নয়াদিল্লি: বক্তব্য পেশে লাগাতার বাধা দেওয়া হচ্ছিল রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi)। অবশেষে বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে তুলোধোনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ও তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে।রাহুলের মুখে এ-ও শোনা যায়, ‘ভারতমাতাকে বিক্রি করতে লজ্জা করল না প্রধানমন্ত্রীর?’ তাঁর এই মন্তব্যেও হট্টোগোল বেঁধে যায় সংসদের নিম্নকক্ষে। এপস্টিন ফাইল থেকে শুরু করে আদানি-আম্বানি ইস্যু, লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে বাধা দিলেন কার্যনির্বাহী স্পিকার জগদম্বিকা পাল। এমনকী, এই শব্দগুলি লোকসভা অধিবেশনের রেকর্ড থেকেও বাদ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিন ভারতের তেল কেনার প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, এখন আমেরিকা কি সিদ্ধান্ত নেবে যে আমরা কোথা থেকে তেল কিনব? পরাশক্তির যুগ শেষ হয়ে গেছে। আমেরিকা যদি বলে যে এখান থেকে তেল কিনতে পারবে না, তার অর্থ হল জ্বালানি খাতকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমেরিকা যদি শুল্ক বাড়ায়, তার অর্থ হল অর্থ খাতকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতীয় পণ্যের উপর গড় শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে, আমেরিকান আমদানির উপর শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। ভারতীয় কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সরকারের লজ্জিত হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: ১২ ফেব্রুয়ারি ভারত বনধ, রাস্তায় নামছে ৩০ কোটি শ্রমিক! দাবি কী কী?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী এদিন বলেন, ‘ননসেন্সের মতো কথা বলতে লজ্জা করে না প্রধানমন্ত্রীর? ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিচ্ছেন, লজ্জা করে না প্রধানমন্ত্রীর? আমেরিকার লঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে ফেলেছেন তিনি। দেশের ১৪০ কোটি নাগরিকের ভবিষ্যৎ সমর্পণ করে ফেলেছেন। আমার মনে হয় না ভারতে এর পূর্বে আর কোনও প্রধানমন্ত্রী এমনটা করেছেন, কিংবা ভবিষ্য়তে নরেন্দ্র মোদির পর কোনও প্রধানমন্ত্রী এমনটা করবেন।’রাহুল গান্ধীর আরও বক্তব্য, ‘জুজুৎসু বা জুডোর প্যাঁচের মতো গলা চোক করা না হলে এমন ভাবে কেউ আত্মসমর্পণ করে না।’ এরপরই কংগ্রেস সাংসদ এপস্টিন ফাইলে আম্বানির নাম এবং তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর নাম নেন। বারবার তাঁকে বাধা দেওয়ার পরও রাহুলের মুখে ‘এপস্টিন’, ‘আম্বানি-আদানি’ এবং ‘হরদীপ সিং পুরী’ নাম নিতে থাকেন।







