ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো- ISRO)-এর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন।
ইসরো প্রধান জানান, আগামী দিনে আইআইটি খড়গপুরের স্টার্টআপ সংস্থার তৈরি রাসায়নিক সরাসরি ইসরোতে ব্যবহার করা হতে পারে। এই রাসায়নিক মূলত বোরন বেসড প্রোপাল্যান্ট, যা রকেট ইঞ্জিনে আগুন ধরাতে এবং উৎক্ষেপণের সময় অতিরিক্ত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এতদিন এই গুরুত্বপূর্ণ কেমিক্যাল আমেরিকা থেকে বহু ডলার খরচ করে আমদানি করতে হত। দেশেই উৎপাদন সম্ভব হলে খরচ কমার পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকেও ভারত আরও শক্তিশালী হবে।
আরও পড়ুন: দেশজোড়া উড়ান বিপর্যয়ে ইন্ডিগো-কে ২২.২ কোটি টাকার জরিমানা!
এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন আইআইটি খড়গপুরের গবেষক-অধ্যাপক শান্তনু পান্ডা এবং উদ্যোগপতি দেবাশিস মণ্ডল। আইআইটির ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে স্টার্টআপ, এন্ট্রাপ্রেনিওরশিপ এবং সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্টে আইআইটি খড়গপুর যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে, তা তুলে ধরেন ইসরো চেয়ারম্যান। তাঁর কথায়, আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপগুলি ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা নেবে।
এদিন ইসরোর পিএসএলভি-সি ৬২ রকেটের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে ওঠা অন্তর্ঘাতের তত্ত্বও খারিজ করে দেন ভি নারায়ণন। তিনি বলেন, ব্যর্থতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ অভিযানের প্রস্তুতি আরও মজবুত করা হয়।
ইসরো চেয়ারম্যান আরও জানান, ২০২৭ সালে মানবসহ গগনযান অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতীয় রকেটের সাহায্যে চাঁদে অবতরণের লক্ষ্য নিয়েও জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে ভারতের সক্রিয় কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা প্রায় ৫৬, যা আগামী ২–৩ বছরের মধ্যে প্রায় তিনগুণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।







