প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে রবিবার রাত পর্যন্ত ৪২ লক্ষের বিচার শেষ হয়েছে। এতেই বাদ পড়েছে প্রায় ১৮ লক্ষ জনের নাম। আরও ২০ লক্ষের মতো ভোটারের নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে সেগুলি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। রাজ্য প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ এপ্রিল। নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সূত্রে খবর, তালিকায় থাকা ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেই হিসেবে ২০/২৫ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারকে বাদ রেখেই কি শুরু হবে বৃহত্তম গণতন্ত্রের মহত্তম উৎসব? পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ঘন্টা বেজে গেছে। রাজ্যের রাজনীতি এখন টগবগ করে ফুটছে, কিন্তু এবারের নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) আবহাওয়া অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে আলাদা। কারণ এই মুহূর্ত পর্যন্ত সেই রাজনীতি ঘুরছে একটাই প্রশ্নের এধারে ওধারে, কতজন মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে? কতজন বৈধ ভোটার ভোট দিতেই পারবেন না, এই সংশোধনের ফলে আদতে কার লাভ, কার ক্ষতি এই সব প্রশ্নই এখন নির্বাচনের উঠোনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যার জবাব সম্ভবত কারোর কাছেই নেই, একেই বলে নরক গুলজার। ঠিক এই সময় রাজনৈতিক দলগুলোর ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়ার কথা, সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র মানুষ এখন হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিএলও অফিস থেকে ডিএম অফিসে। তাদের একমাত্র চিন্তা, চূড়ান্ত তালিকায় নামটা থাকবে তো? নির্বাচনের আর মাত্র কদিন বাকি, অথচ রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার এখনও ‘বিচারধীন’ বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ পর্যায়ে ঝুলে আছে । এক রাতে তো আমরা সব্বাই সেই তালিকাতেই ঝুলে গিয়েছিলাম। এই বিশাল সংখ্যক মানুষ জানেন না তারা আদৌ নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কি না। আসুন সঙ্ঘি জ্ঞানেষ বাবুর নিবিড় সংশোধনের পটভূমিতে সেই ‘নরক গুলজার’ এর ছবিটা একটু তুলে ধরা যাক। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার শেষবার নিবিড় সংশোধন হয়েছিল সেই ২০০২ সালে। তারপর থেকে প্রতি বছর ‘সামারি রিভিশন’ হলেও, দীর্ঘ ২৪ বছর পর নির্বাচন কমিশন তাঁদের এক্তিয়ারের মধ্যে না থাকলেও সিদ্ধান্ত নেয় যে রাজ্যে একবার পূর্ণাঙ্গ নিবিড় সংশোধন প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল তালিকা থেকে মৃত ভোটার, এলাকা ত্যাগ করা ভোটার আর দ্বৈত ভোটার, মানে দু জায়গাতে নাম আছে এরকম নাম বাদ দিয়ে একটা ‘বিশুদ্ধ’ ভোটার তালিকা তৈরি করা । কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়াটা যেভাবে এগোচ্ছে, তাকে বাংলার সাধারণ মানুষ এখন ‘নরক গুলজার’ ছাড়া আর কিছু বলতে পারছেন না। সংশোধনের নামে যেভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম কাটা হচ্ছে, ৬০ লক্ষ মানুষকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে, তাতে চরম ক্ষোভ তৈরি হবার কথা, হয়েছেও । প্রচুর ভ্যানতারার পরে ২০২৬ সালের ১ মার্চ যখন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়, তখন দেখা যায় যে রাজ্যের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে ৬.৪৪ কোটিতে দাঁড়িয়েছে । মানে সব মিলিয়ে প্রায় ৬৩.৬৬ লক্ষ নাম চূড়ান্তভাবেই তালিকা থেকে মুছে ফেলা হল। কিন্তু তাতে খুশি নন প্রভুরা তাই বাজারে এল নতুন শব্দ, লজিক্যাল ইন্ডিস্ক্রিপেন্সি। ফলে আরও ৬০,০৬,৬৭৫ জন ভোটারের নামকে রাখা হল ‘বিচারধীন’ বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ করে ।
