ইরানে যুদ্ধু করবে আমেরিকা, তো আমাদের দেশের শেয়ার বাজারে ভূমিধস, যাকে বলে ‘হড়কম্প মচ গয়া’। মধ্যবিত্ত মানুষজনের ব্যাঙের আধুলি দিয়ে মিউচুয়াল ফান্ড, এক রাতেই খাবলা খাবলা। কিম্বা ধরুন রমজান মাসের শুরুতেই ফলের দিকে তাকানোই যাচ্ছে না, মাছের বাজার তো তাকেও পাল্লা দিচ্ছে। এরকম হরেক খবরে যদি মনখারাপ হয় তাহলে স্রেফ মোদিজি কী বলছেন, তার দিকে তাকাবেন, পেট থেকে ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির মত হাসি ফেটে ফেটে বেরিয়ে আসবে। আর সামনে এরকম হাসির খোরাক অনেক অনেক জুটবে, কারণ ইহা নির্বাচনী মশরুম, দিল্লি থেকে বহু পাবলিক আসবে, আমাদের স্বামী নরেনদরজি আসবেন মাথায় বঙ্কিমী পাগড়ি পরে, আসবেন অমিত শাহ রুটি দিয়ে পোস্ত খেতে, আসবেন নীতিন নবীন, আবার ছড়াতে, আসবেন পালে পালে সেই ভীষণ বাঙালি বিদ্বেষী নেতারা যাঁরা নিজেদের রাজ্যে বাংলাতে কথা বললেই পিটিয়ে মারার নিদান দিয়েই রেখেছেন। হ্যাঁ, নির্লজ্জের মতো সেই খুনিরাও আসবেন। দেদার মজা হবে, একঘর তামাশা দেখবে বাঙালি, মনে পড়ে যাবে এত ভঙ্গ বঙ্গদেশ তবু রঙ্গে ভরা। তো আপাতত বিষয় হল আমাদের প্রধানমন্ত্রী আবার ছড়িয়েছেন, ওনার কলিক পেইনের মত ছড়ানোটাও এক প্রায় জন্মগত অভ্যেস, নন বায়োলজিক্যাল তো, সম্ভবত সেই কারণেই। তো তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথি উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এ দিন সকালে এক্স হ্যান্ডলে হিন্দিতে মোদী লেখেন, ‘স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই। রামকৃষ্ণদেবের এই আধ্যাত্মিকতা যুগে যুগে মানবতার কল্যাণ করে যাবে। তাঁর দর্শন এবং বাণী সব সময়ে মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’ হ্যাঁ বললেন স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংস, বাপের ভাগ্যি উনি দাদা বা বাবু জুড়ে দেননি। সেটাই আমাদের বিষয় আজকে, স্বামী নরেনদরভাই দামোদরদাস মোদি।
তো শমীক ভট্টাচার্য, বঙ্গ বিজেপির সভাপতি, তিনি জানিয়েছেন যে আরে বাবা আমাদের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী তো রামকৃষ্ণ মিশনের অনেকের চেয়েও বেশি ঘনিষ্ঠ, কাকে কী বলতে হয় উনি জানেন, তৃণমূলকে সব নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না। সমস্যাটা সেখানেই, পথেই পটি করব, আবার চোখও রাঙাবো। উনি রামকৃষ্ণ মিশনের ঘনিষ্ঠ? উনি জানেন না রামকৃষ্ণ মিশনের কাঠামোতে কার নামের সামনে শ্রী শ্রী ঠাকুর বসানো হয়, কাদের নামের সামনে স্বামী? না উনি জানেন না। বেলুড় মঠের সামান্য ঘনিষ্ট মানুষজন, বাংলার মানুষজন রামকৃষ্ণদেব, শ্রী শ্রী ঠাকুর, শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণদেব