ওয়েব ডেস্ক: অসমে (Assam) তৈরি হতে চলেছে দেশের প্রথম সড়ক–রেল যৌথ সুড়ঙ্গ ব্রহ্মপুত্র (Bramhaputra) নদের তলায়। ১৮,৬৬২ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পে গোহপুর থেকে নুমালীগড় পর্যন্ত নির্মিত হবে চার লেনের অ্যাকসেস-কন্ট্রোলড গ্রিনফিল্ড করিডর। কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (CCEA) ইতিমধ্যেই প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। কাজ হবে ইঞ্জিনিয়ারিং–প্রকিউরমেন্ট–কনস্ট্রাকশন (EPC) মডেলে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এটি শুধু ভারতের প্রথম আন্ডারওয়াটার রোড-অ্যান্ড-রেল টানেলই নয়, বিশ্বে দ্বিতীয় এমন প্রকল্প।
২৪০ কিমি ঘুরপথের ইতি
বর্তমানে নুমালীগড় (NH-715) থেকে গোহপুর (NH-15) পৌঁছতে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার ঘুরপথে যেতে হয়—কালিয়াভোমোরা হয়ে সিলঘাট পেরিয়ে। সময় লাগে প্রায় ছ’ঘণ্টা। নতুন করিডর চালু হলে দূরত্ব ও সময়—দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ও বিশ্বনাথ শহর সংলগ্ন রুটে যাতায়াত সহজ হবে, পণ্য পরিবহণেও আসবে গতি।
আরও পড়ুন: সুখেন মাহাতোর পর ফের বাংলার পরিযায়ীর মৃত্যু চেন্নাইতে
সরকারের দাবি, এই করিডর ১১টি অর্থনৈতিক কেন্দ্র, ৩টি সামাজিক কেন্দ্র, ২টি পর্যটন কেন্দ্র এবং ৮টি লজিস্টিক হাবকে যুক্ত করবে। পাশাপাশি চারটি বড় রেলস্টেশন, দুটি বিমানবন্দর ও দুটি অভ্যন্তরীণ জলপথের সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার হবে।
প্রকল্পটির প্রভাব অসমের গণ্ডি ছাড়িয়ে অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড-সহ গোটা উত্তর-পূর্বে পড়বে। লজিস্টিক খরচ কমবে, শিল্প ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কৌশলগত দিক থেকেও এই সুড়ঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তবর্তী এলাকায় দ্রুত যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উত্তর-পূর্ব সফর এবং ডিব্রুগড়–মোরান স্ট্রেচে ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফিল্ডের উদ্বোধন—সব মিলিয়ে অঞ্চলের অবকাঠামো জোরদারের বার্তা স্পষ্ট। ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার জেট ও পরিবহণ বিমানের জরুরি অবতরণের সুবিধাও সেখানে তৈরি হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্রের তলায় এই যুগান্তকারী সুড়ঙ্গ চালু হলে মালবাহী পরিবহণে সময় কমবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং সরাসরি সংযোগে বদলে যাবে উত্তর-পূর্বের অর্থনৈতিক মানচিত্র। এখন নজর, ১৮,৬৬২ কোটির এই প্রকল্প বাস্তবায়নের গতির দিকে।