এই ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের মনমর্জির ওপর। মানে আমরা তো জানিনা কিসের ভিত্তিতে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যতক্ষণ না কোনো বিচারক তাদের নথিপত্র পরীক্ষা করে গ্রিন সিগন্যাল দিচ্ছেন, ততক্ষণ তারা না পারবেন ভোট দিতে, না পারবেন নাগরিক হিসেবে নিজেদের পূর্ণ অধিকার দাবি করতে। নির্বাচনের একেবারে শেষ লগ্নে এসে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বিচারধীন রাখা পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের জন্য এক লজ্জাজনক অধ্যায় বলে ব্যাপারটাকে ছোট করবেন না, কোনও সভ্য দেশে এর নজির নেই, হ্যাঁ এটাও মোদিজীর একটা রেকর্ড। অনেকেই জানেন না, ভোটার তালিকার এই সংকটে সবচেয়ে করুণ অবস্থায় পড়েছেন কোচবিহার জেলার ছিটমহলের প্রাক্তন বাসিন্দারা। ২০১৫ সালের স্থল সীমান্ত চুক্তির পর ভারতের মূল ভূখণ্ডের অংশ হওয়া এই মানুষগুলোকে তখন ‘ভারতের নতুন নাগরিক’ বলা হয়েছিল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তারা যখন গত কয়েকটা নির্বাচনে ভোট দিয়ে বিশ্বগুরুর ভারতের ফাদার অফ ডেমোক্রাসির অংশ হয়ে উঠছিলেন, তখন এই নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এসে হানা দিল হায়নার মত। দিনহাটার সেটলমেন্ট ক্যাম্পগুলোতে এখন কেবল হাহাকার আর ক্রোধ, মানে আমি সাধু ভাষাতে বলছি, মোদিজীর ভক্তরা গেলে যে ভাষা শুনবেন তা আমি আপনাদের এখানে শোনাতে পারছি না। সেখানকার বাসিন্দা মনমোহন বর্মন এবং মহম্মদ মোজাম্মেল খন্দকারের মতো মানুষগুলো এখন নিজেদের দেশে পরবাসী হয়ে ওঠার ভয়ে কাঁপছেন । তারা দুজনেই ২০১৫ সালে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা দাসিয়ারছড়া ছিটমহল থেকে ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: Fourth Pillar | আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, পাকিস্তান মধ্যস্থতা করছে, মোদিজি আঙুল চুষছে
গত কয়েকটা নির্বাচনে তারা ভোট দিয়েছেন, কিন্তু এবারের তালিকায় তাদের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ হিসেবে রাখা হয়েছে । দিনহাটার ক্যাম্পে থাকা ৫৮টা পরিবার যারা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ভারতে এসেছিল, তারা দাবি করছেন যে তাদের কেন এই সংশোধনের আওতায় আনা হলো? হামিদা বেগম, নমিতা বর্মনের মতো বয়স্ক মহিলারা ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন যে, সরকার তাদের ঘটা করে নিয়ে এসে এখন কেন তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে । ওসমান গনি নামের এক বাসিন্দা অভিযোগ তুলেছেন যে, এই প্রক্রিয়ার পেছনে একটা বিশেষ সাম্প্রদায়িক নকশা কাজ করছে, কারণ দেখা যাচ্ছে যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটারদের নামই বেশি করে আটকে রাখা হয়েছে । মধ্য মশালডাঙ্গা ছিটমহল থেকে আসা মানুষেরা জানিয়েছেন যে, এবারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থীও তাদের কাছে ভোট চাইতে আসছেন না, কারণ সবারই ধারণা যে তারা ভোট দিতে পারবেন না। এই ‘নতুন নাগরিকেরা’ এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন, যেখানে তাদের নাগরিক পরিচয় আবার সন্দেহের আওতায় চলে এসেছে । আবার তাঁরা কি