হালিশহর: হালিশহর (Halisahar) থানার লকআপে বিরজু কেওটের (Birju Keot) মৃত্যুর ঘটনায় এ বার তদন্তভার সিআইডির (CID) হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। ৮ অগস্ট পুলিশ হেফাজতে তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। তদন্তে কোনও ফাঁক না থাকে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আসে, সেই লক্ষ্যেই সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ অগস্ট বিরজুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ৭ অগস্ট তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করা হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। পর দিন সকালে হালিশহর থানার লকআপে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও খবর : কলকাতা বিমানবন্দরের পুরনো এটিসি ভবনে আগুন, ভোরে ছড়াল আতঙ্ক!
ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তদন্তকারী আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া এবং থানার আইসিকে ‘ক্লোজ’ করার মতো পদক্ষেপও করা হয়। পাশাপাশি পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় নিয়ম মেনে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিরজুর পরিবারের তরফে লকআপে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পরিবারের দাবি ছিল, হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর উপর অত্যাচার করা হয়েছিল। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত এবং তদন্তের রিপোর্টেই স্পষ্ট হবে।
এর মধ্যেই সিআইডি তদন্তের সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছে বিরজুর পরিবার। তাঁদের আশা, নিরপেক্ষ তদন্তে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের দাবি, সরকারের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে ঘটনার কোনও দিক আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, তদন্তে সত্য সামনে এলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এখন সিআইডির তদন্ত কোন পথে এগোয় এবং বিরজু কেওটের মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তার উত্তরই খুঁজছে পরিবার ও স্থানীয়রা।