বা কেবলি ঠাকুর বলে জানেন, উনি ঘনিষ্ঠ হবার ভান করেন, আদত ভন্ডামিটা বেরিয়ে এল এই যা। আর এটা তো ওনার স্বাভাবিক জ্ঞান, উনি তো স্বামী আশারাম বাপু বলেই ওই ধর্ষক ভন্ড ওকে সম্বোধন করেন, উনি এরকম আরও শত ভন্ড সাধুবাবাদের প্রতিনিধিত্ব করেন, যাঁরা ভোটের আগে মুসলমান বিদ্বেষ ছড়াতে থাকে এক্কেবারে ওনার মতন করেই, সেসব সোয়ামীদের সঙ্গে উনি পরমহংসদেবকে গুলিয়ে ফেলেছেন। এই কাঠামো জানলে, রামকৃষ্ণ মিশনের ন্যুনতম আদর্শ থাকলে একজন মানুষ সাম্প্রদায়িক হতেই পারে না।
আরও পড়ুন: Aajke | বন্দেমাতরম পুরোটা গাইলেন না বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য
উনি দেখেছেন কখনও ওই বেলুড় মঠ চত্ত্বরেই আছে সেই মসজিদ যেখানে রামকৃষ্ণদেব কলমা পড়েই মুসলমান ধর্মের সাধনা করেছিলেন, সেই ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম সাধনার পরেই তিনি বলেছিলেন, ‘যত মত, তত পথ’। আর এই নরেন্দর স্বামী? প্রকাশ্য জনসভাতে দাঁড়িয়ে বলছেন ওরা আপনাদের মঙ্গলসূত্র কেড়ে নেবে, যে কথা বলার জন্য ভারতের সংবিধানে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা আছে, সেই কথা বলছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, তিনি রামকৃষ্ণ মঠ মিশনের ঘনিষ্ঠ? আজ নয় সেই কবে থেকেই ওই রামকৃষ্ণ মিশনের হস্টেলে সপ্তাহে অন্তত একদিন মুরগির মাংস দেওয়া হত, মহারাজরাও হাড় চিবিয়ে খান, এই স্বামী নরেনদর মোদির দল মনে করেন আমিষ খেলেই তামসিক ভাব ফুটে ওঠে। আমাদের কালী পাঁঠা খাবেন, এই কথা বলে গিয়েছেন স্বামী বিবেকানন্দ, ওনারা গুন্ডা পাঠিয়ে মাছ মাংসের দোকানদারদের হুমকি দিচ্ছেন। সেই তিনি রামকৃষ্ণ মিশনের ঘনিষ্ঠ, এটা এক ভন্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, গতকাল রামকৃষ্ণদেবের আবির্ভাব তিথিতে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে স্বামী রামকৃষ্ণদেব বলে সম্বোধন করলেন, উনি জানেন ও না রামকৃষ্ণ মিশনে রামকৃষ্ণদেবের সন্ন্যাসী ভক্তদেরই স্বামীজি বলা হয়। আপনাদের মতামত জানান। শুনুন মানুষজন কী বলছেন?
রামকৃষ্ণ মিশনে গিয়ে চোখ বন্ধ করে ভন্ডামি করা লোকজনের কি অভাব আছে? রামকৃষ্ণদেব নিজেই বলেছেন, মনটাকে ভাগাড়ের দিকে রেখে সাধনা হয় না। তো মন পড়েছে দেশের সংখ্যালঘুদের মাথায় ভয় ঢুকিয়ে এক মধ্যযুগীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থার, আর বছরে দশবার মিশনে এসে মঠ মিশনের প্রধানদের ঢিপ করে প্রণাম করলেই ভক্ত হয়া যায় না, আমাদের স্বামী নরেনদরজি হলেন তার প্রমাণ, বিলিকি স্যর, আপনি আপনার ওই সোয়ামী আশারাম বাপুকে নিয়েই থাকুন ওখানেই আপনাকে মানায় ভালো।
দেখুন আরও খবর:








