ওয়েব ডেস্ক : স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি তুলেছিলেন গ্রামেরই যুবক আব্দুল হাফিজ। সেই দাবিকে ঘিরে হামলার অভিযোগ, আর তার জেরে বাবার মৃত্যু। বাঁকুড়ার ইন্দাসে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন তুললেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui)। পাশাপাশি দেশজুড়ে ‘স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলন আরও জোরদার করার ডাক দিলেন হাফিজ।
রাজ্যে পিএমশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নওশাদের প্রশ্ন, সরকার যখন স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করতে চাইছে, তখন গ্রামের স্কুল ঠিক করার দাবি তোলার জন্য হাফিজকে কেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হল? আর সেই ঘটনার জেরে তাঁর বাবাকেই বা প্রাণ হারাতে হল কেন? গত ১৩ আগস্ট ইন্দাস থানার করিশুণ্ডা গ্রামের পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি নিয়ে সরব হন গ্রামের যুবক আব্দুল হাফিজ। সম্প্রতি দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও তিনি যোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
আরও খবর : আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ, তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি ঘেরাও
অভিযোগ, ওই রাতেই হাফিজদের বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায়। হাফিজের পাশাপাশি তাঁর বাবা মহম্মদ মাফিককেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মাফিক। পরে ১৫ আগস্ট বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এবার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ইন্দাসে পৌঁছন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি হাফিজের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি।
নওশাদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই যুক্ত থাকুক, প্রত্যেককে গ্রেফতার করতে হবে। তাঁর আরও বক্তব্য, কোনও পুলিশ আধিকারিক রাজনৈতিক দলের কথায় তদন্তকে অন্য পথে পরিচালিত করলে ভবিষ্যতে সেই তদন্তের ফাইল ফের খোলা হবে এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বাবাকে হারানোর পরও আব্দুল হাফিজ ‘স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলন আরও জোরদার করার ডাক দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, গ্রামের স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করার দাবি কোনও অপরাধ নয়। বরং দেশের প্রতিটি স্কুলের পরিকাঠামো ঠিক করার দাবিতে যুবসমাজকে আরও বেশি করে পথে নামতে হবে।







