কলকাতা: কমিশনের সাসপেন্ড করা সাত আধিকারিকের কেউ চাকরিচ্যুত হবেন না। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যের সাত আধিকারিকারিককে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই সাত আধিকারিকদের নিয়ে মমতা স্পষ্ট জানান, তাঁরা চাকরিচ্যুত হচ্ছেন না। নির্বাচনের কাজে থাকবেন না। তবে জেলায় ভাল কাজ করবেন। একই সঙ্গে মমতার অভিযোগ, ওই সাত আধিকারিক আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। টোটাল কলফিউশান, টোটাল তাই বেআইনি। আমি অনেক কমিশন দেখেছি, আমি এইরকম তুঘলকি কমিশন দেখেনি। তারা গণতান্ত্রিক অধিকার নস্ট করতে চাইছে, তারা রাজ্যের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে, সীমাহীন আচরণ। ভয়ঙ্কর অবস্থা। আমরা আইন অবশ্য মানব, যেটুকু মানার প্রয়োজন সেই টুকু মানব। আইন এর পরিধি আছে তার বাইরে গেলে ছক্কা খেতে হবে জনগন এর। আজ পর্যন্ত কেউ জানে কত জন নাম উঠেছে বা কতজন এর নাম বাদ গিয়েছে। একটা নাম তুললে ড্যাসবোর্ডে এ দেখাচ্ছে। এখন আবার সংখ্যালঘু খুঁজে বেড়াচ্ছে, মেয়েদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, রাজবংসীদের খুঁজে বেড়াচ্ছে। ২৪ বছর সময় পেলেন কেন করলেন না এসআইআর। গত তিনমাস-চারমাস ধরে দিল্লি-এর জমিদারদের কথায় এই তুঘলকি কমিশন ডোন্টকেয়ার মনোভাব নিয়ে যে অত্যাচার অফিসারদের উপর করছেন। মৃত্যু এর আগে যে বিএলওরা সুসাইড নোট লিখে গেল। তাহলে তার দরুন কি পদক্ষেপ করা উচিত। ২৬ এর পড়ে তো এই সরকারই থাকবে না। অনেক কিছু হয়ে গিয়েছে খোঁজ রাখুন। তাও তৃণমূল তো পার্লামেন্ট চালাতে দিয়েছে। আমায় আঘাত করলে প্রতিঘাত করব। গণতন্ত্র এর উপর আঘাত নিয়ে আমি গোটা বিশ্ব প্রচার করব। আমি কিন্তু দেশের বিরুদ্ধে নয়।
আরও পড়ুন:গর্জে উঠলেন মমতা, ফের কমিশনকে নিশানা, এবার কী বললেন?
আধিকারিকদের সাসপেন্ড নিয়ে মমতা বলেন, যদি কেউ অন্যায় করে থাকে শাস্তি পেতে হবে। কমিশনের উদ্দেশে মমতার প্রশ্ন, ইআরও-দের সাসপেন্ড করার কারণ কী? যে ইআরও-দের সাসপেন্ড করলেন, তাঁদের কাছে জানতে চেয়েছেন, তাদের কাছে জানতে চাওয়া হল না কি অন্যায় করেছে? এদের ও তদন্ত হবে। তারা কেউ চাকরি চ্যুত হচ্ছে না। তাদের ডেমোশন দিলে সরকার প্রমোশন দেবে। তারা অন্য কাজ করবে – সাত জন AERO সাসপেন্ড নিয়ে বিজেপিকে সন্তুষ্ট করার জন্য বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ কোথায় বিচার পাবে? আইন এর আইন এর পথে চলবে। এটা কোনো সমস্যা নয়। আমার বিরুদ্ধে কত FIR আছে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘‘আমরা অ্যাকশন নিতে বাধ্য হয়েছি, কারণ কমিশন আমাদের বলেছে বলে।তৃণমূলের কেউ কোনও ভুল কাজ করলে, তাঁদের বিরুদ্ধে কী ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেই তুলনা টেনে আধিকারিকদের সাসপেন্ড করাকে ‘প্রক্রিয়াগত ভুল’ বলে মনে করেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘মারাত্মক অন্যায় না-করলে আমরা আগে শো-কজ় করি। তার পরে বিষয়টি যায় শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে। সেই কমিটির সুপারিশ মেনে সাসপেন্ড করা হয়।’’মমতা জানান, ওই সাত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। তার পরে নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত। তবে আপাতত নির্বাচনের কাজের বাইরে তাঁরা কাজ চালিয়ে যাবেন।