ছিন্নমূল হবেন, এই আশঙ্কায় তাঁদের রাতের ঘুম চলে গেছে, মোদিজী বলছেন সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য এক ধরণের যান্ত্রিক মাপকাঠি ব্যবহার করেছে যাকে বলা হচ্ছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ যৌক্তিক অসঙ্গতি । কোনও মানুষের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ না করে একটা ভুলেভরা অ্যালগরিদম দিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে । কমিশনের হলফনামা অনুযায়ী, তারা এমন সব ভোটারদের চিহ্নিত করেছে যাদের তথ্যে কিছু ‘অস্বাভাবিক’ ব্যাপার দেখা গেছে। যেমন, কারো নামের সঙ্গে ৫ বা ৬ জনের বেশি সন্তানের নাম যুক্ত থাকা, কিংবা পিতা-মাতার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ৫০ বছরের বেশি হওয়া ইত্যাদি। এই যান্ত্রিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে ভাষান্তরের ক্ষেত্রে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা মূলত বাংলা হরফে লেখা, কিন্তু ডিজিটাল সার্ভারে তথ্য মিলিয়ে দেখার সময় সফটওয়্যারটা সেই নামগুলোকে ইংরেজিতে বদলে নেয় । এই অটোম্যাটিক চেঞ্জ এর ফলে নামের বানানে আকাশ-পাতাল তফাত হয়ে গেছে। যেমন, ওরাওঁ উপজাতির জনপ্রিয় পদবি ‘শালখো’ (Xalxo) সফটওয়্যারে হয়ে গেছে ‘খালখো’ (Khalkho) । আবার ‘মহম্মদ’ কোথাও হয়েছে ‘Md’, কোথাও ‘Sk’ । সামান্য এই বানানের পার্থক্যের কারণে লক্ষ লক্ষ
ভোটারকে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের শুনানি বা হিয়ারিং-এ ডাকা হয়েছে। নদীয়া বা মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে কৃষিজীবী বা দিনমজুর মানুষগুলো তাদের কাজ ফেলে দিনের পর দিন বিএলও অফিসের দরজায় পড়ে আছেন শুধুমাত্র একটা বানানের ভুল ঠিক করার জন্য । অভিযোগ উঠেছে যে, কমিশন আদালতে দাবি করেছিল যে প্রতিটা নোটিশ আধিকারিকেরা নিজে দেখে সই করছেন, কিন্তু বাস্তবে লক্ষ লক্ষ নোটিশ ডিজিটাল অ্যালগরিদমের মাধ্যমে পাইকারি হারে পাঠানো হয়েছে । সেগুলোর জন্য কোনও কর্মচারী দায়ীই নয়। যখন দেখা গেল যে ভোটার তালিকার এই তালগোল পাকানো পরিস্থিতি সামলানো সাধারণ নির্বাচনী আধিকারিকদের সাধ্যের বাইরে, তখন সুপ্রিম কোর্ট ভরসা, তো আদালত নির্দেশ দেয় যে, ভোটারদের দাবি আর আপত্তিগুলো খতিয়ে দেখার জন্য ৫০০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগ করা হবে । এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বিচারক সংখ্যা কম হওয়ায় ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে আরও ২০০ জন বিচারককে উড়িয়ে আনা হয় । এই ৭০০ জন বিচারক রাতদিন এক করে, এমনকি রবিবার বা ছুটির দিনেও কাজ করে এই ৬০ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন । কিন্তু এত কিছুর পরেও সাধারণ মানুষের অনিশ্চয়তা কাটেনি। মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২৯ থেকে ৩২ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে । আরও ভয়ংকর তথ্য হলো এই যে, যে সমস্ত মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বা প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে । মানে এই বিচার প্রক্রিয়াটা আদতে একটা ‘ডিলিশন’ বা নাম কাটার যন্ত্র হয়ে গেছে। মুর্শিদাবাদে সর্বোচ্চ ১১ লক্ষ ভোটারের নাম বিচারধীন ছিল, তারপরেই রয়েছে মালদা (৮.