ওয়েবডেস্ক- রবিবার বাংলায় এসে দফায় দফায় প্রশাসন ও রাজনৈতিকদলগুলির সঙ্গে বৈঠকে পর আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar) । আর বাংলায় এসে তিনি বুঝিয়ে দিলে রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্যকে থোড়াই করেন তিনি। জ্ঞানেশের স্পষ্টবার্তা, রাজনৈতিক নেতাদের কোনও বক্তব্যের জবাব দেবে না কমিশন। নির্বাচন কমিশন (Election Commission) আইন ও সংবিধান অনুযায়ী চলে। রাজনৈতিক বয়ান এড়িয়ে চলবে তারা। গণতান্ত্রিক অধিকারে যে কেউ বক্তব্য দিতে পারে, কিন্তু কমিশন তার কোনও পাল্টা উত্তর দেবে না।
এসআইআর (SIR) শুরু হওয়া থেকে শুরু করে রাজ্যের শাসক দল ও কমিশনের মধ্যে ফাটল ধরতে শুরু করে। দূরত্ব এতটাই বেড়েছে যে এসআইআর মামলা এখন সুপ্রিম কোর্টে। এসআইআর রাজ্যে লাগু হওয়ার পর থেকেই বিএলওদের আত্মহত্যা, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী। একাধিকবার পথে নামেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকার এসআইআর-এর বিরোধী নয়, কিন্তু এত তাড়াহুড়ো করে এই প্রক্রিয়া করার কী প্রয়োজনীয়তা ছিল। এর পর দিল্লিতে গিয়ে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকেও বসেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন- রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই ভোটের দিন ঘোষণা, জানালেন জ্ঞানেশ কুমার
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বৈঠকের সময় অভিষেকের উপর চিৎকার করে কথা বলেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বাংলার মানুষের এইভাবে হেনস্থা তিনি মেনে নেবেন না বলে হুঙ্কার দেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, দলের হয়ে না, রাজ্যের মানুষের হয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টে এসেছেন তিনি। আইনজীবীর পোশাকে নিজেই সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী
রবিবারই বাংলায় এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এসেই তাঁকে গো ব্যাক স্লোগানের মুখোমুখি পড়তে হয়েছে তাঁকে।
আজ সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দিকে একের পর এক প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক দলের কোনও মন্তব্যের উত্তর দেবে না কমিশন।
জ্ঞানেশ কুমার জানান, কত দফায় ভোট ফিরে গিয়ে সিদ্ধান্ত হবে । রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ঠিক হবে কত দফায় ভোট। কমিশনের স্পষ্টবার্তা, নির্বাচন সংক্রান্ত ভুয়ো খবর ছড়ালে কড়া শাস্তি। নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত আধিকারিদের নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুথের মোবাইল নিয়ে ঢুকতে পারবেন না ভোটাররা।
ভোটের ফল ঘোষণার পর প্রার্থী চাইলে পুনরায় ঘোষণা। সাতদিনের মধ্যে পুনরায় যাচাই করা যাবে। ভয়মুক্ত নির্বাচন করতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ। এসআইআর প্রক্রিয়ার কেউ গাফিলতি করলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা।







