কলকাতা: এপ্রিলে বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026)। তার আগে জেলায় জেলায় প্রচারে তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ৩০ ও ৩১ মার্চ দুই মেদিনীপুরে (Midnapore) তার চারটি করে সভা রয়েছে। এদিন নারায়ণগড়ের (Narayangarh) প্রার্থী প্রতিভা মাইতির সমর্থনে বেলদায় সভা করবেন মমতা। এরপর পাঁশকুড়া (Panskura) এবং ডেবরায় (Debra) আরও দুটি জনসভা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।
এদিন মেদিনীপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে মমতা বলেন, “এটা সংগ্রামের মাটি, আন্দোলনের মাটি” এবং অতীতের সিপিএম শাসনের অত্যাচারের কথাও স্মরণ করান। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে জানান, রাজ্য ইতিমধ্যেই দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যদিও কেন্দ্র এক টাকাও দেয়নি। বিরোধীদের প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “এখন রাজ্যে বিরোধীরা দুধেভাতে আছে। আমরা কোনও সভা-মিছিল আটকাই না, কারণ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।”
আরও পড়ুন: নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ কমিশনের
এদিন রাজনৈতিক বার্তায় সরব হলেন বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। অমিত শাহের প্রকাশিত ‘চার্জশিট’-এর জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা পাল্টা বলেন, “প্রথম চার্জশিট হওয়া উচিত মোদী-শাহের বিরুদ্ধেই।” পাশাপাশি প্রশাসনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। আধার ও এসআইআর ইস্যুতেও কেন্দ্রকে নিশানা করেন মমতা। নিজের আধার করতে চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, “নোটবন্দির পর এখন ভোটবন্দির চেষ্টা চলছে।”
সরকারি প্রকল্প প্রসঙ্গে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ও ‘স্বাস্থ্যসাথী’র উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে কোনও শর্ত ছাড়াই সুবিধা দেওয়া হয়। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে কটাক্ষ করে বলেন, সেখানে নানা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা বাংলায় নেই। সভা থেকে প্রার্থী বদল নিয়ে ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করে মমতা বলেন, সবাইকে সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, “একটা আসন তো এক জনকেই দেওয়া যায়। ভাল কাজ করলে ভবিষ্যতে টিকিট মিলবেই।” সংখ্যালঘু ও মহিলাদের সুযোগ দেওয়ার কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন তিনি। সব শেষে, নারায়ণগড়ের সভামঞ্চে একদিকে আদিবাসী গানের সুরে মহিলাদের সঙ্গে নাচে পা মেলান মুখ্যমন্ত্রী।







