বাঁকুড়া: ইডি-সহ যত ক্ষমতা আছে প্রয়োগ করুন, গোটা দেশ গেরুয়াময় হয়ে গেলেও এই রাজ্য রুখে দাঁড়াবে। বাঁকুড়ার সভা থেকে বিজেপিকে ওপেন চ্যালেঞ্জ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhisekh Banerjee)। বিজেপি ভাবে কি, ইডি দিয়ে, নির্বাচন কমিশন দিয়ে আমাদের আটকাবে? আমি মোদিজিকে বলব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলার ইতিহাস জানুন।বাঁকুড়ার শালতোড়ায় ‘রণ সংকল্প সভা’ থেকে বিজেপিকে শূন্য করার ডাক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
অভিষেকের কড়া বার্তা, ইডি-সিবিআই-ইনকাম ট্যাক্স বা কোনও কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়েই তৃণমূলকে রোখা যাবে না। অভিষেকের কথায়, ‘সারা দেশও যদি গেরুয়াময় হয়ে যায়, বাংলা রুখবে। যতই ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, কেন্দ্রীয় বাহিনী, নির্বাচন কমিশন লাগান। যত অর্থবল আছে প্রয়োগ করুন। এক দিকে আপনাদের এই সব ক্ষমতা, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাংলার মানুষ।’বিজেপিকে তোপ দেগে সভা থেকে অভিষেক বলেন, যারা হিন্দু ধর্মের ধারক-বাহক বলে নিজেদের দাবি করে, তাদের নেতা মা দুর্গার বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই হল বিজেপির আসল চেহারা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অমিত শাহ এসে বলছেন রবীন্দ্রনাথ সান্যাল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম জানে না। ২০১৯ সালের ভোটের আগে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি টুকরো টুকরো করে ভেঙেছিল বিজেপির কর্মীরা। সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ হচ্ছেন অজ্ঞ বামপন্থী প্রোডাক্ট। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মোধন করছেন বঙ্কিমদা বলে। যেন ছোটবেলায় একসঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলতেন।
বাঁকুড়াবাসীর উদ্দেশ্যে অভিষেক আগে নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে অভিষেক বলেন, ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে বাঁকুড়ার ১২টি আসনের মধ্যে চারটিতে আপনারা তৃণমূলকে জিতিয়েছিলেন। বাকি আসন বিজেপির দখলে ছিল। ২০২৪ সালের লোকসভায় চার থেকে বেড়ে আমাদের ছয় হয়েছে। এখন তৃণমূল ছয়, বিজেপি ছয়। বিষ্ণুপুর লোকসভার একটি আসন পড়ে খণ্ডঘোষে। বাঁকুড়া লোকসভার একটি আসন পড়ে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে। বিষ্ণুপুরকে ছয় মারতে হবে, বাঁকুড়াকেও ছয় মারতে হবে। দুটো ছয় মেরে তৃণমূলের পক্ষে ১২-০ করতে হবে। তৃণমূল জিতলে অধিকার পাবেন। বিজেপি জিতলে অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।
আরও পড়ুন: আইপ্যাক মামলায় ইডিকে আগাম টেক্কা! একতরফা শুনানি ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট রাজ্যের
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন একাধিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে শুরু থেকেই সরব তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশন (ECI) ও বিজেপিকেই (BJP) দায়ী করে শাসক দল। শুক্রবার রাজ্যে এসআইআরের শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যুর ঘটনার পর শনিবার শালতোড়ার সভা থেকে ফের এই ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের কটাক্ষ, বিজেপি শুধু মানুষের পেটেই আঘাত করেনি, প্রাণ নিয়েও খেলছে। তাঁর কথায়, “এসআইআরের নাম করে বাঙালির ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় নোটিস পাঠানো হয়েছে অমর্ত্য সেন, মহম্মদ সামি থেকে শুরু করে তৃণমূল সাংসদ দেবের কাছেও – এই প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে ফের একবার নিশানা করেন অভিষেক।আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) বা স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda) বেঁচে থাকলে তাঁদের কাছেও নোটিস পাঠানো হত।আসন্ন নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক কার্যত সতর্কবার্তা দেন। অতীতের নির্বাচনী ফলাফল টেনে তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এসে কোনও প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করেনি। উল্টোদিকে অভিষেকের দাবি, “আমরা যা বলি, তা করেই দেখাই।