২৮ লক্ষ) য়ার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা । ভোটাররা অভিযোগ করছেন যে তারা নথিপত্র দেখালেও ছোটখাটো অজুহাতে তাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে । বিয়ের পর মহিলাদের পদবি পরিবর্তন হওয়া এক স্বাভাবিক রীতি, কিন্তু এই ডিজিটাল সিস্টেম সেই যোগসূত্র খুঁজে না পেয়ে মহিলাদের নাম ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’র তালিকায় ফেলে দিচ্ছে । মাঠ পর্যায়ের তথ্যও এই অভিযোগকেই প্রমাণ করছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের ৪৯ ও ৫০ নম্বর বুথ থেকে পাওয়া তথ্য উদ্বেগজনক। ৪৯ নম্বর বুথে বিচারধীন থাকা ১০৩ জনের মধ্যে ৬ জনের নাম বাদ গেছে, যাদের প্রত্যেকেই মহিলা এবং ৫ জন সংখ্যালঘু । ৫০ নম্বর বুথেও একই চিত্র— ৫ জনের নাম বাদ গেছে যারা সবাই সংখ্যালঘু মহিলা । সোনমণি খাতুন নামের এক ৩২ বছর বয়সী মহিলা জানিয়েছেন যে তার সাত ভাইবোনের মধ্যে সবার নাম তালিকায় থাকলেও তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, অথচ তিনি তার বাবার ২০০২ সালের ভোটার কার্ডের প্রমাণ জমা দিয়েছিলেন । একইভাবে পুর্ণিমা ঘোষ নামের এক মহিলা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানিয়েছেন যে তার পরিবারের সবার নাম বহাল থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে ভোটার তালিকা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে । এই ধরণের বিচ্ছিন্ন অথচ ধারাবাহিক ঘটনাগুলো রাজ্যের সংখ্যালঘু ও মহিলা ভোটারদের মধ্যে এক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া এই সংকট দূর করতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ একাধিক কড়া নির্দেশ দিয়েছে। আদালত সাফ জানিয়ে দেয় যে, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের রায়ের বিরুদ্ধে কোনো সরকারি আমলার কাছে আপিল করা চলবে না । এর জন্য ক্যালকাটা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারকদের নিয়ে মোট ১৯টা ‘অ্যাপেলিয়েট ট্রাইব্যুনাল’ বা আপিল আদালত গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো কাজ অও শুরু করেছে। মানে যাদের নাম বিচার চলাকালীন বাদ গেছে, তারা যেন শেষবারের মতো নিজেদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার প্রমাণের সুযোগ পান। কিন্তু সমস্যা হলো, এই ট্রাইব্যুনালগুলো যখন কাজ শুরু করার কথা বলছে, তখন নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এসেছে, এখন প্রশ্ন ভোট হবে নাকি হবে না? হলে কোন ভোটার তালিকার ভিত্তিতে হবে? বিচারাধীন এতজনকে বাদ রেখেই হবে? অথচ তারা তো নাগরিক। এখন পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের সামনে সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ‘সময়’। রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপলস অ্যাক্ট ১৯৫০-এর বিধান অনুযায়ী, কোনো কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখের সাত দিন আগে সেই কেন্দ্রের ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা স্থির করে দিতে হয় । পশ্চিমবঙ্গের প্রথম পর্যায়ের ভোটের জন্য মনোনয়ন জমার শেষ দিন ৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ৯ এপ্রিল । এর অর্থ হলো, ৬ বা ৯ এপ্রিলের পর ভোটার তালিকায় আর কোনো নাম ঢোকানো আইনিভাবে অসম্ভব। তাহলে? সংবিধান বলছে বৈধ নাগরিকদের বাদ দিয়ে নির্বাচন অসাংবিধানিক, বাস্তব অবস্থা হল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই সমস্যা মিটবে না? তাহলে? হ্যাঁ লাখ টাকার এক প্রশ্ন, ভোট হবে? আর যথারীতি আমাদের মাদার অফ ডেমোক্রাসির ফাদারের মুখে আপাতত কুলুপ। আমরা জানিই না আমাদের সহনাগরিক ২৫ লক্ষ মানুষ আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না।







