ওয়েব ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রার্থী তালিকায় একাধিক বদল এনেছে তৃণমূল। ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ক ও ৪ মন্ত্রীকে এবার টিকিট দেয়নি দল। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে অনেক জায়গাতে বিদায়ী বিধায়ক প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। সোমবার নারায়ণগড়ের নির্বাচনী সভা থেকে তা নিয়েই মুখ খুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। বিক্ষুব্ধদের উদ্দেশে তাঁর সাফ বার্তা, “টিকিট পাইনি বলে এটা নয় যে বিরোধিতা করব।”
টিকিট না পেয়ে বেশ কয়েকজন প্রকাশ্যে অভিমান প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ রাজনীতি থেকে সন্যাস নেওয়ার কথাও বলেছেন। সোমবার নারায়ণগড়ের নির্বাচনী সভা থেকে তা স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, “একবার টিকিট পেয়েছি। পরেরবার পেতে পারি, নাও পেতে পারি। আমি তো কাউকে অসম্মান করিনি। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের পাশে থাকা। ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা।ভাল কাজ করুন। করলে টিকিট পাবেন। যে কাজ করবেন না, দলকে তো সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। টিকিট না পাওয়া ক্ষুব্ধ নেতাদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “কেউ যদি মনে করেন আজীবন আমি একাই থাকব, তবে সেটা ভুল। দল সকলের জন্য। এরপরই কড়া সুরে তিনি বলেন, টিকিট পাইনি বলে এটা নয় যে বিরোধিতা করব। এটা করলে মানুষ পছন্দ করে না। সম্মানের সঙ্গে সকলকে বলছি, ঐকবদ্ধ হয়ে কাজ করুন। মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে।” মমতার এই ‘সবাইকে নিয়ে চলা’র বার্তা অসন্তুষ্টদের মান ভাঙানোরই চেষ্টা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুন: ‘হিন্দু ও সনাতনী বিরোধীদের পরাজয় হবে’, মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগেই হুঙ্কার শুভেন্দু’র
নারায়ণগড় থেকে মমতা বলেন, ‘‘মেদিনীপুর স্বাধীনতা আন্দোলনের মাটি, এখানে স্বাধীনতার আগেই স্বাধীন সরকার হয়েছিল। এটা সংগ্রামের মাটি। আন্দোলনের মাটি। আমি এখানকার প্রত্যেকটা রাস্তাঘাট চিনি। সিপিএম এখানে অনেক খুন, অত্যাচার করেছে।মেদিনীপুরে অনেক অত্যাচার করেছে সিপিএম। অনেক খুন করেছে। আমি যখন বিরোধী ছিলাম, অনেক সয়েছি। এখন তো রাজ্যে বিরোধীরা নেচে বেড়াচ্ছে। দুধেভাতে আছে। কোনও মিছিল বা মিটিং আমরা আটকাই না। কারণ গণতন্ত্রকে শ্রদ্ধা করি।মমতা বলেন, ‘‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য এক টাকাও দেয়নি। আমরা কাজ শুরু করেছি। দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছি। মমতা বলেন, ‘‘স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভান্ডার দিতে গিয়ে কোনও ধর্ম, বর্ণ, জাতি আমরা দেখি না। বিজেপিশাসিত রাজ্যে লক্ষ্মীর ভান্ডার টুকলি করেছিল। তাতেও বলেছে ফোন থাকলে পাবে না, টিভি থাকলে পাবে না, স্কুটার থাকলে পাবে না। এখানে কোনও শর্ত নেই। সকলে পান। লক্ষ্মীর ভান্ডার এখনও যাঁরা পাননি, কাজ চলছে। সকলেই পেয়ে যাবেন।’’







