নওদা: মুর্শিদাবাদের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Abhishek Banerjee in Murshidabad) জনসভায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট। নওদা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সাহিনা মমতাজ খানের জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হওয়ার আগেই দলীয় কর্মীদের মধ্যে মারামারি, বিক্ষোভ দেখায় সেই সঙ্গে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রবিবার নওদা থানার আমতলা স্কুল মাঠে ভোট প্রচার সভা উপলক্ষে মঞ্চে উপস্থিত হন তৃণমূল প্রার্থী সাহিনা মমতাজ খান। তার কিছুক্ষণ পরেই নওদা ব্লক তৃণমূল সভাপতি শফিউজ্জামান শেখের অনুগামীরা দর্শক আসনে ঢুকতে শুরু করেন। সেই সময় প্রার্থীর এক অনুগামীকে মারধর করতে শুরু করে তৃণমূল ব্লক সভাপতি লোকজন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। নওদার নির্বাচনী সভা থেকে দলেরই একাংশকে সতর্ক করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের মধ্যে থেকে কেউ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাত করলে, ভোটের পরে তার ‘ব্যবস্থা’ করারও হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন। সেই সঙ্গে অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury) ও হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) সঙ্গে বিজেপির সেটিং রয়েছে বলে দাবি করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
তৃণমূল আর বিজেপির সেটিং রয়েছে বলে গত বছর খানেক ধরে লাগাতার অভিযোগ করছেন অধীর। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি-তৃণমূল সেটিং করে লোকসভা ভোটের আগে জেলায় দাঙ্গা বাধিয়েছিল। রবিবার মুর্শিদাবাদের নওদায় নির্বাচনী সভা (West Bengal Assembly Election 2026) ছিল অভিষেকের। সেই সভায় তিনি সরাসরিই বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে রয়েছেন। তাঁকে নিরাপত্তা দেয় রাজ্যের পুলিশ। আর অধীর চৌধুরি এবং হুমায়ুন কবীরকে নিরাপত্তা দেয় সিআরপিএফ। কেন সিআরপিএফ নিরাপত্তা দেয় সেই প্রশ্ন তুললেন অভিষেক। অভিষেক আরও বলেন, “আমি জানি, এ কথা বললেই ওঁরা বলবেন, রাজ্য পুলিশ ওঁদের নিরাপত্তা দেয় না। বাজে কথা। মানুষকে অত্যাচার করেছেন নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ। আপনি মানুষের প্রতিনিধি হলে তাঁদের নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য সরকার আপনাকে নিরাপত্তা দেবে”।
আরও পড়ুন: ২৯৪টি কেন্দ্রে আমিই প্রার্থী’, ১৬-র স্মৃতি ফিরিয়ে ২৬-এও ফের মমতার গলায় একই ঝাঁঝ
তিনি বলেন, কে সেটিং করে রেখেছে মানুষ দেখতে পাচ্ছে। দিল্লিতে সব প্রাক্তন সাংসদকে বাড়ি ছেড়ে দিতে হয়েছে। অথচ অধীর চৌধুরীর বাড়ি এখনও রয়েছে। বুঝুন সেটিং।আরও অভিযোগ, এসআইআর-এ প্রায় ২৭ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। তৃণমূল বাদে কোনও নেতা এই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ায়নি। শুধু তা নয়, কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বকেয়া পাওনা নিয়েও অধীর চৌধুরী কেন্দ্রের কাছে দাবি করেননি বা চিঠি লেখেননি।
এদিন মঞ্চ থেকে দলের কর্মীদের সতর্ক করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তৃণমূলের জার্সি পড়ে যারা অন্য দলকে সমর্থন করবেন বলে মনে করছেন তাঁরা ভুল করছেন। নওদা বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থীর জয় হবে, হয়তো ব্যবধান কমবে। কিন্তু যারা জার্সি বদল করবেন দল তাদের ক্ষমা করবে না।তার পর এমন হবে যে সারাজীবন মাঠেই ঢুকতে পারবেন না।’’তৃণমূল থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন দল গড়েছেন হুমায়ুন কবীর। ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক এ বার নতুন দলের হয়ে নওদা এবং রেজিনগর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেই নওদায় দাঁড়িয়ে অভিষেকের এ হেন বার্তা ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলেই অভিমত অনেকের।







